corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা বিধি উড়িয়ে স্কুলে খোলার তুঘলকি সিদ্ধান্ত, শোকজ প্রধানশিক্ষক, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ভাবনা পর্ষদের

করোনা বিধি উড়িয়ে স্কুলে খোলার তুঘলকি সিদ্ধান্ত, শোকজ প্রধানশিক্ষক, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ভাবনা পর্ষদের

২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্কুল বিদ্যালয় পরিদর্শককেও গোটা ঘটনার রিপোর্ট ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পাঠাতে বলেছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা আবহেই চলল স্কুল। রীতিমতো স্কুলের ক্লাস রুমে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করালেন শিক্ষক! না অবাক কান্ড নয় এ ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর ১ নম্বর ব্লকের হাটসরবেরিয়া বি সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে। বুধবার এই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস করানো হয়েছে। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অমান্য করেই বুধবার ক্লাস রুমে ক্লাস করানো শুরু হয়েছে বিতর্ক। বুধবার ক্লাস করানোর পর পরই শিক্ষা দফতরে খবর আসামাত্রই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবন ঘটককে শোকজ করা হয়।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্কুল বিদ্যালয় পরিদর্শককেও গোটা ঘটনার রিপোর্ট ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পাঠাতে বলেছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। বৃহস্পতিবার অবশ্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় আরও একধাপ এগিয়ে জানিয়ে দিলেন "রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।" যদিও গোটা ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

স্কুল খোলার জন্য বারে বারে আবেদন জমা পড়েছিল প্রধান শিক্ষকের কাছে। আবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সমস্ত নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে শুরু করা হবে পঠন-পাঠন। সেই মোতাবেক বুধবার থেকে স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরা বিদ্যালয় আসা শুরু করে দিল। শুধু তাই নয় ক্লাসরুমে স্কুলের শিক্ষকরা ক্লাস নিলেন ছাত্র-ছাত্রীদের। তবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্কুলে থার্মাল স্ক্রিনিং, স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে সামাজিক দূরত্ব মেনে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্কুলে পঠন-পাঠন শুরু হওয়াতে খুশি হয়েছিলেন অভিভাবক থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীরাও। কিন্তু রাজ্যের তরফে নির্দেশ রয়েছে কোনওভাবেই করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে স্কুল চালু করা যাবে না।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন পরিস্থিতি ঠিকঠাক হলে ৫ সেপ্টেম্বর এর পর থেকে স্কুল চালু করার ব্যাপারে ভাবা যাবে। সেটা অবশ্য উঁচু ক্লাসের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য করা হবে। যদিও বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আরও উদ্বেগের জায়গায় পৌঁছেছে। যদিও স্কুল খুললে তা কিভাবে চালু করা হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই পর্যালোচনাও শুরু করে দিয়েছেন রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। তারই মাঝে বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের এই স্কুল চালু হওয়াতে শুরু হয়েছে এক নয়া বিতর্ক। যদিও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন " রাজ্য সরকারের নিয়ম যারা মানবে না তাদের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ওই প্রধান শিক্ষক রাজ্যের নিয়ম মানেন নি। এটা উনি ঠিক করেননি বলেই আমার মনে হয়। রিপোর্ট আসুক আমরা ব্যবস্থা নেব।"

স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর বৃহস্পতিবার ঘাটাল মহকুমার এডিআই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। বৃহস্পতিবার সকালেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্কুল বিদ্যালয় পরিদর্শক পদের চিঠিও পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবন ঘটককে। দফতর সূত্রে খবর শোকজের উত্তর যথাযথ না হলে সাসপেন্ড পর্যন্ত করা হতে পারে ওই প্রধান শিক্ষককে। যদিও স্কুলের পরিচালন সমিতির এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একপ্রকার বিভাগীয় তদন্তের মধ্যেই যে পড়তে চলেছে তা একপ্রকার নিশ্চিত।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: August 13, 2020, 4:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर