রাজ্যে শুরু সেন্টিনেল সার্ভে, করোনা রুখতে দেশের মধ্যে প্রথম, দাবি মমতার

রাজ্যে শুরু সেন্টিনেল সার্ভে৷ PHOTO- FILE

প্রতিটি জেলা থেকে প্রতি সপ্তাহে দুশো জনের লালা রসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে৷

  • Share this:

    #কলকাতা: করোনা সংক্রমণ রুখতে এবার সেন্টিনেল সার্ভের সিদ্ধান্ত নিলে রাজ্য সরকার৷ এ দিন নবান্নে এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশের মধ্যে প্রথম পশ্চিমবঙ্গেই সেন্টিনেল সার্ভে শুরু হচ্ছে৷ করোনা সংক্রমণ রুখে কীভাবে ধাপে ধাপে লকডাউন তোলা যায়, সেই কৌশল ঠিক করতে এই সমীক্ষা সাহায্য করবে বলেই দাবি রাজ্যের৷ সব জেলাতেই এই সেন্টিনেল সার্ভে করা হবে৷

    করোনার মতো মহামারিকে রোখার ক্ষেত্রে সেন্টিনেল সার্ভে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত পদ্ধতি৷ ভাইরাসের চরিত্র নির্ণয় করতেই এই সার্ভে করা হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, রোগের চরিত্র কীভাবে বদলাচ্ছে, ভবিষ্যতে তা বাড়তে পারে নাকি কমবে, সেই ধরনের তথ্য সংগ্রহেই এই সমীক্ষা করা হবে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'কোভিড ১৯-এর গতিপ্রকৃতি নির্ণয় করতেই এই সমীক্ষা করা হচ্ছে৷ দেশের মধ্যে প্রথম পশ্চিমবঙ্গেই এই সার্ভে হচ্ছে৷ স্থানীয় মানুষের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি, নাকি বাইরে থেকে আসা মানুষের মধ্যে, তাও বোঝা যাবে এই সমীক্ষায়৷'

    রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভিন রাজ্যগুলি থেকে পরিযায়ী শ্রমিক সহ প্রচুর সংখ্যক মানুষ রাজ্যে ফিরতে শুরু করেছেন৷ যার থেকে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে৷ এই সময় রাজ্যের বিভিন্ন অংশে করোনা সংক্রমণের প্রকৃত ছবিটা কী, এই সমীক্ষায় তা অনেকটাই স্পষ্ট হবে৷ প্রতিটি জেলা থেকে প্রতি সপ্তাহে দুশো জনের লালা রসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে৷ যাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে, তাঁদের দু'টি ভাগে ভাগ করা হবে৷ একদলে থাকবেন যাঁদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি এবং অন্য দলে থাকবেন যাঁদের সংক্রমণের ঝুঁকি কম৷ অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা নেই, এমন ওপিডি রোগীদের সংক্রমণের ঝঁকি কম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ আবার স্বাস্থ্যকর্মী সহ যাঁরা শ্বাসকষ্টরে সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ঝুঁকি বেশি বলে চিহ্নিত করবে প্রশাসন৷

    এই পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে এলাকা ধরে ধরে সমীক্ষা চালিয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷ এই সমীক্ষায় এক একটি এলাকার নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর তার ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে৷ ফলাফলের ভিত্তিতে চলবে নজরদারি৷ কোন এলাকাকে কোন জোনের অন্তর্গত রাখা প্রয়োজন, কোথায় কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণার প্রয়োজন, বেশি স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন প্রয়োজন অথবা কোথায় লকডাউন শিথিল করেল ছাড় দেওয়া সম্ভব, এই সমীক্ষার ফল দেখে সেই সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটাই সুবিধে হবে রাজ্য প্রশাসনের৷

    মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, করোনার প্রকোপ কমাতে সবরকম চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার৷ রেড জোনগুলিকে দ্রুত অরেঞ্জ জোন, অরেঞ্জ জোন থেকে গ্রিন জোনে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: