সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার কলকাতার দুই কলেজ ছাত্র

সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার কলকাতার দুই কলেজ ছাত্র
Representational Image

যাতে কোনও সন্দেহ না হয় তাই কলেজের ছাত্রদের কেরিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত সোনা পাচারকারীরা।

  • Share this:

Pranab Kumar Banerjee

#মালদহ: সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার কলকাতার দুই কলেজ ছাত্র । অভিযুক্ত দুই ছাত্রের নাম কুন্দন কুমার সাউ ও সনু কুমার শর্মা। দু’জনেই কলেজের প্রথম বর্ষ ও তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অভিজাত পরিবারের ছেলে। ৪৪ টি সোনার বিস্কুট-সহ ওই দুই কলেজ ছাত্রকে গ্রেফতার করে ডি আরআই।

বুধবার সন্ধ্যায় ফরাক্কা স্টেশনে একটি ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে সোনার বিস্কুট গুলি। আসামের দিমাপুর থেকে সোনার বিস্কুট গুলি নিয়ে কলকাতায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। ৪৪টি সোনার বিস্কুট যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এই কলেজ ছাত্রগুলো কেরিয়ার হিসেবে কাজ করত। বিনিময়ে তারা মোটা টাকা মজুরি হিসেবে পেত।

অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে বৃহস্পতিবার বহরমপুর জেলা জজ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আইনজীবী বলেন, বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের জেরা করতে পারবে তদন্তকারী অফিসারেরা ৷ তার অনুমতি দিয়েছেন বিচারক। কলকাতার খিদিরপুর অঞ্চলের বেশ কয়েকজন সোনা ব্যবসায়ী এই পাচারের কাজ করে থাকেন বলে তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে পেরেছেন।

যাতে কোনও সন্দেহ না হয় তাই কলেজের ছাত্রদের কেরিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত সোনা পাচারকারীরা। মায়ানমার থেকে দিমাপুর হয়ে শিলিগুড়ি দিয়ে কলকাতায় দীর্ঘদিন ধরেই সোনা পাচারকারীরা সক্রিয়। কলকাতা থেকে সেই সোনা চেন্নাই, দিল্লি, মুম্বই চলে যায়। চারুচন্দ্র কলেজের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ধৃত দুই ছাত্র দীর্ঘদিন ধরে সোনা পাচারের কেরিয়ার হিসাবে কাজ করছিল বলে জেরায় স্বীকার করেছে।

যাতায়াতের খরচ থেকে অন্য খরচ তাদেরকে দেওয়া হতো। সাথে মোটা অঙ্কের টাকা পেত তারা। এই লোভে পড়ে তারা কেরিয়ার হিসেবে কাজ করতো বলে জেরায় স্বীকার করেছে। জিন্সের প্যান্টের যেখানে বেল্ট বাধা হয় সেখানে বিশেষভাবে পকেট তৈরি করে সোনার বিস্কুটগুলো ঢোকানো ছিল। দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল মাথাদের খোঁজার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে পেরেছেন এই পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই রূটে সোনা নিয়ে যাতায়াত করছে। মুম্বইয়ের সোনা ব্যবসায়ীরাও এই পাচার কাজের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক পাচারকারীরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামড়াতে ওই দুই ছাত্র বহাল তবিয়তে ডিমাপুর থেকে আসছিল। এনজিপি স্টেশন থেকে তদন্তকারী অফিসারেরা তাদেরকে অনুসরণ করে। ফারাক্কা স্টেশনের কাছেই তাদেরকে গ্রেপ্তার হয় নিশ্চিত হয়ে।

First published: December 26, 2019, 9:33 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर