Corona Vaccine: কোভিড ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ না নিলে কী কী হতে পারে?

Corona Vaccine: কোভিড ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ না নিলে কী কী হতে পারে?

কোভিড ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ না নিলে কী কী হতে পারে?

যাঁরা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁরা যদি দ্বিতীয় ডোজ না নেন, তাহলে কি কোনও নেতিবাচক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবেন?

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন যখন প্রথম এই দেশে আবিষ্কৃত আসে এবং সরকার থেকে তা প্রয়োগের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়, তখন এটি গ্রহণ করার বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেকেও দ্বিধার মধ্যে ছিলেন। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে তখন টিকারণ অভিযান শুরু হয়, সেই সময়ে একটি সমীক্ষা সম্পাদিত হয়েছিল। যা জানিয়েছিল যে স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা দ্বিধা এবং আশঙ্কার জায়গা থেকে কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী বোধ করছেন না অনেকে আবার নিলেও পরিবারের কাছে তা গোপন করে যাচ্ছেন। আপাতত দ্বিধা কিছুটা কেটেছে। আর এরই মাঝে দেশের আকাশে উন্মত্ত পাখির মতো ডানা ঝাপটাচ্ছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গ। এই পর্যায়ে ভাইরাস চারিত্রিক দিক থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী, সংক্রমণের হারও দেশে প্রথমবারের তুলনায় বেশি। ফলে, ভ্যাকসিন গ্রহণ করা এখন অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয়তা।

কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে যে দেশে বিপুল পরিমাণে ভ্যাকসিনের ডোজ নষ্ট হচ্ছে। অনেকেই ভ্যাকসিন নিতে এখনও গড়িমসি করছেন, অনেকে আবার প্রথম ডোজটি নিলেও দ্বিতীয় ডোজটি নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এই সূত্রে উঠে আসছে প্রশ্ন- যাঁরা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁরা যদি দ্বিতীয় ডোজ না নেন, তাহলে কি কোনও নেতিবাচক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবেন?

কেন ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ অনেকে নিতে চাইছেন না?

এই প্রসঙ্গে সবার আগে একটি বিষয়ের আলোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে- কেন অনেকেই ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে চাইছেন না! সমীক্ষকরা এক্ষেত্রে সবার আগে দায়ী করেছেন ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে। যাঁরা এর মধ্যেই কোভিড ১৯-এর প্রথম ডোজটি নিয়েছেন, কোনও না কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগেছেন। কারও জ্বর এসেছে, কারও শরীরে তীব্র ব্যথা হয়েছে। অনেকের সমস্যা এক রাতের মধ্যেই উধাও হয়েছে, অনেকের সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লেগেছে চার-পাঁচ দিন। পরিসংখ্যান সামান্য হলেও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জটিলতায় দেশে মৃত্যুও হয়েছে কয়েকজনের। এই সব বিষয় মানুষকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে যে কোনও ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একটি স্বাভাবিক ব্যাপার।

এছাড়া ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে না চাওয়ার নেপথ্যে আরও একটি কারণ আছে। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েও দেশে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। এই দিক থেকে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়েও অনেকের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমেরিকার প্রথম সারির বিজ্ঞানী এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের এক অধিবেশনে জানিয়েছেন যে সারা বিশ্ব জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, এর মধ্যে কয়েকজনের ভ্যাকসিন নিয়েও সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা মোটেও অস্বাভাবিক নয়, বরং তাকে নিয়মের মধ্যেই ধরতে হবে।

ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ না নিলে কী হবে?

প্রথমেই বলে রাখা ভালো- এক্ষেত্রে শরীরে নতুন করে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেবে না। তবে শরীরে করোনাপ্রতিহত করার মতো যথেষ্ট অ্যান্টিবডিও তৈরি হবে না। যদি কোনও ভ্যাকসিনের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ৯০ শতাংশ হয়, তবে প্রথম ডোজে তা শরীরে বড় জোর ৬০ শতাংশ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। দ্বিতীয় ডোজটি নিলে তবেই ৯০ শতাংশ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট- দ্বিতীয় ডোজ না নিলে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে টিঁকে থাকা যাবে না।

একই সঙ্গে আরেকটা বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে। জানা গিয়েছে যে দ্বিতীয় ডোজটি নেওয়ার দুই সপ্তাহ পরেই শরীরকে ভাইরাসের মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি ভাবে সক্ষম করে তোলে ভ্যাকসিন। অতএব, এই সব দিকে দৃষ্টি রেখে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Published by:Simli Raha
First published: