corona virus btn
corona virus btn
Loading

স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি, পুকুরপারে কোয়ারেন্টাইন বানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিক

স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি, পুকুরপারে কোয়ারেন্টাইন বানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিক
এভাবেই রাত কাটাচ্ছেন রঞ্জিতবাবু।

তাঁকে একেবারে একঘরে করে দেননি গ্রামবাসীরাও। উ সারা রাত যাতে একা না থাকেন তার জন্য গ্রামবাসীরা তাকে পাহাড়া দেবেন বলে জানিয়েছেন।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: ভিন রাজ্য থেকে ফিরেছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা না হওয়ায় বাড়ি থেকে কিছু দূরে পুকুর পাড়ে কোয়ারেন্টাইন করে রয়েছেন রায়গঞ্জ ব্লকের শীশগ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত বর্মন। অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

রায়গঞ্জ ব্লকের ১২-বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শিসগ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত বর্মন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ৬ মাস আগে বেনারসে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিলেন। কাজকর্ম ঠিকই চলছিল। আচমকাই দেশ জুড়ে শুরু হয় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে লকডাউন। রাজমিস্ত্রীর কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। লকডাউন জারি হওয়ায় বাড়িতেও আসতে পারছিলেন না রঞ্জিতবাবু।

এ দিকে কিছুদিন যাওয়ার পরে  যে সংস্থায় কাজ করতেন  সেখানকার কর্তৃপক্ষও থাকতে দেননি। বাড়ি যাবার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। দিন কয়েক পরে কেন্দ্রীয় সরকার ভিন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের জন্য কয়েকটি স্পেশাল ট্রেন চালু করলে, সেই ট্রেনে চড়েই গতকাল রাতে কাটিহারে এসে পৌছান রঞ্জিতবাবু।

কাটিহারে কোন গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটেই বাড়ির উদ্যেশ্যে রওনা দেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজের গ্রামে এসে পৌছান। রঞ্জিতবাবু গ্রামে পৌঁছে বাড়িতে না ঢুকে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে পুকুর পাড়ের ধারে খোলা আকাশের নীচে চলে আসেন।বহু উৎকন্ঠার পর দীর্ঘদিন বাদে স্বামী বাড়িতে ফেরায় স্ত্রী সহ পরিবারের লোকজন বাড়িতে যাবার জন্য বলেন।পরিবারের আবেদন তৎক্ষনাত তিনি ফিরিয়ে দেন।রঞ্জিতবাবু নিজেই তাঁদের জানিয়ে দেন ভিনরাজ্য থেকে কোন ব্যাক্তি বাড়ি ফিরলে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরতে চান না।

বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে পাটি পেড়ে একটি জলের বোতল ও এক প্যাকেট ধুপকাঠি নিয়ে রাত্রি যাপন করা শুরু হয়।রঞ্জিত বর্মন জানিয়েছেন, বাইরে এতদিন কষ্ট হয়েছে। এই সামান্য কষ্ট করে পরিবার এবং নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করতেই পারবেন  তিনি।

রঞ্জিতবাবুর স্ত্রী জানিয়েছেন,দীর্ঘদিন বাদে স্বামী বাড়ি ফিরেছেন।বাড়িতে না এসে ফাঁকা জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাড়িতে আসার কথা বললে তিনি আসতে চাইছেন না।তাই জোর করা হয় নি।বসে থাকার পাটি পেতে দেওয়া হয়েছে।সেখানেই বসে সময় কাটাচ্ছেন রঞ্জিতবাবু।

তাঁকে একেবারে একঘরে করে দেননি গ্রামবাসীরাও। উ সারা রাত যাতে একা না থাকেন তার জন্য গ্রামবাসীরা তাকে পাহাড়া দেবেন বলে জানিয়েছেন।

Published by: Arka Deb
First published: May 16, 2020, 11:41 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर