corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা যুদ্ধে সামিল দুই ডাক্তার সন্তান, গর্বিত বাঙালি বাবা-মা বাড়িতে বসে দেখেন ফোটো অ্যালবাম

করোনা যুদ্ধে সামিল দুই ডাক্তার সন্তান, গর্বিত বাঙালি বাবা-মা বাড়িতে বসে দেখেন ফোটো অ্যালবাম
Doctors treating COVID19 patients

অনেক কষ্ট করে ২ ছেলেকেই ডাক্তারি পড়িয়েছেন।বর্তমানে দুই ছেলেই চিকিৎসক । দু'জনেরই ধ্যানজ্ঞান করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তোলা। দেশের এই পরিস্থিতিতে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ছেলেরা লড়াই করছেন দেখে গর্বিত রায়গঞ্জের সিনহা দম্পতি ।

  • Share this:

#বর্ধমান: করোনা আতঙ্কে বর্তমানে সারা পৃথিবী কার্যত কাঁপছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উভয়ের পক্ষ থেকেই লকডাউনের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও। মানুষও পারতপক্ষে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যাওয়া এড়িয়েই চলছেন। সকলেই নিজের সন্তানদের এই মারণ রোগের আওতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। ব্যতিক্রম রায়গঞ্জ শহরের সিনহা দম্পতি। করোনাযুদ্ধে নিজের দুই সন্তানকেই সামনে থেকে লড়াই করতে দেখে গর্বিত তারা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে কষ্ট করে দুই ছেলেকেই ডাক্তারি পড়ানো সার্থক মনে করছেন তারা।

উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের কর্মী কৃষ্ণা সিনহা। স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রায়গঞ্জ শহরের রেলস্টেশন সংলগ্ন জেলা পরিষদের দুই কামরার কয়ার্টারে তার সংসার। অনেক কষ্ট করে ২ ছেলেকেই ডাক্তারি পড়িয়েছেন।বর্তমানে দুই ছেলেই চিকিৎসক ।  দু'জনেরই ধ্যানজ্ঞান করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তোলা। দেশের এই পরিস্থিতিতে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ছেলেরা লড়াই করছেন দেখে গর্বিত রায়গঞ্জের সিনহা দম্পতি ।

তবে, মনের সবসময় আতঙ্ক থাকছে। তার উপর রাজ্যের সব জায়গা থেকে যেভাবে চিকিৎসকরা তাঁদের সুরক্ষার অনিশ্চয়তা নিয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন তাতে দুই ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু উপায় নেই। কারণ এই লড়াই শেষ না করে ফিরে আসতে পারবেন না বলে ছেলেরা জানিয়েছে।বাবা, মায়েরও একই মত।এখন খুব দুশ্চিন্তা হলে পুরানো ফোটো অ্যালবাম দেখে বা ফোনে ছেলেদেরসঙ্গে কথা বলে নিজেদের শান্ত্বনা দেন এই সিনহা দম্পতি ।

বড় ছেলে পল্লব কলকাতার SSKM’র চিকিৎসক।ছোটো ছেলে অর্ণব ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করছেন।ইতিমধ্যেই বেলেঘাটা ID-তে কাজ করেছেন পল্লব।করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার সঙ্গে তিনি সরাসরিই যুক্ত ছিলেন।এইরকম এক কঠিন পরিস্থিতিতে সামনে এগিয়ে এসে ছেলেদের লড়াই করতে দেখে গর্ববোধ করছেন সিনহা দম্পতি ।

মধুসূদন সিনহা জানিয়েছেন, “ মানুষের সেবা করার উদ্দ্যেশ্যেই ছেলেদের ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়েছিলাম। মানুষের এই চরম বিপদের সময় আমার ছেলেরা কোরোনা রোগীদের চিকিৎসায় মগ্ন আছেন।তার জন্য অবশ্যই গর্ববোধ করি। চিন্তা হয় অবশ্যই। তখন এই ভেবে শান্তনা দিতে থাকি, যাদের জন্য ওরা সেবা করছে, তাদের শুভকামনাই ওদের রক্ষা করবে।’’ কৃষ্ণা সিনহা জানিয়েছেন, “ ছেলেদের জন্য গর্ব তো অবশ্যই হয়। তবে মায়ের মন তো। খুব দূশ্চিন্তা হলে ওদের ফোটো অ্যালবাম খুলে বসে থাকি৷ তবে অদের এই লড়াই করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যেন উপযুক্ত পোশাক ও অন্যান্য ব্যবস্থা করা হয়।’’

রায়গঞ্জের বিশিষ্ট চিকিৎসক জয়ন্ত ভট্টাচার্য পরিবারের এই উদ্বেগ সঙ্গত বলে মনে করেন। জয়ন্ত জানান, করোনা বিরুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই করছেন চিকিৎসক এবং নার্সিং ষ্টাফরা। তারা সুরক্ষিত না থাকলে এর বিরুদ্ধে লড়াই করার কেউ থাকবে দেশ চরম বিপদের সম্মুখীন হবে।চিকিৎসক, নার্সিং ষ্টাফ এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্মিদের পিপিই কিট দেবার দাবিতে ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকে রাজ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে স্মারকলিপি দিয়েছেন। পিপিই কিট স্বাস্থ্যকর্মিদের দেবার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই আশ্বাসের দিকে তারা তাকিয়ে আছেন।

First published: April 24, 2020, 12:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर