Home /News /coronavirus-latest-news /
অদম্য মনোবল! সংসার চালাতে হুইলচেয়ারে করেই মাস্ক বিক্রি কলেজ ছাত্রের

অদম্য মনোবল! সংসার চালাতে হুইলচেয়ারে করেই মাস্ক বিক্রি কলেজ ছাত্রের

হুইলচেয়ারে মাস্ক বিক্রি করছেন রিজওয়ান

হুইলচেয়ারে মাস্ক বিক্রি করছেন রিজওয়ান

হুইলচেয়ার ও ১০০ শতাংশ মনোবল নিয়েই এতদূর পড়াশোনা করেছেন নারকেলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এই যুবক। তাঁর স্বপ্ন কম্পিউটার কোর্স করে বড় চাকরি করার।

  • Share this:

#কলকাতা: মাত্র ছ'মাস বয়সে পোলিও আক্রান্ত। সেই থেকেই মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে রিজওয়ান আলি ৭৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী। কিন্তু রিজওয়ানের কাছে প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সব বাধাকে উড়িয়ে দিয়ে মনের জোর আর হুইলচেয়ারকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন তিনি। বিশেষ ভাবে সক্ষম রিজওয়ান৷ করোনা চেষ্টা করেছিল তাঁর পরিবারে বাধা হয়ে ওঠার। বাবা-দাদার আয় কমে যাওয়ায় টান পড়ছিল সংসারে। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবার করোনার সঙ্গে লড়াই করতে নেমে পড়েছেন রিজওয়ান। এই লড়াইয়ে তাঁর হাতিয়ার মাস্ক। কলকাতার রাস্তা ও বাজারহাটে মাস্ক বিক্রি করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার বি-কম প্রথম বর্ষের ছাত্র রিজওয়ানের।

সংসারের হাল ধরতে গত দু সপ্তাহ ধরে ফুলবাগান, কাঁকুড়গাছি, বাগমারী বাজার-সহ কলকাতার বিভিন্ন বাজার ঘুরে হুইলচেয়ারে করে মাস্ক বিক্রি করছে রিজওয়ান। বিক্রি বাড়াতে তাঁর টার্গেট শহরের বাজার। কারণ, এখানেই যত অনিয়ম। মুখে মাস্ক না থাকলে বহু ব্যবসায়ীই ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করছে না। তাই বাধ্য হয়েই রিজওয়ানের দ্বারস্থ হচ্ছে বাজারমুখী বাঙালি। অবশ্য তাতে খুব বেশি রোজগার হচ্ছে এমনটা নয়। খুব বেশি হলে দিনে দু'শো টাকা। তাতেই সামান্য হলেও ভরসা পাচ্ছে পরিবার।

হুইলচেয়ার ও ১০০ শতাংশ মনোবল নিয়েই এতদূর পড়াশোনা করেছেন নারকেলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এই যুবক। তাঁর স্বপ্ন কম্পিউটার কোর্স করে বড় চাকরি করার। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, "বাড়িতে অবসর সময়ে কাগজের প্লেট তৈরি করে হাত খরচ জোগাড় করি। কিন্তু লকডাউনে সবার কাজের সমস্যার জন্য রাস্তায় নামতে হল। কষ্ট হলেও কিছু করার নেই। তাই যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করছি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর।"

বাজারের বাইরে হুইলচেয়ারে মাস্ক বিক্রি করতে দেখে অনেকেই রিজওয়ানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছেন। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে কিনছেন মাস্ক। এক বাজারে কিছু বিক্রি করেই হুইলচেয়ার ঠেলে রওনা দিচ্ছেন অন্য বাজারের উদ্দেশে। কম করে দু'শো টাকা বাড়িতে না নিয়ে যেতে পারলে খাবেন কী!

কলেজের পড়াশোনা, কাগজের প্লেট তৈরি, কম্পিউটার ক্লাস তো ছিলই। এখন আবার মাস্ক বিক্রি। শরীর পুরো সঙ্গ না দেওয়া সত্ত্বেও এতকিছু একসঙ্গে করেন কী ভাবে? রিজওয়ানের উত্তর, "ছ'মাস বয়সে পোলিও আক্রান্ত হয়েছি। তারপর থেকে সবকিছু এ ভাবেই করি। আমি মনে করি না আমি প্রতিবন্ধী। আমি সবকিছুই করতে পারি। আই ক্যান ডু এভরিথিং।"

করোনা আবহে ভিড় বাজারে মাস্ক বিক্রি করতে ভয় লাগে না? রিজওয়ানের সাহসী জবাব, "ভয় তো লাগেই। কিন্তু কী করব, পরিবারের জন্য তো কাজ করতেই হবে। এই কষ্টটুকু নিতেই হবে।"

SUJOY PAL

Published by:Arindam Gupta
First published:

Tags: Coronavirus, Coronavirus Impact, Mask

পরবর্তী খবর