corona virus btn
corona virus btn
Loading

সব লড়াই শেষ! করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর বাসুদেবনের

সব লড়াই শেষ! করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর বাসুদেবনের

তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল থেকে শুরু করে ইতিহাসবিদরা।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা ভাইরাস কাড়ল প্রাণ ৷ কোভিড ১৯-এ  আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ তথা ইমেরিটাস প্রফেসর হরিশঙ্কর বাসুদেবনের।মৃত্যুকালে  তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার রাত একটা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল থেকে শুরু করে ইতিহাসবিদরা।

সল্টলেকের সি ডি ব্লকের বাসিন্দা এই ইতিহাসবিদ এই মাসের শুরু থেকেই অসুস্থ ছিলেন। গত ৪ মে তাকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।গত বুধবার তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। হাসপাতালের তরফে জানা গিয়েছে, তারপরের দিন থেকেই প্রবল শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুরু হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।শনিবার রাত একটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয় বলে ওই হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন,  অধ্যাপক বাসুদেবন অন্যান্য ক্রনিক অসুখেও আক্রান্ত ছিলেন।

ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর বাসুদেবনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ শিক্ষামহল। ওঁর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস বলেন, "ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।ওর চলে যাওয়াতে গোটা ইতিহাস চর্চায় ক্ষতি হল।" বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা ইতিহাসবিদ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, "ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ৩০ বছরের। আমরা একসঙ্গে প্রচুর গবেষণা,সিলেকশন কমিটিতে কাজ করেছি। ওর চলে যাওয়া একটা অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের কাছে।"

ইতিহাসবিদ-অধ্যাপক হরিশঙ্কর বাসুদেবন দীর্ঘদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শোক প্রকাশ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন " ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর বাসুদেবন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এমেরিটাস প্রফেসর ছিলেন।ওনার মৃত্যু শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি নয় গোটা শিক্ষা জগতের ক্ষতি।"

ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর  বাসুদেবন কেমব্রিজের ক্রাইস্টস কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করেন । তার গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ভারত ও ইউরোপের গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন, রুশ-ভারত সম্পর্ক এবং সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি। বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরেই তিনি তার কর্মক্ষেত্র হিসাবে এই দেশকেই বেছে নিয়েছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ, দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া সহ এই দেশের বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন ইতিহাসবিদ হরিশঙ্কর বাসুদেবন।

তার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সিলেকশন কমিটি থেকে শুরু করে একাধিক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘ এক দশক এনসিইআরটি এর  সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের সিলেবাস ও টেক্সটবুক ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন  এই ইতিহাসবিদ।পাশাপাশি রুশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রকের উপদেষ্টা পদের দায়িত্বও পালন করেছেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির পাশাপাশি তাঁর একাধিক লেখা বইও রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ফুটস্টেপস অব অ্যাফানাসি নিকোটিন,শ্যাডোস অফ সাবস্টেন্স, ইন্দোনেশিয়ান ট্রেড অ্যান্ড মিলিটারি টেকনিক্যাল কর্পোরেশন। এছাড়াও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টোরিক্যাল রিসার্চের প্রাক্তন সদস্য ছিলেন হরিশঙ্কর  বাসুদেবন।

Somraj Bandopadhyay
Published by: Bangla Editor
First published: May 10, 2020, 4:18 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर