করোনা ভাইরাস

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনাযুদ্ধে জয়ী, এবার অন্যদের বাঁচাতে প্লাজমা দান 'গরীরের ডাক্তার' ফুয়াদ হালিমের

করোনাযুদ্ধে জয়ী, এবার অন্যদের বাঁচাতে প্লাজমা দান 'গরীরের ডাক্তার' ফুয়াদ হালিমের

ভোটের লড়াইয়ে হেরে গেলেও অসংখ্য গরীব মানুষের মুখে হাসি ফোটানো চিকিৎসক ফুয়াদ হালিমের অসুস্থতার খবর শুনে তাঁর অসংখ্য রোগীরা উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল। তেমনভাবেই তাঁর সুস্থ হয়ে যাওয়ার খবরেও বহু মানুষ ভরসা পেয়েছিল।

  • Share this:

#কলকাতা:  চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রবাদপ্রতিম টানা ২৯ বছরের স্পিকার সিপিএম নেতা আব্দুল হালিম এর পুত্র। নিজেও সিপিএম দলের সদস্য। গত লোকসভা নির্বাচনে হেভিওয়েট ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে সিপিএমের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন আর বিপুল ভোটে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হেরেছিলেন। তাতে কী? তিনি যে হার না মানা এক চিকিৎসক। তাই রাজনৈতিক পরাজয় মানুষের কাছ থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে দেয়নি। বরং গরীবের জন্যে ভাবনা বেড়েছে তাঁর। করোনা-লকডাউন বিধ্বস্ত এক রাজ্যের রাজধানী শহরে বসে  চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম তাঁর নিজস্ব হাসপাতালে মাত্র ৫০ টাকায় সাধারণ মানুষের ডায়ালিসিস করার ব্যবস্থা করেছেন।

১২ বছর আগে ফুয়াদ হালিম, তার পরিবার, দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পার্ক স্ট্রিটের পাশের কিড স্ট্রিটের এমএলএ হোস্টেলের বিপরীতে বাড়ির পাশেই হাসপাতাল গড়েন। কলকাতা স্বাস্থ্য সংকল্প। মূলত গরীবের হাসপাতাল। শুরু হয়েছিল সাড়ে ৫০০ টাকা দিয়ে ডায়ালিসিস করা। পরে কমিয়ে লকডাউনের আগে পর্যন্ত মাত্র ৩৫০ টাকায় ডায়ালিসিস হত এই হাসপাতালে। কিন্তু লকডাউন ঘোষণা হতেই তিনি ভাবেন, যাতায়াতের তেমন সুযোগ কোথায় এখন? আসতে-যেতেই যে অনেক টাকা বেরিয়ে যাবে মানুষগুলোর! সিদ্ধান্ত নেন কমানো হবে ডায়ালিসিসের খরচ। চিকিৎসা করতে করতে কখন যে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন, তা জানতেই পারেননি ফুহাদ হালিম।

বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেও চার, চারবার করোনা পরীক্ষা করা হলেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসে৷ তারপর পঞ্চমবার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ হয়। শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি হয়৷ ১১ দিন হাসপাতালে থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ফুয়াদ হালিম। গত ১২ ই আগস্ট তাঁর হোম আইসোলেশনে থাকা শেষ হয়। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন মুমূর্ষু মৃতপ্রায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি প্লাজমা বা রক্তরস' দান করবেন। যেমন ভাবা ,তেমন কাজ। নিয়ম অনুযায়ী ২৮ দিন অপেক্ষা করার পর গত সপ্তাহেই কলকাতা মেডিকেল কলেজে তিনি তাঁর প্রয়োজনীয় সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর মেডিকেল কলেজের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগে বুধবার তাঁর প্লাজমা দান করেন।

মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক,চিকিৎসক প্রসূন ভট্টাচার্য জানান, 'এখনও পর্যন্ত যত প্লাজমা হয়েছে তার মধ্যে চিকিৎসক ফুয়াদ হালিমের প্লাসমার  অ্যান্টিবডি টাইটার বা রোগ প্রতিরোধী কণার পরিমাণ সবথেকে বেশি।'

ভোটের লড়াইয়ে হেরে গেলেও অসংখ্য গরীব মানুষের মুখে হাসি ফোটানো চিকিৎসক ফুয়াদ হালিমের অসুস্থতার খবর শুনে তাঁর অসংখ্য রোগীরা উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল। তেমনভাবেই তাঁর সুস্থ হয়ে যাওয়ার খবরেও বহু মানুষ ভরসা পেয়েছিল। তেমনভাবেই করোনা আক্রান্ত মরণাপন্ন রোগীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য চিকিৎসক ফুয়াদ হালিমের এই প্লাজমা দান তাঁকে এক ব্যতিক্রমী উচ্চতায় পৌঁছে দিল।

Published by: Pooja Basu
First published: September 17, 2020, 3:39 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर