বাঁশদ্রোনিতে অপমানে আত্মঘাতী ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী

বাঁশদ্রোনিতে অপমানে আত্মঘাতী ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়ায় বাবার বকুনি ও মার্কশিটে কাটাকুটি থাকায় ক্লাসের বন্ধুদের কাছে অপমানিত হওয়ার জেরেই আত্মঘাতী হয়েছে ওই ছাত্রী।

  • Share this:

Sujoy Pal

#কলকাতা: ষষ্ঠ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল বাঁশদ্রোনির কালিতলা পার্ক এলাকায়। শনিবার সকালে কালিতলা পার্কের একটি ফ্ল্যাট থেকে পিউ সাহা (১৩) নামে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ মেলে। মৃতদেহের পাশে একটি সুইসাইড নোট মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়ায় বাবার বকুনি ও মার্কশিটে কাটাকুটি থাকায় ক্লাসের বন্ধুদের কাছে অপমানিত হওয়ার জেরেই আত্মঘাতী হয়েছে ওই ছাত্রী।

উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে ছাত্রী লিখেছে যে, তার প্রাপ্ত নম্বর যা মার্কশিটে ছিল সেটি কেটে ঠিক করেছিলেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু ভর্তির দিন তিনি না থানায় ভর্তিতে সমস্যা হয় পিউয়ের। মার্কশিটে কাটাকুটি দেখে সবাই ভেবেছে আসল প্রাপ্ত নম্বর কেটে পিউ নিজে নম্বর বসিয়েছে। এমনকী তার ক্লাসের দুই বান্ধবীও তাকে অপমান করেছে এবং পিউয়ের পরিবারকেও এই মিথ্যে বিষয়টি জানিয়েছে।

বাঁশদ্রোনিতে বাড়ির পাশে নিজের জ্যাঠা পরিমলেন্দু সিংহ রায়ের কাছেই থাকত পিউ। তাঁকে উল্লেখ করে লেখা সেই নোটে পিউ দাবি করেছে, তাকে অপমান করায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক যেন সেই দুই ছাত্রীকে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করে। এই নোট লেখার পরে তার ঝুলন্ত দেহ মেলায় পুলিশ মনে করছে অপমানের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছাত্রীটি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক গিরিশ সাউয়ের বক্তব্য, পিউ যথেষ্ট মেধাবী ছাত্রী ছিল। এবছরও সে ক্লাসে প্রথম হয়েছিল। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে মাসে কিছু টাকা ভাতা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেজন্য পিউর মার্কশিট চেয়েছিলেন। সেখানে আসল নম্বর কেটে হাতে অন্য নম্বর লেখা দেখে তার সন্দেহ হয়। সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে পিউ জানিয়েছিল, তার জ্যাঠা এই কাজ করেছে। জ্যাঠাকে স্কুলে ডেকে পাঠানোর কথা বলতেই পিউ অসঙ্গতিপূর্ণ দাবি করেছিল। প্রধান শিক্ষকের কথায়, "যেভাবে নম্বর কেটে হাতে নম্বর লেখা হয়েছিল তাতে মনে হচ্ছিল এটা কোনও বাচ্চা মেয়ের কাজ। কিভাবে কি হল বুঝতে পারছি না। মেধাবী মেয়ের এরকম পরিণতি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।"

এদিন ঘটনার পর পিউয়ের স্কুলে গিয়ে কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে পুলিশ। যে ছাত্রীদের নাম সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছে তাদের সঙ্গেও কথা বলবে পুলিশ। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

First published: January 4, 2020, 7:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर