Home /News /coronavirus-latest-news /
বাবা বাসচালক, নিজে স্কুল ছেড়েছিলেন ১৬-এ... এই নারীই বিশ্বে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন করোনাভাইরাস

বাবা বাসচালক, নিজে স্কুল ছেড়েছিলেন ১৬-এ... এই নারীই বিশ্বে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন করোনাভাইরাস

১৯৬৪ সালে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের গবেষণাগারে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছিলেন ডঃ আলমেইডা

  • Share this:

    #লন্ডন: বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটা নাম-- করোনা ভাইরাস! এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্ব যেন মৃত্যুপরি, লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে মৃত্যের সংখ্যা । জানেন করোনাভাইরাস কে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন?  তিনি জুন আলমেইডা নামে এক বৈজ্ঞানিক। পৃথীবিতে তিনিই সর্বপ্রথম যিনি আবিষ্কার করেন এই মারণ ভাইরাসের অস্তিত্ব। জুন আলমেইডা ছিলেন স্কটল্যান্ডের এক বাসচালকের কন্যা। ১৬ বছর বয়সে তিনি স্কুল ছেড়েছিলেন।

    ভাইরাস ইমেজিংয়ে গোটা বিশ্বে অগ্রণী ছিলেন জুন আলমেইডা। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্বে যখন মৃত্যুমিছিল, তখন ফের একবার কেন্দ্রবিন্দু জুন আলমেইডা ও তাঁর গবেষণা।

    কোভিড-১৯ একটি নতুন ধরণের ভাইরাস, তবে সেটি করোনাভাইরাসেরই একটি প্রজাতি। ১৯৬৪ সালে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের গবেষণাগারে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছিলেন ডঃ আলমেইডা।

    ১৯৩০ সালে জুন হার্টে জন্মগ্রহণ করেন জুন আলমেইডা, গ্লাসগোর আলেজান্দ্রা পার্কের কাছাকাছি টেনেমেন্ট এলাকায় বড় হয়ে ওঠেন তিনি। পুঁথিগত বিদ্যা বেশি ছিল না তাঁর, ১৬ বছর বয়সেই ছেড়েছিলেন স্কুল। এরপর গ্লাসগো রয়্যাল ইনফার্মারিতে হিস্টোপ্যাথলজিতে গবেষণাগার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন। এরপর পাড়ি দেন লন্ডনে। ১৯৫৪ সালে তিনি এনরিক আলমেইডাকে বিয়ে করেন, যিনি ছিলেন একজন ভেনেজুয়েলান শিল্পী।

    চিকিত্‍সা বিষয়ক লেখক জর্জ উইন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই দম্পতি ও তাঁদের মেয়ে কানাডার টরেন্টোতে পাড়ি দেন। সেখানে অন্টারিও ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে ডঃ আলমেইডা একটি ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কোপ নিয়ে তার অসামান্য দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তিনি একটি পদ্ধতির আবিষ্কার করেছিলেন, যতে অ্যান্টিবডি সংহত করার মাধ্যমে ভাইরাসগুলি আরও পরিষ্কারভাবে দেখা সম্ভব হয়।

    মি. উইন্টার বিবিসি রেডিও স্কটল্যান্ডকে বলেছেন, তার এই প্রতিভার বিষয়টি লন্ডনের নজর কাড়ে। ১৯৬৪ সালে তাঁকে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজে কাজের অফার দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। এই সেই হাসপাতাল, যেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের চিকিত্‍সা হয়েছিল।

    লন্ডনে ফিরে আসার পর তিনি ডঃ ডেভিড টাইরেলের সঙ্গে গবেষণা শুরু করেন, যিনি তখন উল্টশ্যায়ারের সালসবিউরিতে সাধারণ ঠাণ্ডা-জ্বর বা Common cold নিয়ে গবেষণা করছিলেন।

    মি. উইন্টার বলন, ডক্টর টাইরেল অনুনাসিক ধোয়া বা নেজাল ওয়াশিং- ওপর গবেষণা করছিলেন। তাঁর গবেষকদের টিম আবিষ্কার করে যে তাঁরা বেশ কয়েকটি সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস কালচার করতে পেরেছিলেন, কিন্তু সবগুলো নয়। তার মধ্যে একটি বিশেষভাবে নজরে আসে। সেটির নাম দেয়া হয়েছিল বি-৮১৪, যা এসেছিল ১৯৬০ সালে সারের একটি বোর্ডিং স্কুলের একজন ছাত্রের কাজ থেকে।

    করোনাভাইরাস হচ্ছে অনেকগুলো ভাইরাসের একটি গোত্র যা দেখতে অনেকটা মুকুটের মতো মনে হয়। গবেষকরা সেসব নমুনা জুন আলমেইডাকে পাঠান, যিনি নমুনার মধ্যে ভাইরাস কণা দেখতে পান। সেগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, এগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতো দেখতে হলেও পুরোপুরি তা নয়। তিনি সেইসময় যা শনাক্ত করেছিলেন, সেটি বিশ্বে করোনাভাইরাস হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

    Published by:Rukmini Mazumder
    First published:

    Tags: Coronavirus discovery

    পরবর্তী খবর