মেডিক্যাল পরীক্ষায় নিজের বদলে অন্যকে বসিয়ে দিল্লিতে গ্রেফতার ১

মেডিকেল পরীক্ষায় নিজের বদলে অন্যকে বসিয়েছিলেন, দিল্লিতে গ্রেফতার ব্যক্তি!

তাজিকিস্তান থেকে MBBS পাশ করেছিলেন তিনি। তাই এ দেশে কাজ শুরু করা নিয়ে একটি পরীক্ষা দিতে হত তাঁকে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: তাজিকিস্তান থেকে MBBS পাশ করেছিলেন। এ দেশে ডাক্তারি করার প্রবল ইচ্ছে ছিল ব্যক্তির। আর সেই সূত্রেই FMGE পরীক্ষা দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু বেশ কয়েকবার অসফল হন। এবার এক নতুন ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন তিনি। শেষমেশ তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। কিন্তু কী এমন হয়েছিল? নেপথ্যের গল্পটা জেনে নেওয়া যাক!

৩৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত মনোহর সিং জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ি রাজস্থানের পালি জেলায়। তবে তাজিকিস্তান থেকে MBBS পাশ করেছিলেন তিনি। তাই এ দেশে কাজ শুরু করা নিয়ে একটি পরীক্ষা দিতে হত তাঁকে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্জামিনেশন (National Board of Examinations) নামে একটি স্বশাসিত সংস্থার তরফে ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট এক্জামিনেশনের (Foreign Medical Graduates Examination) ব্যবস্থা করা হয়। এই পরীক্ষাটি একটি লাইসেন্সের মতো। ভারতীয় বা ভারতে বসবাসকারী যে সমস্ত ছাত্র অন্য দেশ থেকে ডাক্তারির ডিগ্রি নিয়েছেন, তাঁদের এই পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষায় পাশ করলে, তবেই দেশে ডাক্তারির প্র্যাকটিস শুরু করা যায়। নিয়ম মতো পরীক্ষায় বসেন মনোহর। কিন্তু বার বার অসফল হন। এবার সাফল্য লাভের লোভে তিনি একটি চক্রান্ত করেন। টাকা দিয়ে তাঁর বদলে অন্য কাউকে পরীক্ষা দিতে পাঠান।

সেই অনুযায়ী ৪ ডিসেম্বর দিল্লির মথুরা রোডের একটি টেস্ট সেন্টারে তাঁর FMGE স্ক্রিনিং টেস্ট হয়। এখান থেকেই সন্দেহের সূত্রপাত। অ্যাপ্লিকেশন ফর্মের ছবি ও পরীক্ষার দিন নেওয়া ছবির মধ্যে একটি পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। সেই সূত্রে ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ফেস ভেরিফিকেশনের জন্য ডাকা হয়। কিন্তু হাজির হননি তিনি। এবার তদন্তে নামে পুলিশ।

ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (দক্ষিণ-পূর্ব) আর পি মিনা (R P Meena) জানিয়েছেন, ঘটনাটির অভিযোগ আসার পর থেকেই জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়। গত বুধবার মনোহর সিংয়ের ফেস ID ভেরিফিকেশন হয়। আর সেখানেই বিষয়টি প্রায় পরিষ্কার হয়ে যায়। ফেস ID ভেরিফিকেশনের সময় দেখা যায়, পরীক্ষার দিন নেওয়া ছবির সঙ্গে আবেদনপত্রের ছবির মিল পাওয়া যায়নি। এর পর অভিযুক্তকে ফাঁদে ফেলতে পরীক্ষার দু'-একটি প্রশ্ন করা হয়। সেই প্রশ্নেরও ভুল উত্তর দেন তিনি। সন্দেহ আরও বাড়তে থাকে। শেষমেশ মনোহরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই মনোহর সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর অ্যাডমিট কার্ড, MBBS ডিগ্রির সার্টিফিকেট ও অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশি জেরার সময়ই পুরো ঘটনা সবিস্তারে জানা যায়। অভিযুক্ত পুলিশকে জানান, তাজিকিস্তান থেকে MBBS ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। গত ছয় বছর ধরে FMGE পাশ করার চেষ্টা করছিলেন। এমন সময় এক চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। তখনই ঠিক হয়, ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাঁর জায়গায় ওই চিকিৎসক পরীক্ষা দেবেন। ৪ ডিসেম্বর শেষমেশ সিংয়ের সিটে পরীক্ষা দেন ওই চিকিৎসক। তবে এই চক্রান্ত ফাঁস হয়ে গেল। মনোহরের পাশাপাশি আর এক চক্রান্তকারীকে খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Published by:Raima Chakraborty
First published: