যে সব দেশে চেপে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতির কথা, শুনুন তাদের বক্তব্য

যে সব দেশে চেপে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতির কথা, শুনুন তাদের বক্তব্য

এই তিন দেশ হয় সঠিক পরিসংখ্যান পেশ করছে না, নয় তো দাবি করছে যে তারা করোনায় সংক্রমিত নয়।

এই তিন দেশ হয় সঠিক পরিসংখ্যান পেশ করছে না, নয় তো দাবি করছে যে তারা করোনায় সংক্রমিত নয়।

  • Share this:

#ওয়াশিংটন: সারা বিশ্বকেই বিপর্যস্ত করে রেখেছে করোনাভাইরাস। এই অবস্থায় প্রতিটি দেশের কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO কত জন সংক্রমিত হল, কত জনের মৃত্যু হল, সেই হিসেব চেয়েছে। কিন্তু WHO-র অভিযোগ- তানজানিয়া, তুর্কমেনিস্তান, উত্তর কোরিয়া চেপে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতির কথা! এই তিন দেশ হয় সঠিক পরিসংখ্যান পেশ করছে না, নয় তো দাবি করছে যে তারা করোনায় সংক্রমিত নয়।

তানজানিয়া

পূর্ব আফ্রিকার তানজানিয়া বিগত মে মাসের পর থেকে করোনা সংক্রান্ত কোনও তথ্য পেশ করেনি। তারা সেই সময়ে জানিয়েছিল যে ওই দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫০১ আর মৃত ২১। তার পরে অদ্ভুত ভাবে এই দেশ মুখে কুলুপ এঁটেছে। WHO এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তথ্য চেয়েছে তানজানিয়ার কাছে, কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি।

অন্য দিকে, দেশের প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলি (John Magufuli) কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন নেওয়ার ব্যাপারেও কোনও ইচ্ছা প্রকাশ করেননি বিশ্বদরবারে। তাঁর দাবি- ৫৮ মিলিয়ন তানজানিয়ানের পক্ষে এই ভ্যাকসিন বিপদজনক এবং তা দেশের পক্ষে সঠিক নয়। এও শোনা গিয়েছে যে তিনি দেশবাসীকে প্রার্থনা করে করোনা তাড়াতে বলেছেন।

যদিও দেশের বৃহত্তম শহর দার উস সালামে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস এমব্যাসি সাফ জানিয়েছে যে দেশে দিন দিন করোনা সমস্যা প্রবল আকার ধারণ করছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার যে নতুন ধারা আবিষ্কৃত হয়েছে, জানা গিয়েছে যে তানজানিয়া থেকে ইউনাইটেড স্টেটস যাওয়ার সময়ে দুই যাত্রীর শরীরে তার অস্তিত্ব মিলেছে।

এর পরের ধাপে প্রেসিডেন্ট গির্জায় ভিড় জমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন এবং মাস্ক পরার কথা বলেছেন। যদিও তাঁর দাবি- দেশবাসী যেন একমাত্র দেশে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করেন, অন্য দেশে তৈরি মাস্ক স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ নয়। আবার দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর ডরোথি গাজিমা (Dr. Dorothy Gwajima) করোনার প্রতিরোধে ভেষজ ব্যবহারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সব মিলিয়ে তানজানিয়া অন্য দেশের পক্ষে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তুর্কমেনিস্তান

সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং, মাস্ক পরার মতো বিষয়গুলি চালু করেছে তুর্কমেনিস্তান। বন্ধ করেছে অন্য দেশে যাতায়াতও। কিন্তু এই পদক্ষেপ যে করোনার জন্য করা হয়েছে, সেটা তারা স্বীকার করতে রাজি নয়। এই বিষয়ে গত গ্রীষ্মে সরকার জানিয়েছে যে বাতাসের ধূলিকণা থেকে বাঁচতে মাস্ক পরে থাকা দরকার!

ইউনাইটেড স্টেটস এমব্যাসি জানিয়েছে যে এই দেশেও কিন্তু করোনায় আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। তাদের ইনফেকশাস ডিজিজ হাসপাতালে কোয়ারান্টাইন করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু আদতে করোনার কথা সরকার সরাসরি স্বীকার করছে না।

এই প্রসঙ্গে ইয়োরোপের এক এক্সাইল গ্রুপের কর্ণধার ডায়ানা সেরেব্রিয়ানিক (Diana Serebryannik) জানিয়েছেন যে তিনি এবং তাঁর স্বাস্থ্যদল যতটা পারছেন, মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। কারও মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাদের সজাগ করার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে,তুর্কমেনিস্তানে এখনও পর্যন্ত এরকম ৩৫০০ জনের চিকিৎসা তাঁরা করেছেন। কিন্তু লড়াইটা সহজ নয়। সেরেব্রিয়ানিক জানিয়েছেন যে এই কাজের জন্য দেশে যথেষ্ট অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ নেই, মেডিক্যাল ভেন্টিলেটর নেই, পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই কিট নেই!

এই প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে যে স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা নিয়ে কথা বলার অনুমতি সরকার থেকে মেলেনি। দেশে অন্তিম সৎকারের হার বেড়েছে যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে করোনায় মৃত্যুর হারও বেড়ে চলেছে। শুধু স্বাস্থ্যর্মীরাই নয়, দেশের মানুষদেরও করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার অধিকার নেই। জানা গিয়েছে যে গত জুলাইতে নুরগেলডি হ্যালিকভ (Nurgeldi Halykov) নামের এক ২৬ বছরের যুবক WHO টিমের কিছু সতর্কতা রি-পোস্ট করেছিলেন। এর পর গত সেপ্টেম্বরে তাঁকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগ- তিনি ত্রাস সঞ্চার করছেন!

এই পরিস্থিতিতে WHO যতটা পারছে, সরকারের সঙ্গে কথা বলে তুর্কমেনিস্তানে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সচেতন করার প্রচেষ্টাও চলছে।

উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া অবশ্য এই দিক থেকে কিছুটা হলেও তানজানিয়া এবং তুর্কমেনিস্তানের তুলনায় স্বচ্ছতা অবলম্বন করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা WHO-কে একটি রিপোর্ট দিয়েছে। সেই রিপোর্টের বক্তব্য- দেশের ১৫টি ল্যাবরেটরিতে ১৩,২৫৭ জনকে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। কিন্তু দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দাবি- এখনও পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ায় কোনও করোনা সংক্রমণের কথা ধরা পড়েনি।

যদিও দেশের অধিবাসীদের মাস্ক পরে চলাফেরার ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। বন্ধ হয়েছে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিশেষ করে বেজিংয়ের সঙ্গে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে সেটা উত্তর কোরিয়ার মতো ছোট দেশের পক্ষে মোটেই ভালো কিছু নয়, এমনটা চলতে থাকলে দেশের লোকে না খেতে পেয়ে মরবে।

অন্য দিকে, দেশের শাসক কিং জং উন (Kim Jong Un) মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভিড়ের মধ্যে, এই মনোভাব দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সঞ্চারের পরিপন্থী বলে উদ্বিগ্ন WHO!

WHO এই বিষয়ে আরও একটা কথা বলতে ভোলেনি। নানা দেশে ভ্যাকসিনেশনের কাজ শুরু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনও বিশ্বের অনেক কোণায় দাপট অব্যাহত রেখেছে করেনাভাইরাস। সেই দিকগুলো যদি সনাক্ত করা না যায়, তাহলে বিপদ কমবে না। সেই দিক থেকেই যেন সভ্যতার পক্ষে হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তানজানিয়া, তুর্কমেনিস্তান আর উত্তর কোরিয়ার গা-ছাড়া মনোভাব!

Published by:Pooja Basu
First published:

লেটেস্ট খবর