লকডাউনে নবদ্বীপ থেকে কোচবিহার সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরলেন শ্রমিকরা !

দুপুরের রোদ্দুরে গরম হয়েছে হাইওয়ের পিচ। সূর্য তেজ যত বেড়েছে, পেটের যন্ত্রণা ততটাই বেড়েছে। তবু বাড়ি ফিরতে তো হবেই।

দুপুরের রোদ্দুরে গরম হয়েছে হাইওয়ের পিচ। সূর্য তেজ যত বেড়েছে, পেটের যন্ত্রণা ততটাই বেড়েছে। তবু বাড়ি ফিরতে তো হবেই।

  • Share this:

#নবদ্বীপ: কালো পিচ ঢাকা রাস্তা দিয়ে ক্যাঁচ ক্যোঁচ আওয়াজ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে সাইকেলগুলো। দুপুরের রোদ্দুরে গরম হয়েছে হাইওয়ের পিচ। সূর্য তেজ যত বেড়েছে, পেটের যন্ত্রণা ততটাই বেড়েছে। তবু বাড়ি ফিরতে তো হবেই।

কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা বলরাম বর্মন, বিশ্বজিৎ বর্মন,মুকুল  বর্মন, ধীরেণ বর্মন ও অবিনাশ মোদক। নবদ্বীপের সমুদ্রগড়ে তাঁত বোনার কাজ করেন তারা। কারও সংসারে রোজগেরে সে একাই। কারও আবার বোনের বিয়ের টাকা জমাতে হবে। তাই বাড়ি থেকে ৬৪০ কিলোমিটার দুরে কাজ করতে গিয়েছিলেন এই পাঁচ জন। সাত মাস ধরে ভালোই চলছিল কাজ। ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে রোজের খাওয়া দাওয়া আর লক্ষ্মীর ভাঁড়ে টাকা জমানো দুটোই চলছিল সমান তালে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ছোঁয়ায় লকডাউনের উপস্থিতি জীবন বদলে দিয়েছে কোচবিহার থেকে নবদ্বীপে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের। কাজ নেই, ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে ফ্যাক্টরির, হাত তুলে দিয়েছেন মহাজন।

কাজ হারিয়ে, মাথা গোঁজার অস্থায়ী ঠিকানা হারিয়ে তাই সাইকেল সম্বল করেই বাড়ি ফিরছেন কোচবিহারের পাঁচ জন। বৃহস্পতিবার সকালে সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন সবাই। রাস্তার মাঝে পুলিশ আটকেছে অনেকবার। সকালের ঝড়, বৃষ্টি পেরিয়ে, হাইওয়েতে রাস্তার ধারে রাত কাটিয়েছেন। কোনও দিন খাবার জুটেছে, কোনওদিন জলটুকু অবধি জোগাড় করতে পারা যায়নি। তবু সাইকেল থামেনি। রবিবার বিকেলে ফুলবাড়ি ক্যানাল পাড়ে সাইকেল ছেড়ে রাস্তায় বসেছিলেন তারা। রবিবারও বাড়ি ফিরতে পারবেন না। সোমবার সকাল থেকে ফের সাইকেল চালাবেন। ধীরেণ বর্মন জানাচ্ছেন, "মহাজন ২০০০ টাকা হাতে দিয়েছিল। সেই টাকা থেকে ৮০০ টাকা দিয়ে সাইকেল কিনেছি। ১২০০ টাকা নিয়ে বেরিয়েছি। রাস্তায় ৬০০ টাকা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরতে গিয়ে আরও কিছু টাকা খরচ হবে। কিন্তু বাড়ি অবধি এই খারাপ সময়ে সাহায্য নিয়ে যেতে পারব না।"

কথা গুলো যখন বলে চলেছে ধীরেন। তখন ফুলে যাওয়া পা দু'হাতে চেপে ধরে বসে আছে বলরাম। বাড়ি থেকে মেয়ে বারবার ফোন করেছিল, তার বাবা কখন আসবে বাড়ি। বাড়ি তো যত কষ্টই হোক ঠিক ফিরে যাব। তবে আর কাজ  জুটবে? নিজেকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন বলরাম। দলের মধ্যে বয়স কম অনেকটাই বিশ্বজিতের। কিন্তু পেটে খিদে, আর টানা চার দিন সাইকেল চালানোর জের। রাস্তাতেই অসুস্থ হয়েছে সে। যদিও তার সরল স্বীকারোক্তি, শিলিগুড়িতে ঢোকার মুখে পুলিশ মাথায় যেন কি একটা আলো দেখিয়ে চেক করেছে। বলেছে ভাল আমি। এই আশাতেই রাস্তার ধারে বসে আছেন ৫ পরিযায়ী শ্রমিক। আলো ফুটলে ফের প্যাডেল ঘুরবে ৮০০ টাকায় কিনে আনা সাইকেলের। নতুন সকাল কবে আসবে অপেক্ষায় ৬৪০ কিমি সাইকেল চালিয়ে পেট ভরাতে চলল বলরাম, বিশ্বজিৎ, মুকুল, ধীরেণ, অবিনাশ।

Abir Ghoshal

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: