নৃশংস! স্বামীকে মেরে ভরে রাখলেন খাটের ভিতরের বাক্সে, গ্রেফতার গৃহবধূ

সপ্তাহখানেক পরে যখন মৃতদেহটিতে পচন ধরে, তখন তাঁরা ডাবুয়া এলাকার একটি নালায় দেহটি ফেলে দেন

সপ্তাহখানেক পরে যখন মৃতদেহটিতে পচন ধরে, তখন তাঁরা ডাবুয়া এলাকার একটি নালায় দেহটি ফেলে দেন

  • Share this:

#ফরিদাবাদ: খুন তিনি নিজে হাতে করেছিলেন না তফাতে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন শুধু, এই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয় জিজ্ঞাসাবাদে। কিন্তু হরিয়ানা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে স্বামীকে হত্যার অপরাধে এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে সম্প্রতি।

পুলিশ জানিয়েছে যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে জানুয়ারি মাসে। খবর মোতাবেকে ওই মাসের ১১ কী ১২ তারিখে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত ব্যক্তিকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, জানা গিয়েছে যে তাঁর নাম দীনেশ। ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে।

খবর বলছে যে এই গৃহবধূ এবং তাঁর স্বামী ফরিদাবাদের সৈনিক কলোনিতে থাকতেন। পুলিশের জেরার মুখে গৃহবধূ জানিয়েছেন যে দীনেশকে খুন করার সময়ে তাঁদের ফ্ল্যাটে তাঁরা দু'জন ছাড়াও আর চার ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এঁদের মধ্যে একজনকে নিজের কাকা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তাঁর বয়ানে উঠে এসেছে নীতীন নামে এক ব্যক্তির নামও।

পুলিশের বক্তব্য, এই নীতীনের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল ওই গৃহবধূর। এই সম্পর্কের কথা গৃহবধূর কাকাও জানতেন। দীনেশ যখন সব কিছু জেনে যান, তখন তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই জানুয়ারি মাসের ১১-১২ তারিখে তাঁদের ফ্ল্যাটে চড়াও হন নীতীন, গৃহবধূর কাকা এবং তাঁদের দুই সহযোগী।

খবর মোতাবেকে, একটি লাঠির বাড়ি মেরে দীনেশকে অচেতন করে ফেলা হয়। তার পর তাঁকে হত্যা করা হয় শ্বাসরোধ করে। যাতে কিছু জানাজানি না হয়ে যায়, সেই জন্যে স্বামীর দেহ খাটের ভিতরের বাক্সে ভরে রেখেছিলেন বলে জেরায় স্বীকার করে নিয়েছেন গৃহবধূ। এই চারজন তাঁর সঙ্গে ফ্ল্যাটেই থেকে যান। সপ্তাহখানেক পরে যখন মৃতদেহটিতে পচন ধরে, তখন তাঁরা ডাবুয়া এলাকার একটি নালায় দেহটি ফেলে দেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২৮ জানুয়ারি এই দেহটি নালা থেকে উদ্ধার করা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই থানায় ডেকে পাঠানো হয় ওই গৃহবধূকে। তিনি প্রথমে স্বামীকে চিনতে অস্বীকার করেন। কিন্তু দীনেশের বন্ধুরা দেহ সনাক্ত করলে তিনি ফাঁপরে পড়ে যান। তাঁর এই অস্বাভাবিকতা দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয়। এর পর তাঁকে জেরা করায় হত্যাকাণ্ডের কথা কবুল করেন গৃহবধূ।

জানা গিয়েছে যে নীতীন, গৃহবধূর কাকা এবং দুই সহযোগী পলাতক; বর্তমানে তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: