প্রেমে প্রত্যাখ্যান, নাবালিকাকে কুপিয়ে খুন করে আত্মঘাতী যুবক

প্রেমে প্রত্যাখ্যান, নাবালিকাকে কুপিয়ে খুন করে আত্মঘাতী যুবক

বিয়ে না হওয়া সত্ত্বেও কিশোরীকে বারংবার প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকে পাত্র। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সায় মেলেনি। আক্রোশের বশে ওই কিশোরীকে খুন করে আত্মঘাতী হল প্রেমিক।

  • Share this:

#দুর্গাপুর: মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নাবালিকা মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন বাবা-মা। কিন্তু পাত্রের কোনও মতেই না মানতে রাজি ছিলেন না। তাই বিয়ে না হওয়া সত্ত্বেও কিশোরীকে বারংবার প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকে পাত্র। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সায় মেলেনি। আক্রোশের বশে ওই কিশোরীকে খুন করে আত্মঘাতী হল প্রেমিক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের দুর্গাপুরে। মৃত ওই ছাত্রীর নাম মৌমিতা কুণ্ডু , বয়স ১৭।

দুর্গাপুরের নিউটাউনশিপ এলাকার গণতন্ত্র কলোনির বাসিন্দা স্কুলপড়ুয়া মৌমিতা কুণ্ডুর সঙ্গে সম্বন্ধ হয় অমর সীটের। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার আগে বিয়েতে রাজি ছিল না পরিবার। তাই সম্বন্ধ দেখা হলেও, বিয়ে থেকে পিছিয়ে আসে মিতার বাড়ির লোক। মেয়ের মা সাফ জানিয়ে দেন, এখনই বিয়ে হবে না। আর তাতেই অশান্তি শুরু। কারণ মৌমিতাকে মনে ধরে যায় অমরের। ভাঙা মনে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রেম প্রস্তাব দেয় সে। কিন্তু সেই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেয় মৌমিতা।

মৌমিতার পরিবারের দাবি, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়েই মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ কিশোরীর বাড়িতে চড়াও হয় অমর। বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার নলি কেটে খুন করে ওই ছাত্রীকে। এরপর নিজের হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুপুর একটা পনের নাগাদ প্রতিবেশীরা দেখতে পায় ঘরের দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। এরপর নিউটাউনশিপ থানার পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ ঘরের ভিতরে মেঝে থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দু'জনকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসরা কিশোরীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় যুবককে সিসিইউতে ভরতি করা হয়। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় অমরের (২০)।

মৌমিতার মা মমতা কুন্ডু জানিয়েছেন, বেশ কয়েকমাস ধরে মেয়েকে ফোন করত অমর। মাস ছয়েক আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের বাসিন্দা অমর তার মাকে নিয়ে দুর্গাপুরে মৌমিতাদের বাড়িতে এসেছিল বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। অমরকে পছন্দ না হওয়ায় বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় মৌমিতার পরিবার। এরপরেও মৌমিতা ও অমর ফোনে কথা বলত। বিরক্ত হয়ে মেয়ের ফোন কেড়েও নেয় মৌমিতার বাবা-মা। কিন্তু মঙ্গলবার কিভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে দিশেহারা পরিবার। জানা গিয়েছে, মৌমিতার মা আয়ার কাজ করে আর বাবা কাঠ মিস্ত্রি। মঙ্গলবার সকালে দুজনেই কাজে বেড়িয়ে গিয়েছিলেন তারই মধ্যে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।

First published: February 4, 2020, 6:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर