corona virus btn
corona virus btn
Loading

সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি নার্সিংহোম, করোনার চিকিৎসায় কোথায় কত খরচ, জানুন

সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি নার্সিংহোম, করোনার চিকিৎসায় কোথায় কত খরচ, জানুন

কিছু কিছু রাজ্যের যেমন কেরলে, করোনা হাসপাতালে কোনও খরচই লাগছে না রোগীর৷ তবে অন্যান্য জায়গায় হাসপাতালের রুমের ওপর নির্ভর করে রোগের খরচ৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ধনী-গরিবের পার্থক্য করে না করোনা৷ যে কোনও আর্থ সামাজিক স্তরের মানুষই আক্রান্ত হতে পারেন এই ভয়াবহ রোগে৷ দেশে হুহু করে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণের প্রকোপ৷ ২১ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ এক এক রাজ্যে করোনার চিকিৎসার খরচ হচ্ছে এক এক রকম৷ সরকারি হোক বা বেসরকারি, করোনার চিকিৎসায় কেমন পড়ছে সেই খবর, তারই হদিশ থাকল বিস্তারিত৷

কিছু কিছু রাজ্যের যেমন কেরলে, করোনা হাসপাতালে কোনও খরচই লাগছে না রোগীর৷ তবে অন্যান্য জায়গায় হাসপাতালের রুমের ওপর নির্ভর করে রোগের খরচ৷

তামিল নাড়ু

নিজেদের রাজ্যে RT-PCR পরীক্ষার টাকা ২৫০০-এ বেঁধে দিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার৷ চিফ মিনিস্টার কম্প্রিহেনসিভ হেলথ ইনস্যুরেন্স স্কিমে এই নির্দিষ্ট রেটেই RT-PCR পরীক্ষা হচ্ছ৷ তবে বাড়ি এসে এই পরীক্ষা হলে আরও ৫০০ টাকা বেশি লাগছে৷ তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্য দফতরের প্রজেক্ট ডিরেক্টর জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই প্যাকেজই ব্যবহার করতে হবে বেসরকারি হাসপাতগুলোকেও৷ এবং এর পাশিপাশি সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার করা নন ক্রিটিক্যাল কেয়ারের রোগীদের জন্য ২৫ শতাংশ বেড ধার্য করতে হবে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে৷ এমনই নির্দেশ দিয়েছে সরকার৷

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্য চিকিৎসা হচ্ছে৷ অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে A1 ও A2 গ্রেড এবং A3 ও A6 গ্রেডে যথাক্রমে চিকিৎসার খরচ হচ্ছে ৭৫০০ টাকা ও ৫০০০ টাকা প্রতিদিন৷ তবে এটা সাধারণ করোনা রোগীর ক্ষেত্রে৷ করোনা রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক হলে সেই খরচ বেড়ে হবে প্রতিদিনের জন্য ১৫০০০ টাকা৷ চেন্নাইয়ের এক কার্ডিওলজিস্ট জানিয়েছেন যে, গড়ে ৫ হাজার মতে খরচ পড়লে, ৫-৭ দিন বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা করালে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা মত পড়ে যাচ্ছে৷ একই রকমভাবে করোনার চিকিৎসা ICU-তে হলে তা বেড়ে হচ্ছে ১৫হাজার টাকা প্রতিদিন৷

তিনি আরও জানিয়েছেন যে তামিলনাড়ুতে করোনার চিকিৎসার জন্য সপ্তাহে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩.৫ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে৷

কর্নাটক

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত প্রাইভেট হাসপাতালের ৫০ শতাংশ বেড রাখতে হবে সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীর জন্য৷ এর মধ্যে থাকবে ভেন্টিলেটর যুক্ত HDU ও ICU বেড৷ অন্য ৫০ শতাংশ বেডে নিজেদের হিসেবে রোগী ভর্তি করতে পারেন কর্ণাটকের হাসপাতালগুলি৷

অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথকেয়ার প্রোভাইডার অনুযায়ী, প্রাইভেট হাসপাতালে খরচে দামী অ্যান্টিবায়োটিক এবং নানা ধরনের পরীক্ষা, ইমিউনোথেরাপি এবং কোমর্বিডিটির চিকিৎসার খরচ যুক্ত নয়৷ যেই হিসেব উঠে আসছে তা গড়ে ১০ থেকে ১৪ দিনের খরচ৷ তবে এই খরচ হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল পাল্টাতে পারে৷ জেনারেল ওয়ার্ডে কোনও মাঝারি মাপের হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার সমেত খরচ পড়তে পারে ২০হাজার৷ আবার একই ব্যবস্থার জন্য কোনও বড় হাসপাতালে খরচ হতে পারে ২৪ হাজার টাকা৷

AHPI জানাচ্ছে যে, বেসরকারি হাসপাতালে ঠিক কতগুলি বেড রাখতে হবে, বা জেনারেল ওয়ার্ড, হাই ডিপেনডেন্স ইউনিট বা আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর সমেত বেড বা ভেন্টিলেটর সহ আইসিইউ বেড কতগুলি রাখতে হবে, সেই হিসেব সরকারি নির্দেশিকায় নির্দিষ্টভাবে দেওয়া নেই৷ ফলে সেই সুযোহ অনেকক্ষেত্রেই নিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলি৷

জনস্বাস্থ্য আধিকারিক এবং গবেষক ডাঃ সিলভিয়া কারপাগম বলছেন যে, নিকট আত্মীয়কে করোনা চিকিৎসা করে হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অনেক সময়ই অনেকটাই গাঁটের কড়ি খরচ করতে হচ্ছে৷

সরকারি নির্দেশ আরও স্পষ্ট হোক যার ফলে সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীর চিকিৎসায় কোনও সমস্যা না হয় এবং অনাবশ্যক খরচ না বাড়ে, সেই দিকে নজর দিতে আর্জি জানিয়েছে AHPI৷ বহু হাসপাতালের একটি সংগঠন AHPI আলোচনার মাধ্যমে প্রাইভেট হাসপাতালে করোনার চিকিৎসার খরচ তুলে ধরার চেষ্টা করেছে যা সরকারি স্কিমের আওতায় পড়বে না৷

মুম্বই

RT-PCR পরীক্ষার জন্য প্রথমে ৪৫০০টাকা ব্যয় করতে হলেও তা পরবর্তীতে কমিয়ে দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার৷ এখন করোনা টেস্টের জন্য ব্যয় করতে হবে ২৮০০ টাকা৷ তবে বাড়ি থেকে লালারস সংগ্রহ করলে তা ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়ে যেতে পারে৷

প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগী জানতেই পারেন না যে তাদের করোনা হয়েছে কিনা৷ অনেকেই ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন৷ যদিও বেসরকারি হাসপাতালে দিনে ১০ হাজার টাকা এবং ভিআইপি রুমের জন্য দিনে ১ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে৷

দিল্লি

দিল্লিতে যদিও বেসরকারি হাসপাতালে রেট প্যাকেজের মাধ্যমে বেঁধে দেওয়া হয়েছে৷

কেরল

কেরল সরকার করোনার জন্য পুরোপুরি বিনামূল্যের চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে৷ তবে বেসরকারি ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়নি৷ করোনার চিকিৎসার জন্য ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিতে পারবে বেসরকারি হাসপাতালগুলি৷ কেরল সরকারের এই নির্দেশ মানতে চাননি কোনও প্রাইভেট নার্সিংহোম৷

ফার্স্টপোস্টের জন্য সুলেখা নায়ারের রিপোর্ট

Published by: Pooja Basu
First published: July 22, 2020, 2:27 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर