স্যানিটাইজার মেখে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন বরকনে, ‘করোনা গয়না’ মাস্ক পরেই শুভদৃষ্টি   

চার হাত এক হওয়ার দিনে বর ও কনে'র মুখটাই ঠিক মতো না দেখার আফশোস গেল না আত্মীয়স্বজনদের।

চার হাত এক হওয়ার দিনে বর ও কনে'র মুখটাই ঠিক মতো না দেখার আফশোস গেল না আত্মীয়স্বজনদের।

  • Share this:

#ভাতার: মার্চ পেরিয়ে জুন। মাঝ জুনেও মাস্কের দাপট ছাদনাতলায়। স্যানিটাইজার মেখে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন রঘুনাথ ও শ্রাবণী। চার হাত এক হওয়ার দিনে বর ও কনে'র মুখটাই ঠিক মতো না দেখার আফশোস গেল না আত্মীয়স্বজনদের।

১৩ জুন, ২০২০ রঘুনাথ রেজ ও শ্রাবণী হাজরা-র নতুন জীবনের নয়া ইনিংসের শুরু কোভিড-১৯ নির্দেশিকা মেনেই। সানাইয়ের সুরেও যেন করোনা ছায়া। শুভদৃষ্টি'র পান পাতার দখল নেয় মাস্ক। ছাদনাতলায় শারীরিক বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে ঠিকমত কানে পৌঁছায় না পুরোহিতের প্রজাপতি মন্ত্র উচ্চারণ। যদিদং হৃদয়ং মমঃ , তদিদং হৃদয়ং তবঃ...দুইহাত এক হওয়ার মন্ত্র বড়ই ম্লান 'লকডাউন', 'আনলক'  শব্দের বাস্তবিক প্রয়োগে। রঘুনাথ ও শ্রাবণীর শুভ পরিণয় বারবার ব্যহত হতে বসে করোনা ভাইরাসের সতর্কতামূলক পদক্ষেপের প্রয়োজনে। পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার ব্লকের বড়বেলুন গ্রামে রঘুনাথের বেড়ে ওঠা। কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনার পর বর্তমানে বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।

শ্রাবণী হাজরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় সময় বাদ রইল না করোনা গয়নার ব্যবহার। বর কনে উভয়ের মুখেই মাস্ক!রঘুনাথের সাদা মাস্কের সঙ্গে মানানসই শ্রাবণীর নীল মাস্ক। বিয়ের অনুষ্ঠানে সরকারি নির্দেশিকা মেনেই কম জমায়েত হল ।

গ্রামের রেজপাড়া'র প্রতিবেশীরাও করোনা আবহে দূর থেকেই দেখলেন নতুন বউ। বিয়ের ভোজ বড় করে করার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই।রঘুনাথ জানাচ্ছেন, " এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে বিয়ে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। দেশজুড়ে লকডাউনে সেই কাজ করার সাহস হয়নি। এরপর দাদু'র প্রয়াণ বিয়ের তারিখ পিছোতে বাধ্য করে। তবে মাস্ক পরে ছাদনাতলায় বসতে হবে এটা কোনওদিন কল্পনাই করতে পারিনি।"

ভাতারে কিছু করোনা আক্রান্তের হদিশ মিললেও বড়বেলুন গ্রাম এখনও পর্যন্ত করোনা মুক্ত। তবে এরই মধ্যে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে রঘুনাথ রেজে'র পরিবার। বিয়ে অনুষ্ঠান কাটছাঁট করে গ্রামের গরীব মানুষের কাছে চাল, ডাল, আটা প্রভৃতি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়ার। এভাবেই ভাইরাসের ডিভেন্স ভেঙে ভেসে চলুক রঘুনাথ ও শ্রাবণীর আদরের নৌকো।

Arnab Hazra

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: