হোম /খবর /ক্রাইম /
দা-বটি দিয়ে কুপিয়ে ছেলেকে খুনের অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে !

দা-বটি দিয়ে কুপিয়ে ছেলেকে খুনের অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ! বাড়ি ভাঙচুর করল এলাকাবাসী

Representational Image

Representational Image

সম্পত্তি জনিত কারণের জন্যই পূর্ণেন্দুকে তার বাবা ও মা খুন করেছে বলে অভিযোগ।

  • Last Updated :
  • Share this:

#কলকাতা: মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে ঘরের ভেতরেই দা ও বটি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ বাবা-মায়ের। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরেই কয়েক ঘণ্টা পড়ে রইল ছেলে। প্রতিবেশীদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও হাসপাতালে নিয়ে গেল না পরিবার। এমনকী, কেউ যাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য দরজাও বন্ধ করে রাখা ছিল।

হাত-পা-মাথায় দা ও বটির কোপ খেয়ে ঘরেই দীর্ঘক্ষণ পড়েছিল গড়ফার মন্ডল পাড়ার বাসিন্দা পূর্ণেন্দু মন্ডল। শরীর থেকে রক্তবন্যা বয়ে যাওয়ার পর শরীর যখন নিস্তেজ হয়ে যায় তখন পাড়ার লোকের চাপে পূর্ণেন্দু মন্ডলকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবার। হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পরই মৃত্যু হয় মানসিক রোগে আক্রান্ত পূর্ণেন্দুর। হাসপাতাল জানায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরেই মৃত্যু হয়েছে তার। সম্পত্তি জনিত কারণের জন্যই পূর্ণেন্দুকে তার বাবা ও মা খুন করেছে বলে অভিযোগ। তাদের আটক করা হয়েছে। ঘটনায় যোগসাজশ রয়েছে তার ভাই শুভেন্দুরও, এমনটাই অভিযোগ বাসিন্দাদের।

বুধবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে গড়ফার মণ্ডলপাড়ায়। ওই রাতেই মৃত্যু হয় পূর্ণেন্দুর। গড়ফার মন্ডল পাড়ার বাসিন্দা পূর্ণেন্দু মণ্ডলের মর্মান্তিক এই পরিণতি জন্য তার মা-বাবাকে দায়ী করেছে এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ বাবা শম্ভুনাথ ও মা নমিতা মন্ডল ছেলেকে কুপিয়ে খুন করেছে। কোপানোর পরে ছেলের রক্ত গায়ে মেখেই ঘরে খাওয়া দাওয়া করেছে তারা। ঘটনার পর রক্তাক্ত পূর্ণেন্দুকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু দরজা তালাবন্ধ করে রাখায় ব্যর্থ হন এলাকার বাসিন্দারা।

বুধবার রাতে হাসপাতালে পূর্ণেন্দুর মৃত্যু হয়, বৃহস্পতিবার সকালে খবর আসে এলাকায়। তারপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশ এলে তাদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ভাঙচুর করে শম্ভুনাথের বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়িতে মারধর করা হত বলে পূর্ণেন্দুকে ছেড়ে চলে যায় তার স্ত্রী। তারপর থেকেই মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। চিকিৎসাও চলছিল। এদিকে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের হয় তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। খোরপোষ হিসেবে পূর্ণেন্দুর পৈতৃক ভিটের সম্পত্তির অর্ধেক দাবি করা হয়। সেই ভাগ দিতে নারাজ তার পরিবার। সেজন্যই পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে তার পরিবারের লোকেরা নির্যাতন করত বলে অভিযোগ। কিন্তু এতদিন মুখ বুঝে সহ্য করেছিলেন বাসিন্দারা। শেষমেষ ছেলেকে বাবা-মা এরকম নৃশংসভাবে খুন করতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে বাসিন্দাদের। ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভাঙচুর চালান ওই বাড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দা বাপি মন্ডল বলেন, "আমরা চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক বাবা-মায়ের।" কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মুরলীধর শর্মা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

Sujoy Pal

Published by:Siddhartha Sarkar
First published:

Tags: Crime News, Murder Case