জন্মদিনেই এক বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে খুন ! ফাঁসির আদেশ আদালতের

জন্মদিনেই এক বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে খুন ! ফাঁসির আদেশ আদালতের
Representational Image

সম্পত্তিজনিত কারণেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছিল।

  • Share this:

#কলকাতা: ইন্দ্রজিতের এক বছরের জন্মদিন ছিল বলে পায়েস রান্না করেছিল মা। দিনটা ছিল ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর। কিন্তু শুভদিনেই তার নিজের কাকা শ্বাসরোধ করে খুন করে ইন্দ্রজিতকে। তার মা বুলু সাহাকেও খুন করা হয়। সম্পত্তিজনিত কারণের জন্যই এই খুনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার দীর্ঘ ১২ বছর পর শুক্রবার অভিযুক্ত সত্য সাহাকে ফাঁসির আদেশ দিল শিয়ালদহ আদালত। সত্যর স্ত্রী নন্দিতা সাহাকে যাবজ্জীবনের আদেশ দেওয়া হয়।

এদিন শিয়ালদহ আদালতের বিচারক চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে সত্য সাহাকে ফাঁসির আদেশ শোনানো হয় ও নন্দিতা সাহাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ শোনানো হয়। আদালতের এই আদেশে খুশি ইন্দ্রজিতের বাবা বিদ্যুৎ সাহা। তিনি বলেন, "এতদিন ধরে এটাই চেয়েছিলাম। কলকাতা পুলিশকে অনেক ধন্যবাদ। বিচার ব্যবস্থায় আমি সন্তুষ্ট। তবে উচ্চ আদালতেও যাতে এই আদেশ বহাল থাকে সেটা দেখতে হবে।" প্রসঙ্গত, এই মামলার প্রথমে তদন্তকারী অফিসার ছিলেন লালবাজার হোমিসাইড শাখার অফিসার রাজীব আচার্য ও পরে তদন্ত করেন মলয় দত্ত।হোমিসাইড শাখার তৎকালিন ওসি অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া।

বিদ্যুতবাবু শিয়ালদহ কোলে মার্কেটে এক পেয়াজ ব্যবসায়ীর কাছে কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে খুনের অনেক আগে থেকেই ভাইয়ের সাথে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ ছিল। ভাই সত্য সাহা চাইছিল সুরেন সরকার রোডের বাড়িটিকে প্রমোটারের হাতে দিয়ে বহুতল করতে। সম্পত্তি নিজের নামে করতে। কিন্তু সেই কাজে আপত্তি জানান বিদ্যুৎ। তবে সবথেকে বেশি প্রতিবাদ করতেন নন্দিনী। সেজন্য তাঁর প্রতি রাগও বেশি ছিল অভিযুক্তদের।

ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ যখন কোলে মার্কেটে ছিলেন, তখন বাড়িতে সেই জমি নিয়ে গোলমাল বাধে অভিযুক্ত সত্য ও নন্দিনীর। সেই সময় আচমকাই বাড়িতে থাকা লাফদড়ির কাঠের হাতল দিয়ে বুলুর মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে লাফদড়ি গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। তারপর দেহ অন্য ঘরে নিয়ে গিয়ে বস্তায় ভরা হয়। শিশুটিকেও মুখ টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করে সত্য।

খুনের পর ভাইপোর দেহ ব্যাগে ভরে নিজের সাইকেল চড়ে ক্যানাল ইস্ট রোডের ধারে খালে ফেলে দেয় সত্য। তারপর নিজের গাড়ির ডিকিতে বৌদির দেহ ভরে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে নির্জন জায়গায় ফেলে দেয়।

এরপর কোলে মার্কেট থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও সন্তানকে খোঁজ করেন বিদ্যুৎ। সত্য তাঁকে জানায়, বুলু নাকি পালিয়ে গিয়েছে। খোঁজ মিলছে না। দিনভর খোঁজা খুজির পর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি হয়।

খুনের দিনেই উল্টোডাঙ্গা এলাকায় খাল ধার থেকে শিশুটির দেহ মেলে। পরদিন মেলে বিদ্যুতের স্ত্রীর দেহ। ওই ঘটনায় প্রথমে নন্দিতাকে গ্রেফতার করা হয়। দু'মাস পালিয়ে থাকার পর মধ্যপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হয় সত্যকে।

শিশুটির বাবা বিদ্যুৎ এদিন বলেন, "পুলিশ আমায় বলেছিল, আমার স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে না পারলেও যারা তাদের এভাবে খুন করেছে তাদের সর্বোচ্চ সাজার ব্যবস্থা করবে। কথা রেখেছে পুলিশ। তবে আইনি লড়াই এখনও জারি থাকবে। যেদিন আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে সেদিন আমি হাসবো। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।"

Sujoy Pal

First published: February 7, 2020, 9:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर