corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউন শুরুর আগেই কন্টেইনমেন্ট জোনে বাজার করার হিড়িক, অন্য এলাকায় আতঙ্কে বন্ধ দোকানপাট

লকডাউন শুরুর আগেই কন্টেইনমেন্ট জোনে বাজার করার হিড়িক, অন্য এলাকায় আতঙ্কে বন্ধ দোকানপাট

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন " আগামী সাতদিন বাজার বন্ধ থাকবে। তাই খাওয়া দাওয়ার জন্য অন্তত এই বাজার টুকু করে রাখতে হবে আমাদের।

  • Share this:

#কলকাতা: বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে লকডাউন শুরু হবে কন্টেইনমেন্ট জোন বা অঞ্চলগুলিতে। আপাতত এক সপ্তাহ সাত দিন এই লকডাউন চললেও পরবর্তী পরিস্থিতিতে তা বিবেচনা করা হবে অন্তত এমন টাই বুধবার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তার আগেই অবশ্য বাজার করার হিড়িক ধরা পরল একাধিক এলাকায়। বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ বাঙুর মার্কেটকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এই বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাজার করার হিড়িক দেখা যায়। কার্যত সামাজিক দূরত্ব বিধি না মেনেই গা ঘেঁষাঘেষি করে দিনভর চলল বাজার থেকে সবজি আলু মুদিখানা দোকান থেকে নিত্য সামগ্রী জিনিস কেনা। একদিকে যখন বাঙ্গুর মার্কেটে এই ছবি ধরা পরল এদিন সকালে ঠিক তার থেকে এক কিলোমিটার দূরে যেতে লেকটাউনের নেহেরু কলোনি, শাস্ত্রীজি কলোনির ছবিটা অবশ্য বিপরীত। গত কয়েকদিন ধরেই এই দুটি এলাকা থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশই বাড়ছে। আর সেই আতঙ্কে এদিন সকাল থেকেই লকডাউন শুরু না হওয়ার আগে থেকেই দোকানপাট বন্ধ থাকল ।

ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে কন্টেইনমেন্ট জোনগুলিতে কঠোরভাবে লকডাউন করা হবে বলে রাজ্য প্রশাসনের তরফে জারি করা হয়েছে নির্দেশিকা। কন্টেইনমেন্ট জোনের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিস সহ একাধিক পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা ইতিমধ্যে নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়েছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর। আর তাই তার আগে থেকেই এবার বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কন্টেইনমেন্ট জোনের আওতাভুক্ত অঞ্চলগুলিতে প্রস্তুতি দেখা গেল । করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মূলত যে যে অঞ্চলগুলিতে ক্রমশ বাড়ছে সেই অঞ্চলগুলিতে রাজ্য প্রশাসনের তরফে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে । তারই মধ্যে রয়েছে লেকটাউনের দক্ষিণদাড়ির নেহেরু কলোনি ও শাস্ত্রীজি কলোনি। গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ বেড়েছে।

গতকাল রাত থেকেই এলাকার দোকানপাট বন্ধ, এলাকা কার্যত শুনশান। প্রয়োজন ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকার বাসিন্দারা খুব একটা বাইরে বের হচ্ছেন না। এলাকায় এক বাসিন্দা বলেন " এই অঞ্চলে ঘটনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে চলার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশ প্রশাসনের আবেদন মেনেই এলাকার ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাতে এটা মেনে চলা যায় তার জন্য আমাদের তরফেও সবসময় নজরদারি থাকছে এলাকাতে।"

একদিকে যখন বৃহস্পতিবার সকালে এই ছবি ধরা পড়ল ঠিক তার অন্যদিকে এক কিলোমিটার দূরেই বাঙুর সুপার মার্কেট এ এক অন্য ছবি ধরা পড়েছে। বিকেল পাঁচটা থেকে বাজার বন্ধ হয়ে যাবে কন্টেইনমেন্ট জনের মধ্যে পড়ে যাওয়ায়। তার জেরেই গা ঘেঁষাঘেষি করে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বিধি না মেনেই চলল দিনভর বাজারের হিড়িক। এ প্রসঙ্গে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন " আগামী সাতদিন বাজার বন্ধ থাকবে। তাই খাওয়া দাওয়ার জন্য অন্তত এই বাজার টুকু করে রাখতে হবে আমাদের। আমরা জানতাম না আজ সকালে খবর পাওয়া মাত্রই এখন বাজার করতে এসেছি।" যদি একাধিক ক্রেতাকে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বৃ্দ্ধি কেন মানছেন না তার জিজ্ঞাসা করাতে কিছুটা ক্ষিপ্ত হয় বাজার করতে আসা ক্রেতারা।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই পুলিশের তরফে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয় এই অঞ্চলগুলিতে লকডাউন বিধি কার্যকরী করার প্রক্রিয়া। এলাকার বাসিন্দাদের অবশ্য আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী সাতদিন এই অঞ্চল গুলি থেকে না কেউ বের হতে পারবেন না কেউ ঢুকতে পারবেন। যদিও জরুরী পরিষেবা বা যাদের কোনো প্রয়োজনীয় দরকার থাকবে তারাই অবশ্য বের হতে পারবেন পুলিশের অনুমতি নিয়ে। সবমিলিয়ে বৃহস্পতিবার লকডাউন শুরুর আগেই আগেই ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ এই দুই এলাকায়।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: July 9, 2020, 3:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर