• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • করোনায় মৃতদের মধ্যে দিনে ১২ ঘণ্টা কাটান, মানবসেবায় ভীত নন এই ওয়ার্ড বয়

করোনায় মৃতদের মধ্যে দিনে ১২ ঘণ্টা কাটান, মানবসেবায় ভীত নন এই ওয়ার্ড বয়

প্রতীকী চিত্র৷

প্রতীকী চিত্র৷

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত তিন মাসে অনেক কিছুর সাক্ষী থেকেছেন ইয়েলেয়া৷

  • Share this:

    #হায়দ্রাবাদ: করোনার ভয়ে কাঁটা আমজনতা৷ করোনার সঙ্গে যাঁরা সামনে থেকে লড়াই করছেন, তাঁদেরকেও আতঙ্ক গ্রাস করেছে৷ এটা যেমন একটা দিক, সেরকম অনেকেই রয়েছেন যাঁদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা বুক চিতিয়ে করোনার সঙ্গে লড়ছেন৷

    সেরকমই এক ব্যক্তির খোঁজ মিলল তেলেঙ্গনায়৷ ওই ব্যক্তির নাম পি ইয়েলেয়া৷ তিনি পেশায় হায়দ্রাবাদের গান্ধি জেনারেল হাসপাতালের মর্গের ওয়ার্ড বয়৷ করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মৃতদেহ ওই মর্গেই রাখা হচ্ছে৷ সেখানেই প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা করে কাটাতে হচ্ছে ওই ওয়ার্ড বয়কে৷ তার পরেও করোনাকে এতটুকু ভয় পাচ্ছেন না তিনি৷ হাসিমুখেই ওই ওয়ার্ড বয় বলছেন, এটাই তাঁর দায়িত্ব৷

    করোনায় আক্রান্ত হয়ে তেলেঙ্গনায় এখনও পর্যন্ত ৪৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই গান্ধি জেনারেল হাসপাতালে মারা গিয়েছেন৷

    ৪০ বছর বয়সি ইয়েলেয়া প্রথমে হাসপাতালের বার্ন ওয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন৷ গত এপ্রিল মাসে তাঁকে হাসপাতালে মর্গে কাজ করতে পাঠানো হয়৷ তাতে এতটুকু বিরক্ত নন তিনি৷ উল্টে ইয়েলেয়া বলছেন, তিনি মানবতার সেবা করতে ভালবাসেন৷ এই কাজ করলে তাঁর পরিবারকে মানুষ আশীর্বাদ করবে বলেও আশাবাদী এই ওয়ার্ড বয়৷

    এই হাসপাতালে ২০০৪ সাল থেকে কাজ করছেন ইয়েলেয়া৷ তার আগে স্কুল বাস চালাতেন তিনি৷ এখন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে কাজ করতে হয় তাঁকে৷ বেতন পান ১০ হাজার টাকার সামান্য বেশি৷ তার পরেও কোনও অভিযোগ নেই তাঁর৷

    এমনিতে হাসপাতালের তরফে সংক্রমণ থেকে বাঁচতে যাবতীয় সুরক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে তাঁকে৷ কিন্তু হাসপাতালের মর্গে কাজ করার যে মানসিক ধকল, তাতেও এতটুকু টলে যাননি ইয়েলেয়া৷

    করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত তিন মাসে অনেক কিছুর সাক্ষী থেকেছেন ইয়েলেয়া৷ কখনও মর্গে থাকা প্রিয়জনের মুখ দেখে সংজ্ঞা হারিয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা৷ আবার কখনও করোনায় মৃত রোগীর পরিবারের লোকই সংক্রমণের ভয়ে পালিয়ে গিয়েছেন৷

    ইয়েলেয়ার কথায়, বাড়ি ফিরে সারাদিনের এই সমস্ত ভয়াবহ অভিজ্ঞতা মাথায় রাখেন না তিনি৷ নিজের সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটান আর রাতে ভাল ভাবে ঘুমোন৷ তিনি যা করছেন, সেটাকে সেবা হিসেবেই ধরেন এই ওয়ার্ড বয়৷

    ইয়েলা জানিয়েছেন, তাঁর বড় ছেলেকে তিনি চিকিৎসক করার স্বপ্ন দেখেন৷ ছেলে যথেষ্ট মেধাবী হওয়ায় আরও আশাবাদী ইয়েলেয়া৷ ওই ওয়ার্ড বয়ের দাবি, তাঁকে দেখেই আরও অনুপ্রাণিত হয় তাঁর সন্তান৷ নিজের পরিবারও তাঁর পেশাকে সমর্থন করে বলেই জানিয়েছেন ইয়েলেয়া৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: