corona virus btn
corona virus btn
Loading

অতি দুঃসময়ে কলকাতা ছাড়ছেন নার্সরা, কেন এই গণইস্তফা?

অতি দুঃসময়ে কলকাতা ছাড়ছেন নার্সরা, কেন এই গণইস্তফা?
কলকাতা ছাড়ছেন শয়ে শয়ে নার্স। কিন্তু কেন!

বর্তমানে অনেকেই যেমন লিখিত ইস্তফাপত্র ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছেন তেমনি অনেক নার্স সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।

  • Share this:

#কলকাতা : প্রায় প্রতিদিনই নার্সদের গণ ইস্তফার জেরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য যেমন মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা এ রাজ্যের শয়ে শয়ে কর্মরত নার্সরা কলকাতার নামজাদা হাসপাতালের  চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আজ, শনিবার বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একসঙ্গে উড়িষ্যার ২৬ জন নার্স ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন। ইস্তফাপত্র জমা দেওয়াই  শুধু নয়, তাঁদের অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে নার্সদের তরফ থেকে। এ ভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে নার্সদের কলকাতা ছাড়ার কার্যত হিড়িক পড়ে গিয়েছে। কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল গুলির চিকিৎসা পরিকাঠামোর সঙ্গে নার্স হিসেবে যাঁরা যুক্ত তাঁরা আর বর্তমানে কলকাতায় থাকতে রাজি নন। কিন্তু কেন কলকাতা ছাড়ছেন ভিন রাজ্যের নার্সরা ? শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলি কী ভাবে সামাল দেবে এই সংকটময় পরিস্থিতি?

উত্তর জানতে নিউজ এইট্টিন বাংলা কথা বলে ওই নার্সদের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নার্স একই কথা বলছেন। "আমরা যখন কলকাতায় এসেছিলাম তখন আমাদের রাজ্যে সেই সময় কাজের সুযোগ ছিল না। তাই আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই কলকাতায় এসেছিলাম। এখন নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়ে কাজের সুযোগ দিচ্ছে সরকার। সেই কারণেই কলকাতা ছাড়ছি," বলছেন ওঁরা।

কলকাতার হাসপাতাল গুলি থেকে অব্যাহতি চাওয়া আরও বেশ কয়েকজন নার্সের বক্তব্য, "আমরা এখানে যা বেতন পাই তার থেকে অনেক বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতি মিলছে নিজের রাজ্যে। পাশাপাশি বাবা-মা পরিবার-পরিজন ছেড়ে রুজি রোজগারের টানেই কলকাতায় এসেছিলাম। এখন যখন নিজের রাজ্যেই  কাজের সুযোগ এসেছে তখন বাড়িতে থেকেই নিজেদের পেশায় যুক্ত থাকব।"

কলকাতার পাশাপাশি গোটা দেশজুড়েই এখন করোনা  আতঙ্ক গ্রাস করেছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত অনেক নার্সদের পরিবারও। এই অবস্থায় ঘনঘন ফোন করে নিজেদের সন্তানদের  খোঁজ নিতেন। অনেক পরিবারের তরফে আবার কাজ ছেড়ে বাড়ি চলে আসার কথাও বলা হয় ।কলকাতা থেকে নিজের রাজ্যে ফিরে গেলে পরিবারের লোকেরা চিন্তামুক্তও হবে। বললেন কলকাতা ছেড়ে যাওয়া কয়েকজন নার্স। নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়ে কাজের সুযোগ মেলায় খুশি প্রত্যেকেই।

তবে অসময়ে কলকাতা কাজের সুযোগ দেওয়ায় কলকাতার প্রতি তাঁদের টান যে অটুট থাকবে সেকথাও জানালেন পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে যাওয়া অনেক নার্স। নার্সদের একপ্রকার পৌষ মাস হলেও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যত এখন সর্বনাশ। কী ভাবে তারা পরিস্থিতি সামাল দেবেন তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছে না। কলকাতার বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। এই সমস্ত হাসপাতালগুলিতে নার্সদের বেশিরভাগই উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা। তাই নার্সদের একসঙ্গে ইস্তফা পত্র জমা দেওয়ায় রীতিমত চিন্তার মোটা ভাঁজ পড়েছে হাসপাতাল প্রশাসকদের কপালে।

বর্তমানে অনেকেই যেমন লিখিত ইস্তফাপত্র ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছেন তেমনি অনেক নার্স সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে তীব্র সংকটে অন্যান্য রোগীদের পাশাপাশি করোনা রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবার ভবিষ্যতও। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং চিকিৎসা বিভ্রাট রুখতে ইতিমধ্যেই আসলে নেমে পড়েছে শহরের বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল। নার্সদের শূন্যস্থান পূরণ করতে বেশ কয়েক মাস আগেই এ রাজ্যের অনেক বাসিন্দা নার্স হিসেবে কাজে যোগদানের আবেদন করে বেশকিছু হাসপাতালে দ্বারস্থ হন। যার মধ্যে কলকাতার বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও বেসরকারি নার্সিং হোম সেই সমস্ত সেবিকাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শেষ করে রেখেছিলেন। নার্সদের গণইস্তফার  সঙ্গে সঙ্গেই আবেদনপত্র দেখে দেখে সেই সমস্ত ইচ্ছুক নার্সদের ফোন নম্বরে যোগাযোগের মাধ্যমে আগামী সোমবার থেকেই সেই সমস্ত আবেদনকারীদের কাজে যোগদানের কথা জানানোর প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে সেখানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। নতুন নার্স হিসেবে সেবার  কাজে যোগ দেওয়ার আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই কলকাতার। আবার বেশির ভাগ আবেদনকারী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের। তাই লকডাউনে কীভাবে তাঁরা কাজে যোগ দেবেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। এক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ভাবনা, হাসপাতালে কাজে যোগদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে তাঁদের বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসার বিকল্প ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে।

করোনার দাপটে কলকাতার একাধিক হাসপাতাল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতেও হয়েছে৷ এরই মাঝে কলকাতা সহ রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে নতুন 'সঙ্কট' দূর করতে কী ব্যবস্থা নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষরা ?  উত্তর দেবে সময়ই। গোটা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দপ্তরও।

#VENKATESWAR LAHIRI

Published by: Arka Deb
First published: May 16, 2020, 8:15 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर