corona virus btn
corona virus btn
Loading

যাত্রী সংখ্যা অনেকই কম, বাস চালাতে গিয়ে ফাঁপড়ে ভলভো বাস মালিকরা !

যাত্রী সংখ্যা অনেকই কম, বাস চালাতে গিয়ে ফাঁপড়ে ভলভো বাস মালিকরা !

যারা শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার,আসানসোল বা পুরী ভলভো বাস চালাতেন। তারা এখন সেই বাস চালাচ্ছেন বারাকপুর, শ্রীরামপুর, হাবড়া, বনগাঁর মতো স্বল্প দুরত্বে। সরকার ঠিক করে দিয়েছে ভাড়া।

  • Share this:

#কলকাতা: সরকারি অনুরোধে বাস চালাতে গিয়ে এবার ফাঁপড়ে পড়েছেন ভলভো বাস মালিকরা। গত শুক্রবার রাজ্য পরিবহণ দফতর বৈঠক করে বেসরকারি ভলভো বাস মালিকদের সাথে। সেই বৈঠকে আবেদন জানানো হয় বাস চালানোর জন্যে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার থেকে রাস্তায় বাস নামিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি ভলভো বাস।

যারা শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার,আসানসোল বা পুরী ভলভো বাস চালাতেন। তারা এখন সেই বাস চালাচ্ছেন বারাকপুর, শ্রীরামপুর, হাবড়া, বনগাঁর মতো স্বল্প দূরত্বে। সরকার ঠিক করে দিয়েছে ভাড়া। সরকার ছাপিয়ে দিচ্ছে টিকিট। যদিও তেল-সহ বাকি খরচ মেটাতে হচ্ছে এই সংস্থাগুলিকেই। গত ১০ দিন ধরে যে ভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে তাতে এই বাস স্বল্প দূরত্বে চালাতে গিয়ে দু'দিনেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বাস মালিকদের। ফলে এখন বাস মালিকদের অবস্থা অনেকটাই ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচির মতো। রাজ্য সরকার তিন ভলভো পরিবহণ সংস্থা শ্যামলী, রয়্যাল ক্রুজার ও গ্রিন লাইনারকে দায়িত্ব দিয়েছে এই বাসগুলি চালানোর।

লকডাউন অধ্যায়ে গত তিনমাস ধরে এই সমস্ত দামি বাস বসে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলেন বাস মালিকরা। যদিও বাসের পরিকাঠামোগত নানা দিক দেখতে গিয়ে খরচ হয়েছে বহু টাকার। এই অবস্থায় বাসের ব্যাটারি বা বাকি যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল। সেই অসুবিধার জন্যেই সরকারের অনুরোধ মেনেই রাস্তায় স্বল্প দুরত্বের জন্যে নামল ভলভো বাস। যদিও সেই বাসের খরচ ওঠাতে গিয়ে এখন ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন বাস মালিকরা। তিন সংস্থার হিসেব বলছে ৪০ থেকে ৪৫ আসনের বাসে যাত্রী হচ্ছে কোথাও ৮ বা কোথাও ১০। সারাদিনে তেল পুড়ছে ১০০ থেকে ১৫০ লিটার। যা প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার। আর টিকিট বিক্রি করে আয় হচ্ছে ৩০০০ বা ৪০০০ টাকা। যে টাকা চালক, কন্ডাক্টরদের দিতেই হচ্ছে। ফলে মালিকের ভাঁড়ার হচ্ছে শূন্য।

ভলভো বাস চালানোয় অত্যন্ত অগ্রণী সংস্থা রয়্যাল ক্রুজার। তাদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ধনঞ্জয় সিং বলছেন, "আমাদের ৪০ আসনের বাসে লোক হচ্ছে ৮ থেকে ৯ জন। বাসের আসনই তো ভরছে না। তাহলে আয় হবে কোথা থেকে আমাদের।" একই বক্তব্য শ্যামলী যাত্রী পরিবহণের মালিক অবনী ঘোষের। তবে তিনি জানাচ্ছেন, "বাসগুলো দীর্ঘদিন বসে ছিল। সরকারের অনুরোধে বাস চালিয়ে দিচ্ছি। কিছুটা বাসগুলোর জন্যে এটা ভালো। তবে কতদিন পারব তা জানিনা।" ইতিমধ্যেই তাদের অসুবিধার কথা রাজ্য পরিবহন দফতরকে জানিয়েছে ভলভো বাস মালিকরা।

আপাতত বাস চালানো বন্ধ না করলেও কতদিন বাস চালানো যাবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।  এসপ্ল্যানেড, করুণাময়ী সহ একাধিক জায়গায় গিয়ে দেখা গেল ভলভো বাস দাঁড়িয়ে আছে। সময় মতো বাস ছাড়লেও হচ্ছে না যাত্রী। এই সব ভলভো বাসে প্রথম ২ কিমি ভাড়া ২০ টাকা। ৩৫ কিলোমিটার ভাড়া ৮০ টাকা। অনেকের পক্ষেই এই ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব নয়। অনেকেই আবার এসি এড়িয়ে চলছেন। ফলে সংখ্যা বাড়লেও লাভ নেই বাস মালিকদের। ফলে এই ক্ষতির ধাক্কা সামলে কতদিন বাস চলবে তা নিয়ে সংশয়ে মালিকরা নিজেরাই।

Abir Ghoshal

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: June 16, 2020, 4:21 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर