corona virus btn
corona virus btn
Loading

১১ বার রূপ পাল্টেছে করোনা!‌ ভাইরাসের চরিত্র বুঝিয়ে দিগন্ত উন্মোচন দুই বাঙালি বিজ্ঞানীর

১১ বার রূপ পাল্টেছে করোনা!‌ ভাইরাসের চরিত্র বুঝিয়ে দিগন্ত উন্মোচন দুই বাঙালি বিজ্ঞানীর
প্রতীকি ছবি (বাঁদিকে), বিজ্ঞানী পার্থ মজুমদার (ডানদিকে)

কল্যাণীতে বসে যে গবেষণা তাঁরা করেছেন, তা ক্যালিফোর্নিয়াতেও কাজে লাগবে মানুষের কল্যাণে, মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌ যেন মহিষাসুর!‌ ক্ষণে ক্ষণে রূপ পাল্টে বারবার আঘাত করা, এই চালাকি রপ্ত করেছে করোনা ভাইরাস। আর তাতেই বারবার নতুন রূপে শত্রুর সঙ্গে লড়াই শুরু করতে হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। আর সেই লড়াইয়ে এবার সামনের সারিতে দুই বাঙালি বিজ্ঞানী। যাঁদের গবেষণা নতুন করে করোনা শত্রুর চরিত্র চিহ্নিত করতে সাহায্য করছে। কল্যাণীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োমেডিকেল জেনোমিক্সের বিজ্ঞানী ডঃ পার্থ মজুমদার এবং অধ্যাপক নিধান বিশ্বাসের করা গবেষণা ভ্যাকসিন তৈরীর ক্ষেত্রে রসদ যোগাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

তাঁরাই জানিয়েছেন, ‌করোনা ভাইরাসের 'A2a' নামক একটি চরিত্র অন্যান্য চরিত্রগুলোকে পিছনে ফেলে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণে প্রথম সারিতে এসে বসেছে। তাঁদের এই নজিরবিহীন গবেষণা নিশ্চিতভাবেই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকটা অক্সিজেন দেবে। চলতি সপ্তাহেই এই বিষয়ে গবেষণাপত্রটি ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে স্বীকৃতি পেতে চলেছে। এই গবেষণা পত্রিকাটি প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চ বা আই সি এম আর। সেখানেই প্রকাশিত হবে এই গবেষণা পত্র।

দুই বাঙালি বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখিয়েছেন করোনাভাইরাসের ‘‌A2a’‌ রুপটি মানুষের ফুসফুসে বেশি সংখ্যায় প্রবেশ করে সংক্রমণ করতে পারে। এর আগে SARS-COV ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১০ বছর আগে ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সংক্রমিত হয়েছিলেন আটহাজার জন। যদিও এই ভাইরাসও ফুসফুসকেই সংক্রমিত করত। কিন্তু করোনা ভাইরাসের এই 'A2a'‌ রূপটির মত নয়। গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের এই রূপটি খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে যেতে পারে ও সংক্রমিত করতে পারে।

তাই এর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে ভাইরাসের প্রকৃতি, জেনেটিক টাইপ, তাছাড়া কীভাবে ফ্রেন্ড প্রোটিন বা বন্ধু প্রোটিন খঁুজে এরা শরীরে জাঁকিয়ে বসছে সেটা দেখা দরকার। সেক্ষেত্রে এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত ভ্যাকসিন তৈরীর ক্ষেত্রে শত্রুকে চেনা প্রয়োজন, তাই এই গবেষণা ভ্যাকসিন তৈরিতেও সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

৪ মাস আগে চিনের উহান শহরে ‘‌O' রূপের ভাইরাসকে দেখা গিয়েছিল। গবেষকদের গবেষণা বলছে বর্তমানে এই 'A2a' রূপটি করোনা ভাইরাসের অন্যান্য সব রূপকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী পার্থ মজুমদার বলছেন ‘‌গবেষণায় দেখা গেছে করোনাভাইরাস এর সব চরিত্রের মধ্যে A2a চরিত্রটি সবথেকে বেশি আক্রমনাত্মক।’‌

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর বায়োমেডিকেল জিনোমিক্সের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটির জন্য GISAID নামক একটি ডেটাবেস থেকে সারা বিশ্বের আরে RNA –এর সিকুয়েন্স ডেটা সংগ্রহ করেছেন। মূলত বিজ্ঞানীরা ৩৬০০ RNA সিক্যুয়েন্স ডাটা সারা বিশ্বের ৫৫ টি দেশ থেকে গত ডিসেম্বর মাস থেকে ৬ ই এপ্রিল পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণার প্রথম পর্যায় এই দুই বাঙালি বিজ্ঞানী দেখিয়েছেন চিনের পর থেকে করোনাভাইরাস তার পাল্টে যাওয়া চরিত্র নিয়ে চিন ও সারা বিশ্বে ছড়াতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞানী ডক্টর পার্থ মজুমদার বলছেন, ‘‌করোনাভাইরাস এর একাধিক চরিত্র হয়, যেমন "O, A2, A2a, A3, B, B1.‌.‌.‌ এমনই ১১ চরিত্রে করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই গবেষণায় প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের অন্যান্য চরিত্রগুলি কে পিছনে ফেলে এই A2a চরিত্রের ভাইরাসটি খুব শক্তি নিয়ে ফুসফুসকে সংক্রমিত করছে। যার জন্যই এর সংক্রমনের সংখ্যা বাড়ছে। তবে ভাইরাসের এই চরিত্র খুব বেশি মৃত্যুর কারণ না হলেও, এই চরিত্রের অনেকটাই সংক্রমিত করার শক্তি রয়েছে।’‌

সেক্ষেত্রে সারা বিশ্বজুড়ে যখন করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন তৈরি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তখন এই গবেষণাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ডক্টর মজুমদার বলেছেন, ‘‌আমরা তাই আমাদের গবেষণাপত্রে একদম শেষ জায়গায় বলেছি করোনা ভাইরাসের এই চরিত্র সবথেকে বেশি সংক্রমিত করছে সারা বিশ্বজুড়ে। তাই যখন ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে তখন ভাইরাসের এই চরিত্রটিকে মাথায় রেখেই যেন করা হয়। কারণ এই চরিত্রটাই সব থেকে বেশি ভাবাচ্ছে গোটা বিশ্বকে।’‌

মূলত এতদিন ধরে করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা হলেও এই প্রথম কোন বিজ্ঞানী দেখালেন করোনা ভাইরাসের কোন চরিত্র সব থেকে বেশি আক্রমণ করছে গোটা বিশ্বকে। ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চ এর জার্নাল ইন্ডিয়ান জার্নাল ফর মেডিকেল রিসার্চে এই গবেষণাটি স্বীকৃত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গবেষণা ভ্যাকসিন তৈরিতে একটা অত্যন্ত জরুরি অস্ত্র হাতে তুলে দিল।

সোমরাজ বন্দোপাধ্যায়

First published: April 29, 2020, 3:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर