টেডি বিয়ারের পেট কেটে উদ্ধার চোরাই মঙ্গলসূত্র ও পায়েল ! গ্রেফতার 'স্মার্ট চোর'

টেডি বিয়ারের পেট কেটে উদ্ধার চোরাই মঙ্গলসূত্র ও পায়েল ! গ্রেফতার 'স্মার্ট চোর'

তদন্তকারীরা চোরের ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালাতে গেলে দেখতে পান এক জায়গায় বেশ কয়েকটি খেলনা পুতুল পড়ে রয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারেদের কথায়, পেশাদার চোরেরা শুধু চুরিই করে না। তাদের লক্ষ্য থাকে চোরাই সামগ্রীকে পুলিশের কাছ থেকে নিরাপদে রাখা। যাতে পরবর্তীতে চোরাই সামগ্রী বিক্রি করে আসল উদ্দেশ্য সফল করতে পারে।

সেরকমই তারাতলা থানার পুলিশ একটি চুরির ঘটনা তদন্তে নেমে চোরাই সামগ্রী লুকিয়ে রাখার অভিনব পন্থা দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন। চোরাই সামগ্রী যত্ন করে রাখার ক্ষেত্রে চোরের বুদ্ধি তাক লাগিয়ে দিয়েছে পুলিশ অফিসারদের।

এর আগে বহু ক্ষেত্রে মাটি খুঁড়ে চোরাই সামগ্রী উদ্ধার করার ঘটনা ঘটেছে। চুরির পর সোনার গয়না, টাকা নিরাপদে রাখতে মাটিতে পুঁতে রাখার বহু নজির রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে চোরের চার বছরের মেয়ের খেলনা পুতুলের পেট চিরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল চোরাই মঙ্গলসূত্র ও পায়েল। যা উদ্ধার করতে গিয়ে ঘাম ছুটেছিল তারাতলা থানার পুলিশের।

ঘটনা হল, গত রবিবার মধ্যরাতে তারাতলা থানার অন্তর্গত কে পি টি কলোনির একটি বাড়ি থেকে ট্রাঙ্ক চুরি যায়। ট্রাঙ্কের ভেতর নগদ টাকা ছাড়াও সোনার গয়না ও প্রচুর জামা কাপড় ছিল। পরদিনই ওই ট্রাঙ্কের মালিক দেভিমুন শাহ তারাতলা থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এক সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়।

সোমবার ভোর রাতে নিউ আলিপুরের গোড়াগাছায় সেই সন্দেহভাজন চোর মনা তুড়িয়ার বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখানে গিয়ে তল্লাশি চালালেও প্রথমে কিছুই পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে তদন্তকারীরা চোরের ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালাতে গেলে দেখতে পান এক জায়গায় বেশ কয়েকটি খেলনা পুতুল পড়ে রয়েছে। পুতুলের কাছে যেতেই ওই চোরের চার বছরের মেয়ে একটি খেলনা পুতুল নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তখনই সন্দেহ দানা বাঁধে পুলিশের। এতগুলি খেলনা থাকতেও কেন নির্দিষ্ট একটি খেলনা নিয়ে পালালো সেই মেয়েটি? তারপর তার কাছ থেকে পুতুলটি নিতে গেলে বাধা দিতে যায় চোরের স্ত্রী। তাতেই সন্দেহ দৃঢ় হয় পুলিশের। টেডি বিয়ারটি হাতে নিতেই গোটা বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় পুলিশের কাছে। তারাতলা থানার এক অফিসার বলেন, "পুতুলটি হাতে নিতেই দেখি পেটের অংশটি শক্ত। তারপর সেই পুতুলের পেট থেকেই চুরি হওয়া মঙ্গলসূত্র ও পায়েলটি মেলে।" ঘরের অন্য একটি কোনা থেকে চুরি যাওয়া নগদ টাকাও উদ্ধার করা হয়। ওই অফিসার আরও বলেন, "চোরের এই বুদ্ধিতে আমরা রীতিমত চমকে গিয়েছি। চুরির পর বাড়িতে পুলিশ আসবেই তা জানত সে। সেজন্যই নিজের মেয়ের কাছে থাকা পুতুলের মধ্যে চোরাই সামগ্রী লুকিয়ে রাখা নিরাপদ বলে মনে হয়েছিল তার। বাচ্চাটি নির্দিষ্ট পুতুল নিয়ে ঘর থেকে না বেরলে এই ঘটনার কিনারা করা কঠিন হতো। এরকম স্মার্ট চোর খুব কমই দেখেছি।"

চোরাই সামগ্রী উদ্ধারের পর গ্রেফতার করা হয়েছে মনা তুরিয়া নামের চোরকে। এর আগেও একাধিক চুরির ঘটনায় তার নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতকে জেরা করে সেই ঘটনা গুলির কিনারা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Sujay Pal

First published: March 9, 2020, 10:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर