Home /News /coronavirus-latest-news /
কী কাণ্ড! মদ চেয়ে বার বার মোবাইলে ফোন প্রধান শিক্ষককে !

কী কাণ্ড! মদ চেয়ে বার বার মোবাইলে ফোন প্রধান শিক্ষককে !

স্কুলের প্রধান শিক্ষককেই মোবাইলে লাগাতার মদ চেয়ে ফোন !! কোন কোন ‘ব্র্যান্ড অ্যাভেলেবেল’ এমনটাও জানতে চাইছেন অনেকে !

  • Share this:

#বর্ধমান: কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। এমন দিনও যে দেখতে হবে স্বপ্নেও ভাবেন নি। ঘন ঘন ফোন। একটা ছাড়লে আর একটা। কেউ কেউ জানতে চাইছেন, কার্ডে পেমেন্ট হবে? কারও কারও আবদার বাড়ির কাছে এসে ডেলিভারি বয়কে ফোন করে নিতে বলবেন প্লিজ। মোবাইলে লাগাতার মদ চেয়ে ফোন। কোন কোন ব্র্যান্ড অ্যাভেলেবেল এমনটাও জানতে চাইছেন অনেকেই !

তিনি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কুলীনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমনাথ সাহা। ঘন ঘন মদের অর্ডার আসছে তাঁর মোবাইলে। প্রথম প্রথম ভেবেছিলেন হয়তো এলাকার দুষ্টু ছেলে ছোকরাদের কারসাজি। কিন্তু একের পর ফোন আসতেই থাকায় তিনি বুঝতে পারেন কোথাও একটা গন্ডগোল হচ্ছে। অনেকেই দু’নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের একটি মদের দোকানের নাম করছেন।অনেকেই বিভিন্ন কোম্পানির ব্রান্ডের খোঁজ করছেন। ফোন যে বন্ধ করে দেবেন তারও উপায় নেই। শিক্ষা দফতর থেকে নানান পরামর্শ আসছে সেই মোবাইলেই। এই বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে বর্ধমান থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক।

করোনা ঠেকাতে লক ডাউন। স্কুল বন্ধ। বর্ধমান শহরের কালনা গেট জামতলার বাসিন্দা প্রধান শিক্ষক সোমনাথবাবু  নিজেকে গৃহবন্দিই রেখেছেন। ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতর মিড ডে মিলের খাদ্য সামগ্রী বন্টনের কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। সেসব নিয়ে সহ শিক্ষকদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও হচ্ছে। তারই মাঝে বুধবার বেলায় প্রথম ফোন। তার পর আবার। নানা জনের নানাভাবে আবদার। সোমনাথবাবু বলেন,  কি এমন হলো যে সবার মদের চাহিদা আমাকে মেটাতে হবে! ভাবছিলাম সেকথাই। এমন দিনও দেখতে হবে ভাবতে পারিনি।

মদ্যপায়ীদের ফোনের ঠেলায় জর্জরিত হতে সোমনাথবাবু সটান যান বর্ধমান থানায়। অফিসারদের নিজের পরিচয় দিয়ে সমস্যার কথা জানানো শেষ হতে না হতেই ফের ফোন। ওপার থেকে বলা হয়, হুইস্কির বড়  বোতল মিলবে? এবার কেঁদে ফেলার অবস্থা প্রধান শিক্ষকের। ফোনটা এগিয়ে দেন পুলিশ অফিসারকেই। পুলিশ অফিসার সব শুনে মুচকি হাসেন।

বর্ধমান থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মদের হোম ডেলিভারি চলছে বলে কিছু মদের দোকানের মালিক সোসাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে দেয়। সেখানেই ঠিকানার সঙ্গে যে ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে তা ভুল করে মিলে গিয়েছে সোমনাথবাবুর নম্বরের সঙ্গে। তার জেরেই এই বিড়ম্বনা। কিন্তু ওই মদের দোকান শক্তিগড় থানা এলাকার মধ্যে পড়ে।সোমনাথবাবু বর্ধমান থানা থেকে নম্বর নিয়ে শক্তিগড় থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। সেখান থেকে আবগারি দফতরের অফিসারের নম্বর জোগাড় করে ফোন করেন তাঁকেও। তবে আতংক কাটেনি সোমনাথবাবুর। মদ চেয়ে ফোন আসছে মাঝেমাঝেই।

Saradindu Ghosh

Published by:Siddhartha Sarkar
First published:

Tags: Bardhaman, Coronavirus

পরবর্তী খবর