নাম বদলে পাকিস্তান পালানোর ছক ছিল লস্কর জঙ্গি তানিয়ার! চাঞ্চল্যকর তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে

তানিয়া পারভিন।

গত মার্চ মাসে তানিয়াকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। গুরুত্ব বুঝে ৯ এপ্রিল ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-কে তুলে দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

  • Share this:

সুজয় পাল: লস্কর জঙ্গি তানিয়া পারভিনকে হেফাজতে পাওয়ার পরই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এল গোয়েন্দাদের। তাকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, এ রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করার পরে পাকিস্তান যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। পাকিস্তান পালিয়ে যাওয়ার জন্য সব রকম প্রস্তুতিও জোর কদমে শুরু করে দিয়েছিল তানিয়া।

তানিয়াকে জেরা করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, পাকিস্থানে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট তৈরি কাজ শুরু করেছিল সে। তবে এ দেশ থেকে সেই কাজ সম্ভব নয় বলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশ হয়ে পাকিস্তানে যেতে চেয়েছিল তানিয়া। সেজন্য মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশে গিয়ে কিছুদিন সেখানেই নাম বদল করে থাকার পরিকল্পনা ছিল। তারপর সেখান থেকে নতুন নামে পাসপোর্ট বানিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এই লস্কর জঙ্গির।

তার কাছ থেকে পাওয়া একটি পাকিস্তানের সিম থেকেই এই জট খুলতে সুবিধা হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। পাশাপাশি তার থেকে পাওয়া মোবাইলে ছিল একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও। যেখানে তানিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের গ্রুপ সদস্যের কথোপকথনের প্রমাণ মিলেছে।

পাকিস্তানি সিম ও পাকিস্তানের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তানিয়া কথোপকথনের বিষয় তাকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তানিয়া গোয়েন্দাদের জানায়, পাকিস্তান চলে যাওয়ার তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অনেকটাই পৌঁছে গিয়েছিল। দু'বছরে এই জঙ্গি সংগঠনের হয়ে সে যা কাজ করেছে, তার জন্যই বাড়তি দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেজন্যই তার পাকিস্তান যাওয়ার ডাক পড়ে। যদিও গোয়েন্দারা তার সমস্ত পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এ রাজ্যে লস্করের সংগঠন বিস্তার ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনার দায়িত্ব তানিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। পড়াশোনায় মেধাবী তানিয়া একাধিক ভাষায় যথেষ্ট দক্ষ। আরবি ভাষায় সে মাস্টার ডিগ্রি করছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রেমের ফাঁদ পাতার চেষ্টা করত তানিয়া। সেখানে তার টার্গেট ছিল মূলত পুলিশ কিংবা দেশের সুরক্ষা বাহিনীতে চাকরি করা অবিবাহিত যুবকরা। এর পাশাপাশি নিজের সংগঠন বিস্তারের কাজও চালিয়ে যেত সে। হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মত সুরক্ষিত অ্যাপ ব্যবহার করে সংগঠন বিস্তারের কাজ চালাচ্ছিল তানিয়া। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি সিরিয়ায় জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখার কথাও ভেবেছিল এই তরুণী। তবে তার সব 'স্বপ্ন' ভেস্তে দিয়েছে গোয়েন্দারা।

গত মার্চ মাসে তানিয়াকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। গুরুত্ব বুঝে ৯ এপ্রিল ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-কে তুলে দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুক্রবার তানিয়াকে নিজেদের হেফাজতে নেয় গোয়েন্দারা। তারপরেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের।

Published by:Arka Deb
First published: