নিউটাউনে তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, খুন না আত্মহত্যা ? রহস্য ক্রমেই বাড়ছে

নিউটাউনে তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, খুন না আত্মহত্যা ? রহস্য ক্রমেই বাড়ছে

ইকোপার্ক থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে ৷ তবে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে যথেষ্টই ধোঁয়াশা রয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ক্রমেই দানা বাঁধছে। বুধবার গভীররাতে নিউটাউনের আকাঙ্খা মোড়ের কাছে একটি অভিজাত বহুতলের ১২ তলা থেকে ঝাঁপ দেন পেশায় চিকিৎসক ধর্মেন্দ্র কুমার চৌধুরী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

ইকোপার্ক থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে ৷ তবে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে যথেষ্টই ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, সেদিন রাতে চিকিৎসক ধর্মেন্দ্র চৌধুরীর স্ত্রী ভূমিকা ভাবনা চৌধুরী পুলিশকে ফোন করে জানায়, তার স্বামী তাকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দিয়েছে। তা শুনে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ।খবর দেওয়া হয় দমকলকেও । পুলিশ ও দমকলকর্মীরা অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খুললে দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। তখনই বহুতল থেকে ঝাঁপ দেন ওই চিকিৎসক।

3040_IMG-20200110-WA0001 (1)

এসি মেশিন লাগানোর জায়গাটি ফাঁকা থাকায় নিজের ফ্লাটের সেই অংশ থেকেই ধর্মেন্দ্র চৌধুরী ঝাঁপ দেন। এরপর পুলিশ তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে বিধান নগর হাসপাতালে গেলে সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের স্ত্রীও পেশায় চিকিৎসক। ভূমিকা ভাবনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসক দম্পতি নিউটাউনের একটি শপিংমলে যান। সেখান থেকে মদ কেনেন ।ধর্মেন্দ্র বাড়ি ফিরেই মদ খাওয়া শুরু করেন। তখন তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। সে সময় তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন তার স্বামী উত্তেজিত হয়ে ফোনে কথা বলছেন স্ত্রী মদ খেতে নিষেধ করার পাশাপাশি ঘটনার কথা জানতে চাইলে স্ত্রী-কে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা লক করে দেন চিকিৎসক ধর্মেন্দ্র। এরপরই পুলিশকে এবং প্রতিবেশীদের গোটা ঘটনার কথা জানালে পুলিশ এলে ঘরের ভেতর ভাঙচুর করার আওয়াজ শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝাঁপ দেন চিকিৎসক।

তবে কার সঙ্গে ফোনে উত্তেজিত হয়ে কথা বলছিলেন চিকিৎসক ? তা জানতে তদন্তকারীরা চিকিৎসকের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে কল লিস্ট খতিয়ে দেখছে। তবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোন কথা বলতে নারাজ ভূমিকা ভাবনা চৌধুরী । শুধু কি পারিবারিক অশান্তির জের ? নাকি এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোন কারন ? তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দফায় দফায় তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তার পাশাপাশি সেদিন রাতে কার সাথে চিকিৎসক ফোনে উত্তেজিত হয়ে কি কথাবার্তা বলছিলেন , তা জানতেও পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

এদিকে ওই আবাসনের এক নিরাপত্তারক্ষী রাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বছরখানেক হল ওই চিকিৎসক এই আবাসনের ভাড়াটিয়া। কিছুদিনের মধ্যেই বাড়িওয়ালার সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এর থেকে বেশি আমাদের কিছু জানা নেই " । ঘটনার নেপথ্যে এই সংক্রান্ত কোনও গন্ডগোল আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কলকাতা ও সংলগ্ন শহরের বেশ কিছু বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক ধর্মেন্দ্র কুমার চৌধুরী। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে সেই সমস্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Venkateswar Lahiri

First published: 01:20:17 PM Jan 10, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर