corona virus btn
corona virus btn
Loading

ফেলুদা বা ব্যোমকেশ নন,চিনে নিন ‘এই’ গোয়েন্দাদের, যাঁরা লড়ছেন করোনা যুদ্ধে

ফেলুদা বা ব্যোমকেশ নন,চিনে নিন ‘এই’ গোয়েন্দাদের, যাঁরা লড়ছেন করোনা যুদ্ধে
Photo- Representive

করোনা যুদ্ধের সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার-কর্নেল-মার্শালদের চিনে নিন

  • Share this:

#কলকাতা: ফেলুদা-কে দিয়ে হাতেখড়ি তারপর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিরীটি, ব্যোমকেশ থেকে শার্লক হোমস , এরকুল পয়েরোকে নিয়ে বাঙালির বেড়ে ওঠা ৷ রহস্য সন্ধান কেমন জানি আম বাঙালির একেবারে ফেভারিট হবি ৷ নতুন এই করোনযুদ্ধে একদম ফ্রন্টলাইনে থেকে লড়াই করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ৷ কিন্তু তাঁদের সঙ্গে আরও একদল মানুষ সংবাদমাধ্যমের আলোর ঝলকানি ছাড়াই কাজ করে চলেছেন ৷

এরা আপনার পাশের বাড়ির মানুষ, হয়ত এঁদের রোজই দেখেন কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ দল এখন রাজ্যের নতুন গোয়েন্দা বাহিনী৷ স্বাস্থ্য দফতরে এই মুহূর্তে তৈরি হয়েছে ২২ জনের বিশেষ দল ৷ যাঁরা করোনা আক্রান্তদের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মারাত্মক কাজ করছেন ৷ করোনা ভাইরাসের মারণ আক্রমণের পরেই হোম আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন শব্দগুলি বাংলার শব্দকোষে ঢুকে গেছে ৷ তেমনিই কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংও এখন বাঙালি জানে ৷ করোনা আক্রান্তদের খোঁজ পাওয়ার পরেই শুরু হয়ে যায় এই কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মতো মহা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ৷ স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ দলের আধিকারিক জানাচ্ছেন কোনও একটি কোভিড ১৯ রোগীর খোঁজ পাওয়ার পর প্রথম কাজ হয় তিনি কার কার সংস্পর্শে এসেছেন সেটা জানা ৷ যদি সেই রোগী কোনও বিমানে বা ট্রেনে এসে থাকে তাহলে বিমান সংস্থা বা রেলওয়ে অথরিটির থেকে তাঁর আশপাশের যাত্রীদের সমস্ত তথ্য যোগাড় করতে হয় ৷

যদি যাত্রী বিমানে এসে থাকেন সেক্ষেত্রে যাত্রী যে সিটে বসেছিলেন তার পাশের দুটি সিট ছাড়াও সামনে ও পিছনের তিনটি করে সারির সমস্ত প্যাসেঞ্জারের ডিটেলস নেওয়া হয় ৷ তারপর শুরু হয় তাদের ফোন করে তাদের সঙ্গে কথা বলার কাজ ৷ জানতে চাওয়া হয় করোনা ভাইরাসের যে সমস্ত লক্ষণগুলি তার কোনওটা তারা নিজেদের মধ্যে দেখছেন কিনা ৷

তবে এই কাজটি যতটা সরল মনে হচ্ছে ততটাও সরল নন৷ অনেকক্ষেত্রেই যাত্রীরা এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনেন সেক্ষেত্রে সেই এজেন্টকে ফোন করে পিএনআর নম্বর দিয়ে প্রতি যাত্রীর ডিটেলস যোগাড় করতে হয় ৷

এদিকে যাত্রী যদি ট্রেনে করে আসেন সেক্ষেত্রে যাত্রীর সঙ্গে সফররত গোটা কামরার যাত্রীদের খোঁজ নেওয়া শুরু হয় ৷এরপর আবার যাঁরা COVID 19 পজিটিভ এসেছেন তাঁরা যদি বড় অনুষ্ঠানে গিয়ে থাকেন তাহলে যাঁর অনুষ্ঠান ছিল তাঁর থেকে নিমন্ত্রিতদের তালিকা নিয়ে একইভাবে প্রত্যেককে খুঁজে দেখার কাজ চলে ৷

আধিকারিকদের মতে করোন ভাইরাস অতিমারির জেরে এখন বহু মানুষই এই রোগের ভয়াবহতা নিয়ে ওয়াকিবহাল তাই অনেকই সহযোগিতা করেন, তবে কিছু মানুষ এখনও এই অবস্থাতাতেও অসহযোগিতা করছেন৷ অনেকক্ষেত্রেই মানুষের মধ্যে ট্রাভেল হিস্ট্রি লুকিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতার পাশাপাশি নিজের প্রকৃত অবস্থানও না বলার একটা প্রবৃত্তি কাজ করছে যা এই কানেক্টিং চেন খুঁজে পেতে অনেক সময় অসুবিধা করছে ৷

এই কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের সময় যদি ভিন রাজ্যের কারোর খোঁজ মিলছে তাহলে সেই সুনির্দিষ্ট রাজ্যকে সেই ব্যক্তি বা পরিবারের বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হচ্ছে ৷ ফোন করেই এই আধিকারিকদের দায়িত্ব শেষ হয় না ৷ প্রত্যেককে হোম কোয়েরেন্টাইনে থাকার বা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিয়মিত ফোন করে দেখতে হয় করোনার কোনও উপসর্গ তাদের মধ্যে দেখা দিল কিনা ৷ যেহেতু অনেকক্ষেত্রেই করোনা উপসর্গ আসতে অনেকটাই দেরি করে তাই নিয়মিত এই চেকিং মাস্ট ৷

সিলভার স্ক্রিনে স্পেশাল ২৬ দেখে মন্ত্রমুগ্ধ তো হতেই হয়, তবে জীবাণু যুদ্ধের এই স্পেশাল ২২ -কিন্তু আলাদা কুর্নিশের দাবি রাখতেই পারে ৷ খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার মতো কাজ করে চলেছেন ৷ আধিকারিকের মতে দারুণ চ্যালেঞ্জিং এই কাজ স্বাস্থ্য বিভাগের এই স্পেশাল দলকে আলাদা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে রোজ, চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে নিজের ভিতরের গোয়েন্দাকে জাগিয়ে তুলে পৃথিবী কাঁপানো ভিলেনের বিরুদ্ধে লড়াই করার ৷ এঁরা লড়ছেন আর আপনার বাড়ি থেকে না বেরিয়ে এই জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সৈনিকদের সাহায্য করতে পারেন ৷ যাতে আপনার কাছে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের ফোন কলটা না আসে ৷

Published by: Debalina Datta
First published: April 5, 2020, 6:44 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर