• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • ‘‌দু’‌মিটারের মধ্যে এসে পড়েছিল একটি শিশু, আমার ছায়া দেখে আঁতকে উঠল সে!‌’‌

‘‌দু’‌মিটারের মধ্যে এসে পড়েছিল একটি শিশু, আমার ছায়া দেখে আঁতকে উঠল সে!‌’‌

করোনা আতঙ্ক নিয়ে জার্মানির বন থেকে লিখছেন শবনম সুরিতা

করোনা আতঙ্ক নিয়ে জার্মানির বন থেকে লিখছেন শবনম সুরিতা

করোনা আতঙ্ক নিয়ে জার্মানির বন থেকে লিখছেন শবনম সুরিতা

  • Share this:

    #বন: বাজার যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি।

    বাড়িতে পরার জামা-প্যান্ট ছেড়ে বাজারে যাবার বিশেষ জামা-প্যান্ট বের করলাম। কষে চুল বাঁধলাম। মাস্ক, গ্লাভস...শেষে মনে মনে বললাম “ব্যস! অবশেষে আমার করোনাকালীন সাজ সম্পন্ন হল।” বাড়ি থেকে বেরিয়েও নিস্তার নেই। দু'দিন আগে যখন শেষবার বাজারে গেলাম, ময়দার খোঁজে তন্নতন্ন করে দোকানের তাক হাতড়াচ্ছি। খেয়াল ‌নেই কখন আমার দু’মিটারের কম দূরত্বে এসে পড়েছে মোবাইল-হাতে শিশু। আমার ছায়া পড়ায় রীতিমতো আঁতকে উঠল সে। আমিও সরে গেলাম এক সেকেন্ডের মাথায়। এটাই বর্তমান জার্মানি। অন্তত আমার শহর বন তো বটেই। শুধু প্রাণ বাঁচাতে নয়, মান বাঁচাতেও মানতে হয় দূরত্বের নিয়ম, পড়তে হয় মাস্ক-গ্লাভস।

    প্রথম যখন কড়াকড়ি শুরু হল, অনেকেই মানছিলেন না নিয়ম। রোদের ওম উপভোগ করতে দিব্যি বিয়ার হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এদিক-সেদিক। কথাটা মনে গাঁথল যেদিন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল চাঁছাছোলা ভাষায় সাফ বলে দিলেন, “এখন যেমন অবস্থা, মানুষ যেভাবে চলছে, তাতে দেশের মোট ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আক্রান্ত হবেন।” ব্যস, পাহাড় প্রমাণ বাজারের থলি নিয়ে সুড়সুড় করে বাড়ি ঢুকে পড়তে লাগলেন সবাই। আমিও। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মেরেকেটে ছ-সাতবারের বেশি বাড়ি থেকে বেরোইনি। বাজারে গেছি চারবার হয়তো। সেখানে আমি চাই বা না চাই নিয়ম মেনে দূরত্ব বজায় রেখেই বাজার করতে হবে। ছাড়া পাড়ায় নদীর ধারে নির্জন রাস্তায় হেঁটেছি দু-একবার। কিন্তু এর বেশি কোথাও যাইনি। যাবও না, যতদিন না সরকার নতুন বিধি জানাচ্ছে। কিন্তু সবাই তা মানছেন কি? মনে হয় না।

    দিব্যি দেখলাম বুড়ো–বুড়ি হাত ধরাধরি করে বাজারে যাচ্ছেন, কফি-আইসক্রিম কিনছেন, রাস্তার ধারে বসে রোদ পোহাচ্ছেন। টিনেজারদের মাঝ রাস্তায় টিকটক ভিডিও বানানোও অপরিবর্তিত। কেন জানি না, ভয় পাচ্ছে‌ন না আমার শহরের মানুষরা। যখন লেখাটা লিখছি জার্মানিতে করোনায় আক্রান্ত একলাখেরও বেশি মানুষ। আমার রাজ্যে প্রায় ২৩ হাজার। আমার শহরে চারশো। তারপরেও যদি কেউ ভয় না পান, তার কারণ কী হতে পারে? বিশ্বের করোনা আক্রান্ত দেশগুলির মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন মৃত্যুহার হওয়ার জন্যই কি আত্মবিশ্বাস? চাপমুক্ত!‌ সরকারী স্বাস্থ্য পরিষেবায় আস্থা? নাকি নাগরিকদের মধ্যে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস? যে আমি যখন নিয়ম মানছি, পাশের মানুষটাও নিশ্চয়ই মানছে।

    মোবাইল হাতে সেই শিশুও আমাকে বিশ্বাস করেছিল যে আমি তার দু’মিটারের লক্ষণ রেখা পেরোব না। আমি পেরোতে গিয়েও শুধরে নিয়েছি নিজেকে। জার্মানিতে হোক বা ভারতে, নাগরিকরা নিজেদের শুধরোচ্ছেন তো?

    Published by:Uddalak Bhattacharya
    First published: