প্রবল আতঙ্কের মধ্যেও জীবনকে বাজি রেখে লড়ে যাচ্ছেন চন্দন, বাপ্পারা

প্রবল আতঙ্কের মধ্যেও জীবনকে বাজি রেখে লড়ে যাচ্ছেন চন্দন, বাপ্পারা।

প্রবল আতঙ্কের মধ্যেও জীবনকে বাজি রেখে লড়ে যাচ্ছেন চন্দন, বাপ্পারা।

  • Share this:

SHALINI DATTA

#কলকাতা: করোনা সংক্রমণের ভয়ে ঘরবন্ধ হয়ে রয়েছে সারা দেশ। কিন্তু তাঁরা চাইলেও সে উপায় নেই। কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁদের জীবনের ঝুঁকির তোয়াক্কা না করেই রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। চন্দন রায় পেশায় সরকারি বাসচালক। গতকাল থেকে কলকাতার রাস্তায় জরুরি পরিষেবার জন্য যাঁরা রাস্তায় বের হচ্ছেন, তাঁদের জন্য ছ'টি রুটে শুরু হয়েছে সরকারি বাস সার্ভিস। তবে বাস চলছে করোনা আতঙ্ক মাথায় রেখেই। বলে দেওয়া হয়েছে, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এমন ব্যক্তি ছাড়া কেউই আর বাসে উঠতে পারবেন না। বাসে চড়তে পারবেন সর্বাধিক ২০ জন। সেই বাসই আজ চালিয়ে নিয়ে চলেছেন চন্দন। অথচ, তাঁর জন্য বরাদ্দ হয়নি কোনও মাস্ক। তিনি বলেন, "আমাদের মাস্ক দেওয়া হয়নি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ভীষণ কম। আমরা কোনও রকমে মুখে রুমাল বেঁধে কাজ করছি। কারণ, যাঁদের প্রয়োজন, তাঁরা তো অন্তত যেতে পারবেন।" সঙ্গী কন্ডাক্টর পবিত্র মণ্ডল বলেন, "যথাসম্ভব লোকের ছোঁয়াচ বাঁচিয়েই চলছি। তবে বাসে তো বিশেষ ভিড় হচ্ছে না।" চন্দন, পবিত্রের মতোই সকাল হতেই কাজে বেরিয়ে পড়ছেন বাপ্পা দাস। বাপ্পার সঙ্গী তরুণও সকালে এসে দোকান খোলেন। আবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যান। জোকায় ওষুধের ওই দুই দোকানদার করোনা নিয়ে যত না আতঙ্কিত, তার থেকে বেশি আতঙ্কিত ওষুধের জোগান নিয়ে। তাঁদের কথায়, "মাস্ক পড়ছি। স্যানিটাইজার দিয়ে হাত বারবার পরিষ্কার করে নিচ্ছি। এর বেশি কী-ই বা করব।" না থেমে বলে যান বাপ্পা, "তবে চিন্তা হচ্ছে ওষুধ নিয়ে। অনেক ওষুধই সাপ্লাই নেই। দিয়ে উঠতে পারছি না। যে সব ওষুধের জোগান আছে, তা-ই দিয়ে যাচ্ছি। কত দিন দিতে পারব জানি না। এখন ৮-৯ ঘণ্টার বদলে ১২ ঘণ্টা কাজ করছি। ওষুধ না পেয়ে মানুষ ফিরে যাবে, তা-ও হয় নাকি।" প্রবল আতঙ্কের মধ্যেও জীবনকে বাজি রেখে লড়ে যাচ্ছেন চন্দন, বাপ্পারা।

Published by:Simli Raha
First published: