পাড়ার স্কুলে কোয়ারেন্টাইন? গুজবের জেরেই ধুন্ধুমার বর্ধমানে

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের বা গ্রামের বাইরের স্কুলে কোয়ারান্টিন সেন্টার করাকে কেন্দ্র করে অনেক জায়গাতেই গোলমাল হচ্ছে।

  • Share this:

স্থানীয় স্কুলের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হচ্ছে এমনই খবর ছিল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার আটকাতে বিক্ষোভ জুড়ে দিলেন এলাকার বাসিন্দারা।

বর্ধমান শহরের খাজা আনোয়ার বেড় এলাকায় শুক্রবার দুপুরে এমনই ঘটনা ঘটল। তবে ওই এলাকায় কোন স্কুলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হচ্ছে তাঁদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁরা।  কোনও স্কুলে এখনই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার পরিকল্পনা নেই বলে প্রশাসন আশ্বাস দিলে এদিন  বিক্ষোভ থামে।

ব্যাপক ভাবে করোনা আক্রান্ত পাঁচ  রাজ্য- গুজরাট মহারাষ্ট্র দিল্লি মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিক ও যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকতেই হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে জেলা সদরের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বা দূরের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের বদলে ঘরের কাছের স্কুলে তারা থাকতে পারবেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সেই স্কুল কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ইতিমধ্যেই গ্রামীণ এলাকায় বেশকিছু স্কুলকে কোয়ারান্টিন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। শুধু তাই নয়, শহরের কিছু স্কুলে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে চাওয়া শ্রমিকদের রাখা হচ্ছে।

তেমনই বর্ধমান শহরের বেড় এলাকার এক? স্কুলকে কোয়ারান্টিন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন এমন খবর রটে যায় এলাকায়। এরপরই শিশু পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে এলাকার বাসিন্দারা স্কুলের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা বলেন, পাশেই সদরঘাট এলাকায় করোনা আক্রান্তের হদিস মিলেছে। তাই স্কুলকে কোয়ারান্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোয়ারান্টিন সেন্টার করলে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা আশংকা করছি। তারই প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ। তবে জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, এখনই ওই স্কুলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার কোন কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের বা গ্রামের বাইরের স্কুলে কোয়ারান্টিন সেন্টার করাকে কেন্দ্র করে অনেক জায়গাতেই গোলমাল হচ্ছে। অনেক জায়গায় ঘরের কাছের কোয়ারান্টিন সেন্টারে থাকা শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য আবদার করছেন। অনেক জায়গায় খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। ব্লক স্তরের গঠিত টাস্কফোর্সকে সেইসব সমস্যা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Published by:Arka Deb
First published: