করোনা! অমাবস্যার কালীপুজো কোনও ক্রমে সারছে মুখোপাধ্যায় বাড়ি

 করোনা! অমাবস্যার কালীপুজো কোনও ক্রমে সারছে মুখোপাধ্যায় বাড়ি

কোন্নগরের দোকান থেকে অল্প পরিমাণে ব্যবস্থা করলেও পাননি মা কালীর ফুল। পুজোর নিয়ম মেনে একশো আটটি লাল জবার মালাতেই পুজো হয় কালীর।

  • Share this:

প্রতিবারের অমাবস্যায় ধুমধাম করে চলে পুজো৷ ভক্তেরও অভাব হয় না। প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুজোতে এবার আয়োজনে কাটছাঁট। হুগলি জেলার কোন্নগরের বাঁশাইয়ে মুখার্জি বাড়ির কালীপুজোয় প্রতি অমাবস্যায় ভক্তের ভিড় হয় প্রচুর। প্রায় ৫০ বছরের পুজো এখন ভক্তের দ্বারাই চালিত। প্রতি অমাবস্যায় আয়োজন হয় প্রচুর। তবে এই অমাবস্যায় হঠাত্‍ই আয়োজনের ঘাটতি হল করোনার প্রভাবে।

সোমবার রাত থেকে এই পুজো শুরু,  তার আগে সোমবার সকালেই জোগাড় করতে হয় ফল ও ফুলের। রবিবার নির্দেশ আসে মধ্যরাত থেকে বন্ধ ট্রেন।  প্রাচীন এই পুজোর ফল ও ফুল সবটাই আসে কলকাতা থেকে। যার জন্য একমাত্র মাধ্যম হিসাবে বেছে নিতে হয় ট্রেন। বাড়ির ছেলে শুভাশিস মুখোপাধ্যায় নিজেই ফল ও ফুল আনেন।

ট্রেন বন্ধ হওয়ায় মাথায় হাত তাঁর। কোন্নগরের দোকান থেকে অল্প পরিমাণে ব্যবস্থা করলেও পাননি মা কালীর ফুল। পুজোর নিয়ম মেনে একশো আটটি লাল জবার মালাতেই পুজো হয় কালীর। ট্রেন বন্ধ থাকার জন্য তা কোনও ভাবেই মেলেনি, যার ফলে লাল জবার দিয়েই চলছে মালা তৈরির কাজ।

শুভাশিস জানান, প্রতি অমাবস্যার দিনেই ফুল ও ফল আনা হয়। এইবারে প্রথম তা আনতে পারলাম না, এইবার নম নম করেই পুজো হবে। ফল ও ফুল ছাড়া ভোগের আয়োজন হয়। করোনার জেরে তার আয়োজনেও ঘাটতি।

প্রতি অমাবস্যায় দশ কেজি চাল ও ডাল দিয়ে হয় খিচুড়ি ও সব্জির তরকারি।  সকাল থেকে বিকাল হয়ে গেলেও তিন কেজির বেশি চাল-ডাল মেলেনি। বিভিন্ন মুদির দোকান ঘুরেও মেলেনি ভোগের জিনিস।  দীর্ঘদিন ধরে এই পুজো করে আসছেন সনৎ মুখোপাধ্যায়।  তিনি জানান, এইবারের অমাবস্যায় ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। করোনার প্রভাব যে এত তা মা কালীও বুঝতে পারেননি। অমাবস্যার রাত হলেই হয় ভক্তদের ভিড়। বহু দূর থেকে আসা ভক্তদের এইবার দেখা মিলবে না কারণ ট্রেন বন্ধ।

প্রতিবারেই আসেন মালবিকা রাহা শ্রীরামপুর থেকে। এইবার তিনি ফোনেই সব জানছেন পুরোহিতের থেকে। যদিও অমাবস্যার রাতে জমায়েত নিয়ে কড়া মন্দিরের পুরোহিত। বেশি জমায়েত হতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন সনৎ বাবু। পুজো দিয়েই যাতে চলে যান তার জন্য আবেদনও জানাবেন শুভাশিস।

 SUSOBHAN BHATTACHARYA

First published: March 23, 2020, 6:19 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर