করোনা মারছে ‘ধনে-প্রাণে’, একাকীত্ব প্রভাব ফেলছে ব্লাডপ্রেসারে

করোনা মারছে ‘ধনে-প্রাণে’, একাকীত্ব প্রভাব ফেলছে ব্লাডপ্রেসারে
(Photo courtesy: AFP Relaxnews/ stockvisual/ Istock.com)

করোনাকালে সোশাল আইসোলেশন বাড়াতে পারে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা, দাবি সমীক্ষার৷

  • Share this:

#বুয়েনস আয়ার্স : করোনাকালে একাকীত্ব যেন আরও বেড়ে গেছে। আজকাল মানুষজন সামাজিকভাবেও বিচ্ছিন্ন। সংক্রমণের ভয়ে এখনও অনেকটা সতর্কভাবেই বাড়ির বাইরে পা ফেলছেন সবাই। কিন্তু এই একা থাকা বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আপনার উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়। আর্জেন্টিনার এই সমীক্ষা সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনের সময় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে।

এই বিষয়ে, আর্জেন্টিনার ফ্যাভালোরো ফাউন্ডেশন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সমীক্ষার লেখক মাটিয়াস ফোস্কো জানিয়েছেন, করোনার জেরে লকডাউন অর্থাৎ এই সোশাল আইসোলেশনের পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে আসা প্রায় রোগীর উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল। এই বিষয়টিকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতেই সমীক্ষাটি করা হয়েছে। আর সমীক্ষা শেষে একাধিক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে বিগত তিনমাস (২০ মার্চ -২০ জুন) সময়কালে ২১ বছর ও তার উপরে রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তচাপের বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়। পরে সেই পরিসংখ্যানকে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে জুন মাস ও ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে তুলনা করা হয়। প্রসঙ্গত, যে কোনও ইমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সময় ব্লাড প্রেসার মাপার বিষয়টি প্রায় বাধ্যতামূলক। তাই ২০১৯ সালের ২১ মার্চ থেকে এবছর মার্চ মাসের মধ্যে ভর্তি হওয়া রোগীদের ব্লাড প্রেসারের খতিয়ান পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি।

সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের কথায়, রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কফ-কাশি, হাইপারটেনশন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে মোট ১২,২৪১ জনের উপর সমীক্ষা করা হয়। গড় বয়স ছিল ৫৭ বছর। আর এদের মধ্যে ৪৫.৬ শতাংশই ছিলেন মহিলা। পরে দেখা যায়, রোগীদের মধ্যে প্রায় ২৩.৮ শতাংশের হাই ব্লাড প্রেসার রয়েছে। এবার বর্তমানের ব্লাড প্রেসারের সঙ্গে আগের সময়কালের একটি তুলনা করা হয়। দেখা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ-জুন মাস ও ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এই ব্লাড প্রেসারের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৭.৫ শতাংশ ও ১৫.৪ শতাংশ।


মাটিয়াস ফোস্কো আরও জানিয়েছেন, সোশাল আইসোলেশন ও হাই ব্লাড প্রেসারের মধ্যে একাধিক সম্পর্ক রয়েছে। চলতি প্যানডেমিকে অর্থাভাব, পারিবারিক সমস্যা, কাজের বাড়তি চাপ, অবসাদ, বাইরে বেরোনো বা মেলা-মেশা কমে যাওয়া সহ একাধিক বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। এর পাশাপাশি এইসময় ঘরে থেকে নানা পার্টি-আড্ডায় অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া দাওয়া ও জীবনশৈলীও নজরে পড়েছে। আর এই সমস্ত বিষয়ই বাড়িয়েছে ব্লাড প্রেসারের পরিমাণ।

গবেষকদের কথায়, উচ্চ রক্তচাপের নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক সহ একাধিক রোগের প্রবল সম্ভাবনা দেখা যায়। তাই এই করোনাকালে নিয়ন্ত্রিত জীবন খুবই জরুরি। উল্লেখ্য, ১৯-২১ নভেম্বর ৪৬ তম আর্জেন্টাইন কংগ্রেস অফ কার্ডিওলজিতে প্রেজেন্ট করা হবে এই সমীক্ষাপত্র।

Published by:Debalina Datta
First published: