Home /News /coronavirus-latest-news /
হর্ন বাজান চালক, চেষ্টা করেছিলেন মালগাড়ি থামাতে, ঔরঙ্গাবাদ কাণ্ডে দাবি রেলের

হর্ন বাজান চালক, চেষ্টা করেছিলেন মালগাড়ি থামাতে, ঔরঙ্গাবাদ কাণ্ডে দাবি রেলের

মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বলি ১৬ জন শ্রমিক৷ PHOTO- COLLECTED

মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বলি ১৬ জন শ্রমিক৷ PHOTO- COLLECTED

রেল জানিয়েছে, ওই দলটিকে ১৯ জন শ্রমিক ছিলেন৷ দুর্ঘটনায় ১৪ জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান৷ পরে আরও দু'জন আহত শ্রমিকের মৃত্যু হয়৷

  • Share this:

    #মহারাষ্ট্র: রেল লাইনের উপরে বেশ কিছু মানুষকে দেখতে পেয়েই হর্ন বাজাতে শুরু করেছিলেন মাল গাড়ির চালক৷ ট্রেন থামানোরও চেষ্টা করেছিলেন তিনি৷ কিন্তু দুটো চেষ্টার কোনওটাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি৷ যার ফলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে মালগাড়ির চাকায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় অন্তত ১৬জন পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ৷ ঔরঙ্গাবাদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিবৃতি দিয়ে এমনই দাবি করল রেল মন্ত্রক৷

    মালগাড়ির চাকায় পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দক্ষিণ মধ্য জোনের কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ প্রাথমিকভাবে রেলের অবশ্য দাবি, চালক আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ট্রেনটিকে দাঁড় করাতে পারেননি৷ রেল কর্তাদের ব্যাখ্যা, লকডাউনের কারণে অন্যান্য ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় মালগাড়ির গতি অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে৷ সাধারণত যেখানে ঘণ্টায় ২৪ কিলোমিটার গতিবেগে ট্রেন চালানো হয়, সেখানে এখন মালগাড়ি তার দ্বিগুনেরও বেশি গতিতে ছুটছে৷ ফলে, শেষ মুহূর্তে চেষ্টা করেও মালগাড়িটি দাঁড় করাতে পারেননি চালক৷ আর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় মালগাড়ির হর্নও শুনেও সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি হতভাগ্য শ্রমিকরা৷

    এ দিন ভোর ৫.২০ মিনিট নাগাদ ঔরঙ্গাবাদ জেলার বদনাপুর এবং কারমাদ স্টেশনের মাঝে রেল লাইনের উপরে মালগাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিক৷ মহারাষ্ট্রে কর্মরত ওই শ্রমিকদের বাড়ি মধ্যপ্রদেশে৷ দীর্ঘ পথ হেঁটে ঔরঙ্গাবাদ স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার চেষ্টায় ছিলেন তাঁরা৷ রেল লাইন ধরেই হাঁটছিলেন তাঁরা৷ কিন্তু প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার পথ হেঁটে পেরনোর পর ক্লান্ত হয়ে রেল লাইনের উপরেই ঘুমিয়ে পড়েন তাঁরা৷ ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রেল লাইনের উপরেই শুয়ে পড়েছিলেন শ্রমিকরা৷ কিন্তু সেই লাইনে হঠাৎ একটি মালগাড়ি চলে আসায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যায়৷

    রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, 'নানদেড় ডিভিশনের অন্তর্গত পরভানি এবং মনমাড় সেকশনের মধ্যে শ্রমিকদের ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হওয়ার ঘটনায় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন৷' পাশপাশি রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়ালও গোটা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছেন বলেও রেলের তরফে জানানো হয়েছে৷  ঔরঙ্গাবাদ সিভিল হাসপাতালে আরও এক আহত শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে৷ রেলের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, বাহ্যিক কারণে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় নেয় না রেল৷ এই ধরনের ঘটনায় রেল ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়৷ শুধুমাত্র ট্রেন বেলাইন হওয়ার মতো দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়৷ ফলে এই দুর্ঘটনাতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলিকে রেলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনা কম৷ রেল জানিয়েছে, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারই এই ক্ষতিপূরণ দেবে৷ ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশ সরকার নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে৷ নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ যদিও এই ঘটনায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতার অভিযোগে সরব হয়েছে কংগ্রেস৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    Tags: Aurangabad Tragedy, Indian Railways, Migrant Labours

    পরবর্তী খবর