• Home
  • »
  • News
  • »
  • crime
  • »
  • KALIACHAK YOUNG BOY MURDERS 4 FAMILY MEMBERS POLICE TRY TO KNOW REASONS PBD

Kaliachak Murder: বাবা,মা, বোন, ঠাকুমাকে ফিল্মি কায়দায় খুন! কালিয়াচকের হাড়হিম হত্যাকাণ্ডে উঠছে নানা প্রশ্ন

কালিয়াচকের খুন

সম্পত্তিগত কারণে খুন, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোন বড় রহস্য? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

  • Share this:

#মালদহ: কেন এভাবে পরিবারের সকলকে খুব করে পুঁতে দিল কালিয়াচকের যুবক? কী ছিল তার উদ্দেশ্য? কী রহস্য রয়েছে এর পিছনে, তার তদন্ত করছে পুলিশ৷  বয়স মাত্র ১৯ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র ক্লাস ইলেভেন। বাড়ির চার জনকে খুন করে বাড়ির মেঝেতেই দেহ পুঁতে দিয়ে দিব্যি ছিল আসিফ মহম্মদ। খুনের প্রায় চার মাস পর বাড়ি বিক্রির ছক কষতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি। ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনলেন দাদা। অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার মাঝরাতে বাড়ি থেকে কালিয়াচক থানার পুলিশ তুলে আনে আসিফকে। জিজ্ঞাসা করতেই পরিবারের চার জনকে খুন করে বাড়িতে পুঁতে রাখার কথা কবুল করে যুবক। খুনের ঘটনা নিশ্চিত হতে শনিবার দুপুর নাগাদ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারী দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে কালিয়াচক থানার পুলিশ। ছিলেন মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজরিয়া সহ পদস্থ পুলিশ কর্তারা। এরপর বাড়ির মেঝের খুঁড়তেই একের পর এক চার চারটি পচা গলা দেহের হদিশ। মৃত অভিযুক্তের বাবা  জাওয়াদ আলি(৫০), মা- ইরা বিবি(৪২), বোন- আরিফা খাতুন(১৬) এবং ঠাকুমা- আলেকজান বিবি(৭০)।

অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ প্রথমে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচৈতন্য করা হয় ওই চারজনকে। এরপর মুখে সেলোটেপ এঁটে, হাত-পা বেঁধে, দেহগুলি নিয়ে গিয়ে ফেলা হয় জলভর্তি চৌবাচ্চায়। মৃত্যু নিশ্চিত হলে বাড়ির ভেতরে মাটি খুঁড়ে পুঁতে ফেলা হয় দেহগুলি। অভিযোগকারী দাদা আরিফ মহম্মদের দাবি, তাকেও খুন করে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। কোন রকমে পালিয়ে বাঁচে সে। এরপর ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় কলকাতায় চলে যায় দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া আরিফ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়ি থেকে একাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ,মোবাইল ফোন সহ কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম মিলেছে। ওই যুবকের বাড়িটিও রীতিমতো রহস্যে ঘেঁরা। বাড়ির একাংশ দোতলা, অন্য অংশ একতলা বিশিষ্ট। বাড়িটি কার্যত জানালাবিহীন। বাড়ির একতলার অংশ থেকে দোতালার অংশে যাওয়ার জন্য ভেতরে দেওয়াল কেটে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। অচৈতন্য হওয়ার পর বাইরের লোকজন যাতে টের না পায়, তাই ভিতরে সুড়ঙ্গ পথে দেহগুলিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। খুনের ধরন দেখে পুলিশ নিশ্চিত পুরো ঘটনা পরিকল্পনামাফিক এবং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা কষা হয়।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের চারজনকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আসিফ মহম্মদকে গত ১০ মার্চ আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে কালিয়াচক থানার পুলিশ। সেই সময় কম্পিউটার হ্যাকার সন্দেহে তাকে  জেরা করলেও তেমন কিছু মেলেনি। পুলিশের দাবি, এই কারণে তাঁকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সময় খুনের বিষয়ে টু শব্দও করেনি সে। পুলিশ জানিয়েছে শুধু একাধিক খুন নয়, ওই পরিবারের লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত যুবক। এমনকি খুনের আগে বাড়িটি তার নামে লিখে নিয়েছিল বলে খবর।

শনিবার তল্লাশির সময়, নগদ লক্ষাধিক টাকা মিলেছে বাড়ি থেকে।মৃতদেহগুলি ময়না তদন্ত করে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেতে চাইছে পুলিশ। বাড়ির ভিতরে সুড়ঙ্গ খোঁড়া, অন্তত ১৫ টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে বাড়ি নজরদারির ব্যবস্থা রাখা, বাড়িতে চারধারে একাধিক আলোর ব্যবস্থা রাখা, এসব করার কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সম্পত্তিগত কারণে খুন, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোন বড় রহস্য? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।এদিন মালদহে এসে কালিয়াচকের খুনের ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের দাবি করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। এমন রোমহর্ষক খুনের ঘটনায় কার্যত অবাক এলাকার মানুষ। প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছেন তাঁরা।

Published by:Pooja Basu
First published: