corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনার দাপট ! হাসপাতালে চিকিৎসা জুটছে না ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর

করোনার দাপট ! হাসপাতালে চিকিৎসা জুটছে না ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর

কোভিড-১৯ প্রকোপে রাজ্যে থরহরি কম্প চলছে। করোনা থেকে বাঁচাতে বাকি সব চিকিৎসা লাটে ওঠার জোগাড়।

  • Share this:

#বামনগাছি, উত্তর ২৪ পরগনা: এও এক মাতৃত্বের লড়াই। কোভিড-১৯ প্রকোপে রাজ্যে থরহরি কম্প চলছে। করোনা থেকে বাঁচাতে বাকি সব চিকিৎসা লাটে ওঠার জোগাড়। করোনা ছাড়াও অনেক মারণ ব্যাধি রয়েছে। কোভিডের দাপটে সেই সব রোগের চিকিৎসা জুটছে না অনেকেরই। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জটিল রোগে চিকিৎসা জোটা প্রায় কল্পকথা।

ভ্যানচালক পিতার দু’বছরের ক্যান্সার রোগগ্রস্থ কন্যা প্রিয়াংশী সাহার কাহিনী এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। মা-বাবা তাঁদের মুমূর্ষু কন্যাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে চলেছেন জিয়নকাঠির ছোঁয়া পেতে। বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে দুবছরের কন্যার চিকিৎসা জুটছে না কোথাও। উত্তর চব্বিশ পরগনার বামনগাছির বিশ্বজিৎ সাহা ও তাঁর স্ত্রী পূজা সাহার চোখের জলকে সম্বল করে তাকিয়ে রয়েছেন অবিশ্বাস্য ভাবে কোনও এক জাদুকরের খোঁজে ৷ যদি তাঁর ক্যান্সারে আক্রান্ত  কন্যার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।

করোনা আক্রান্তদের অনেকেই চিকিৎসা হয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরছেন। কিন্তু পূজার দু’বছরের কন্যার জুটছে না চিকিৎসা। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় কার্যত অসহায় ভাবে ভাগ্যের হাতে নিজেদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন তারা। অপেক্ষায় দিন গোনা ছাড়া আজ করণীয় কিছু নেই। ক্যান্সার রোগী দু’বছরের ফুলের মত প্রিয়াংশীর জোটেনি চিকিৎসা,  জুটেছে কেবল উপেক্ষা। অভিযোগ তাকে   চিকিৎসার জন্য একে একে  আর জি কর, মেডিক্যাল কলেজ, বারাসাত হাসপাতাল ও বারাসাত ক্যান্সার রিসার্চ হাসপাতাল কার্যত মুখ ফিরিয়েছে। প্রথম  কেমো দেওয়ার পর আর দ্বিতীয় কেমো দেওয়ার আগে শুরু হয় লকডাউন। পূজার সব হিসাব উল্টে পাল্টে দিয়েছে করোনা।

প্রিয়াংশীর বাঁচার জন্য জরুরি কেমো দেওয়ার ৷ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।পূজার দাবি তারপরই চিকিৎসক  বলেছেন, এ সময়  তাঁরা নিরুপায়।  দিনের পর দিন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পিংপং বলের মত ছোড়াছুড়ি হতে থাকা চিকিৎসাহীন কন্যাকে বামনগাছির বাড়িতেই ফিরিয়ে এনেছেন মুমূর্ষু প্রিয়াংশীর বাবা মা। অন্তহীন অপেক্ষা তাঁদের।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে টিউমার অপারেশনের পরেই ম্যালিগন্যান্সি ধরা পড়ে প্রিয়াংশীর। একটি কেমো নিলেও তারপরে ক্রমশ অসুস্থ হতে থাকা প্রিয়াংশীর এখন চিকিৎসা জুটছে না। লক ডাউনের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা না করে হাসপাতাল থেকে তাঁদের নার্সিংহোমে যেতে বলা হয়েছে তাঁদের। নার্সিংহোমের তরফে জানানো হয়েছে, প্রিয়াংশীর পরিষেবা দেওয়া তাঁদের দুঃসাধ্য। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে এসে নিয়তির হাতে নিজেদেরকে সমর্পন করেছেন অসহায় পরিবার।

Rajarshi Roy

Published by: Bangla Editor
First published: May 10, 2020, 5:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर