অতি সূক্ষ্ম বায়ুকণা থেকেও সংক্রমণ সম্ভব! করোনা গবেষণায় সিঁদুরে মেঘ

অতি সূক্ষ্ম বায়ুকণা থেকেও সংক্রমণ সম্ভব! করোনা গবেষণায় সিঁদুরে মেঘ

এই যন্ত্রের সাহায্যেই সংক্রমণের কার্যকারণ খতিয়ে দেখা হয়।

বিজ্ঞানীরা চিন্তিত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা এরোসোলকে নিয়ে, সিগারেটের ধোঁয়ার মতন যেগুলি ছড়িয়ে পড়ে। এই ড্রপলেটগুলি বাতাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে বেড়াতে পারে।

  • Share this:

করোনা কী ভাবে ছড়ায়? ঠিক কতটা দূরত্ব রখতে হবে দু'জনের, করোনা সংক্রমণে এরোসলের ভূমিকা কী, এসব সাত পাঁচ প্রশ্ন নিয়ে গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়েই। এবার সামনে এল এমনই কয়েকটি ভয়াল প্রশ্নের উত্তর।

মেরিল্যান্ড ল্যাব ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় করোনা-আক্রান্ত রোগীদের একটি শঙ্কু আকৃতির যন্ত্রের চওড়া প্রান্তে মুখ রেখে বসানো হয়। তাঁদের কিছু বলতে বলা হলে কেউ গান গাইতে থাকেন অথবা কেউ আবৃত্তি শুরু করেন। অনেকে আধঘন্টা চোঙায় মুখ রেখে চুপ করে বসেও থাকেন। কেউ কেউ তাঁদের মধ্যে আবার কেশেও ফেলেন। এই গবেষণায় যাঁদের বসানো হয়েছিল, তাঁদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা সব কিছু ওই শঙ্কু আকৃতির যন্ত্র টেনে নেয়। রোগীদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা লালা, কফ, থুতু- যাবতীয় কিছু নিজের কাছে টেনে নেওয়া এই যন্ত্রটির নাম জেসানডেইট ২। করোনা কেমন করে ছড়ায়, তা জানতেই পরীক্ষাটি হয়েছিল। এখন বৈজ্ঞানিকদের এই যন্ত্রটি তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

করোনা আক্রান্তদের হাঁচি অথবা কাশির ফলে লালারস  অন্য কারও গায়ে গিয়ে পড়লে সেই ব্যক্তিও করোনার শিকার হতে পারেন- তা সবারই জানা কথা। কিন্তু, কাশি-হাঁচি অথবা কথা বলার মাধ্যমে ছিটকে পড়া এই লালারস বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে।

সূক্ষ্ম আকারের যে ড্রপলেট কাশি-হাঁচির মধ্যে দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তা অনেক দূর পর্যন্ত ভেসে চলে যেতে পারে বলে বৈজ্ঞানিকদের মত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে করোনা-আক্রান্তদের থেকে নির্গত সূক্ষ্ম ড্রপলেটগুলিই ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তোলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নাক, মুখ এবং চোখ দিয়ে ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস মানুষের দেহে ঢুকে যায়।

এখন অবশ্য বিজ্ঞানীরা চিন্তিত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা এরোসোলকে নিয়ে, সিগারেটের ধোঁয়ার মতন যেগুলি ছড়িয়ে পড়ে। এই ড্রপলেটগুলি বাতাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে বেড়াতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের কোভিড ১৯ ড্রপলেটগুলি শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। এই ধরনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা এরোসেলের ৬ ফুট দূরত্ব ভেসে যাওয়া কোনও ব্যাপারই নয়। তাই একে অন্যের থেকে ৬ ফুটের বেশি সোশ্যাল ডিসট্যান্স রাখা উচিত বলে জানান, ভার্জিনিয়া টেকের গবেষক অন্যতম প্রধান গবেষক লিনসে মার।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক উইলিয়াম রিস্টেনপার্ট জানান, মুখ অথবা নাক থেকেই যে এই লালরসের কণাগুলি হাঁচি কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে তার কোনও মানে নেই। টিস্যু পেপারে যদি করোনা আক্রান্ত হেঁচে অথবা কেশে তা যেখানে-সেখানে ফেলে দেন, তার থেকেও বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই যাঁরা এই আবর্জনা ফেলবেন অথবা পরিষ্কার করবেন, তাঁরা যেন সব সময় মুখে মাস্ক পরে থাকেন।

Written By: Kaustav Ganguly

Published by:Arka Deb
First published: