কিতকিত, কুমির ডাঙা!‌ পরিবারের সঙ্গে সন্তানকে নিয়ে গৃহবন্দী জীবন কাটান আনন্দে

কিতকিত, কুমির ডাঙা!‌ পরিবারের সঙ্গে সন্তানকে নিয়ে গৃহবন্দী জীবন কাটান আনন্দে

সন্তান ঘুম থেকে ওঠার আগেই বানিয়ে ফেলুন বেশ কিছু প্ল্যান

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌ করোনা কাঁটায় জর্জরিত গোটা বিশ্ব। হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আমাদের দেশেও থাবা বসিয়েছে এই মারণ ভাইরাস। যার জেরে বদলে গিয়েছে কর্মসংস্কৃতি। এখন আর অফিস থেকে নয় বরং বাড়ি থেকেই কাজ করতে বলা হচ্ছে কর্মচারীদের। যাকে আমরা বলছি ‘‌ওয়ার্ক ফ্রম হোম’‌। বাড়িতে যখন রয়েছেন তখন বাড়ি থেকেই যে আপনি কাজ করবেন, তা বোঝাই যাচ্ছে। তবে এই করোনা আতঙ্কের মাঝেও যেন কোথাও সাপে বর হয়েছে ‘‌ওয়ার্কিং মাদার’‌–দের ক্ষেত্রে। যেসব মায়েরা কর্মরত তাঁরা যেন ‘‌ডাবল বোনাঞ্জা’‌ পাওয়ার মতই আপ্লুত। কারণ তাঁরা যেমন কাজও করবেন, তার পাশাপাশি নিজেদের সন্তানদের সঙ্গেও কাটাতে পারবেন ‘‌কোয়ালিটি টাইম।’‌ ইন্টারনেটের যুগে ল্যাপটপ সামনে রেখে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আপনার সন্তানকেও কি পাশে বসিয়ে পড়া খানিকটা এগিয়ে রাখবেন ভাবছেন? অনেকে আবার এরকমও বলতে পারেন যে, বাড়িতে বসে কাজ করা যায় নাকি? যা দস্যিপনা করে যে কাজই করতে পারি না।

হয়ত সেটা বলাটা খানিকটা স্বাভাবিক। তবে নিজের সন্তানের এনার্জি কীভাবে চ্যানেলাইজ করতে হবে ক্রিয়েটিভিটির দিকে, সেই কয়েকটা পয়েন্ট একটু আপনার জেনে রাখা দরকার। নিজের সন্তানের রুটিনটা একটু ক্রিয়েটিভ দিকে পুশ করুন। সে ঘুম থেকে ওঠার আগেই বানিয়ে ফেলুন বেশ কিছু প্ল্যান। হতে পারে পড়াশোনা, গেমস, আর্ট বা রান্না। বাচ্চা ছোট হলে তাঁকে আঁকার দিকে বেশি করে ইন্টারেস্টেড করে তুলুন। অনলাইনে গেলেই দেখতে পাবেন কত রকমের ক্রিয়েটিভ আর্টের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। সেইগুলো দিয়ে বাচ্চাকে এনগেজ করুন। সে হয়ত খানিকটা অপচয় করবে ঠিকই কিন্তু, যেহেতু অপানি পাশে আছেন, ওকে বোঝানো খুব একটা সমস্যার হবে না। কোলাজ পেপার কাটুন। ওর সঙ্গে আপনিও এই আর্টের আনন্দ নিন।
ফিঙ্গার পেইন্টিংও দারুন মজার। নিজের আঙ্গুলে রং লাগিয়ে তা দিয়ে তৈরি করে ফেলুন দারু ছবি। মাঝে মধ্যে কাজের ফাঁকে আপনিও শামিল হয়ে যান তার এই আনন্দে। কাজের থেকে একটু ফাঁকা হলেই বসুন সন্তানের সঙ্গে। রোজ রোজ এই সুযোগ আসে না। গল্প করুন তার সঙ্গে। দেখবেন এমন অনেক কিছুই আপনি তার বিষয়ে ডিসকভার করবেন যা হয়তো আগে আপনি জানতেন না। গাছের প্রতি যদি আপনার ভালোবাসা থাকে আপনার সন্তানকেও সেই দিকে ইন্টারেস্টেড করতে পারেন। বেশি না, আধঘন্টা একটু নিজের বারান্দার বা ছাদের গাছের যত্নে ওকেও সামিিল করুন। দুবেলা গাছে জল দেওয়া থেকে গাছের গোড়াটাকে পরিষ্কার করা, একটু সার দেওয়া এগুলো বাচ্চাদেরও ভালো এনগেজমেন্ট, সঙ্গে গাছের যত্নও নেওয়া হবে এতে। দুপুরে একটা ছোট ব্রেক নিন। যে সময়টা আপনি অফিসেও ব্রেক নিয়ে থাকেন। লাঞ্চের পরে ওকে একটু গল্পের বই পড়ে শোনান। হয়তো দেখবেন ওর আ্যটাচমেন্ট লেভেলটাও কোথাও আরও পোক্ত হবে। ভালো ছবি দেখুন কাজের পরে সন্তানের সঙ্গে। নেটের যুগে এক ক্লিকেই টিভির পর্দায় বাচ্চাদের কত ভাল ভাল ছবি দেখার সুযোগ রয়েছে। ওর সঙ্গে আপনিও চলে যাবেন নিজের ছেলেবেলায়। বিকেলটা কাজের পরে সন্তানের সঙ্গে তার বাবাকেও নিয়ে চলে যান বাড়ির ছাদে। বাড়িতে চক থাকলে কেটে ফেলুন কিতকিতের ঘর। আমি নিশ্চিত এটা তাঁর কাছে নতুন খেলা। ওকে সেখান নিজের ছোটবেলার খেলা গুলো। কিতকিত, কুমিরডাঙ্গা বা ছোঁয়াছুঁয়ি। যা এখন বিরল বললেই চলে। এগুলো সারাদিন বাড়িতে বসে থাকার ক্লান্তিও কাটাবে ভাল মতো। নিচে নেমে এসে রান্না ঘরে যাই করুন না কেন, অল্প ওদেরও বলুন সাহায্য করতে। নো ফায়ার কুকিং এর অনেক রেসিপি আছে। সেগুলোও ট্রাই করতে পারেন। বেকিং বাচ্চাদের একটা পছন্দের জিনিস। ওকে সঙ্গে নিয়ে বানিয়ে ফেলুন দারুন একটা কেক। দেখবেন এতে সবার মন ভালো হয়ে যাবে। SREEPARNA DASGUPTA
First published: March 21, 2020, 1:44 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर