সামান্য উপসর্গ বা উপসর্গহীন? বিনামূল্যে গোটা দেশকে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দিচ্ছেন বাংলার ৬৩ জন চিকিৎসক

সামান্য উপসর্গ বা উপসর্গহীন? বিনামূল্যে গোটা দেশকে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দিচ্ছেন বাংলার ৬৩ জন চিকিৎসক

উপসর্গ দেখা দিলেই প্রথম প্রশ্ন মনে জাগছে, করোনা (corona) থাবা বসায়নি তো? এহেন আতঙ্ক কমাতে এবং করোনার উপসর্গ (Corona symptoms) দেখা দিলে মানুষ যাতে বাড়িতে থেকেই উপযুক্ত পরামর্শ পেতে পারে, তার জন্য একটি উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম (WBDF)।

উপসর্গ দেখা দিলেই প্রথম প্রশ্ন মনে জাগছে, করোনা (corona) থাবা বসায়নি তো? এহেন আতঙ্ক কমাতে এবং করোনার উপসর্গ (Corona symptoms) দেখা দিলে মানুষ যাতে বাড়িতে থেকেই উপযুক্ত পরামর্শ পেতে পারে, তার জন্য একটি উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম (WBDF)।

  • Share this:

#কলকাতা: হঠাৎ গলা খুশখুশ বা মাথা যন্ত্রণায় ভার হয়ে যাওয়া। অথবা আচমকাই জ্বর আসা। এমন সব উপসর্গ দেখলেই শিউরে উঠছে গোটা দেশের মানুষ। যে উপসর্গগুলি একসময়ে ভাইরাল ফিভার বা সামান্য ঠান্ডা লেগেছে বলে মানুষ উড়িয়ে দিত, সেগুলিই এখন মানুষকে আতঙ্কিত করছে। এমন উপসর্গ দেখা দিলেই প্রথম প্রশ্ন মনে জাগছে, করোনা (corona) থাবা বসায়নি তো? এহেন আতঙ্ক কমাতে এবং করোনার উপসর্গ (Corona symptoms) দেখা দিলে মানুষ যাতে বাড়িতে থেকেই উপযুক্ত পরামর্শ পেতে পারে, তার জন্য একটি উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম (WBDF)।

করোনা পরিস্থিতিতে যাঁরা উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গ রয়েছে অথবা বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাঁদের সাহায্য করতেই চিকিৎসকরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এই রোগীরা যাতে চিকিৎসকের পরামর্শ পান এবং সেই মতো ওষুধ খেতে পারেন তার জন্যই এই উদ্যোগ WBDF এর। ২৪ ঘণ্টা এই পরিষেবা যাতে পাওয়া যায় তাই ৬৩ জন চিকিৎসকের নাম ও তাঁদের ফোন নম্বর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি তালিকা। এই তালিকা এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

কোন চিকিৎসক কোন সময়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য থাকবেন তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে এবং পুরোটাই হচ্ছে বিনামূল্যে। চিকিৎসক অর্জুন দাশগুপ্ত এই তালিকা ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, "করোনা পরিস্থিতিতে উপসর্গহীন, মৃদু উপসর্গ ও বাড়িতে কোয়ারান্টিনে করোনা রোগীদের সাহায্য করতে ডাক্তারদের তরফে WBDF এর উদ্যোগ। এটি শুধুই ডাক্তারি পরামর্শের জন্য। বেড, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে নির্দিষ্ট সরকারি হেল্পলাইনে দয়া করে যোগাযোগ করুন। একটাই অনুরোধ এই নম্বরগুলি অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করবেন না। আর ডাক্তাররা ব্যস্ত থাকলে লিস্ট দেখে পরের জনকে যোগাযোগ করুন। সুস্থ থাকুন, সঙ্গে থাকুন।"

চিকিৎসক বলছেন, "প্রথম এক ঘণ্টায় ২০ টা ফোন এসেছে। সামান্য কিছু ডাক্তারি উপদেশ তাতেই কত যে ধন্যবাদ কুড়োলাম। আমরা নিজেরাই কৃতজ্ঞ, অভিভূত WBDF এর এই প্রচেষ্টায় যুক্ত হতে পেরে।"

চিকিৎসক পূর্ণেন্দু চক্রবর্তীও WBDF-এর এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলছেন, "অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। করোনা রোগী তো আছেনই। এই সময়ে মানুষের মধ্যে একটা ফিয়ার সাইকোসিস কাজ করছে, অনেকেই ভয়ে সিঁটিয়ে আছেন, তারা অ্যাসিওরেন্স পাচ্ছেন এই টেলিকলিংয়ে। শুধু রাজ্য নয় ভিন রাজ্য থেকেও ফোন আসছে। যতটা পারছি সাহায্য করছি মানুষকে। যতদিন করোনা পরিস্থিতি থাকবে আমরা এই পরিষেবা চালিয়ে যাব। আমাদের অনেকেই হাসপাতালে সরাসরি চিকিৎসা করছি, কাজেই সুবিধার জন্য সময় ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। আমি আপাতত সপ্তাহে তিনদিন পরিষেবা দিচ্ছি।"

এই সময়ে করোনার সামান্য উপসর্গ দেখলেই অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। যদিও চিকিৎসকরা বার বার বলছেন কো-মর্বিডিটি না থাকলে অথবা বিশেষ কয়েকটি গুরুতর উপসর্গ না থাকলে বাড়িতেই আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা সম্ভব। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পেরে অনেকটাই সাহস পাচ্ছে মানুষ।

চিকিৎসক দোলনচাঁপা দাশগুপ্ত বলছেন, "ডাক্তার আর রোগীর সম্পর্কটা তো বিষিয়ে দেওয়া হয়েছে শেষ কয়েক দশকে। সেই জায়গা থেকে অনেকেই ভয় নিয়ে ফোন করছেন প্রথমে। উল্টোদিকে আমি যখন তাঁকে অভয় দিচ্ছি, বুঝিয়ে কথা বলছি, তাতে রোগী অনেকটা সাহস পচ্ছেন। ভুল ধারণাগুলি কেটে যাচ্ছে। আমি আজ ১২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছি। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই ভাল ছিল না। তাদের পরবর্তীতে কী করতে হবে, সেটা বলে দিয়েছি। ফোন পেয়েছি সুদূর ঋষিকেশ থেকেও। গোটা কাজটাই ভারত সরকারের নিয়ম মেনে করছি। রোগীদের একটা কনসেন্ট ফর্ম পাঠাতে হচ্ছে। বহু মানুষ এর বিনিময়ে টাকা দিতে চাইছেন, তাদের বলছি আমরা টাকার বিনিময়ে এই কাজটা করছি না। আমার মনে পড়ে যাচ্ছে, শপথ নেওয়ার দিনটার কথা। ধর্ম, রাজনৈতিক বিশ্বাস এগুলি যে রোগী আর চিকিৎসকের মধ্যে কোনও অন্তরায় হতে পারে না-তা আজ বোঝা যাচ্ছে ভীষণ ভাবে।"

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

লেটেস্ট খবর