corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে ফেরা হল না ছেলের কাছে, কলকাতার হাসপাতালেই মৃত্যু আন্দামানের বাঙালির

লকডাউনে ফেরা হল না ছেলের কাছে, কলকাতার হাসপাতালেই মৃত্যু আন্দামানের বাঙালির

বাড়ি থেকে অনেক দুরে, প্রিয়জনকে ছেড়ে বিদায় নিলেন অভিজিৎবাবু।

  • Share this:

#কলকাতা: কথা ছিল বাবু আসবে। বাবু'র হাত ধরে ফের ফিরবে আন্দামানের চেনা রাস্তায়। কিন্তু ফেরা আর হল কই? যেখানে ফিরলেন সেখান থেকে বাড়ি ফিরে আসার সব রাস্তা বন্ধ। আন্দামান থেকে কলকাতায় এসেছিলেন অভিজিৎ সরকার। পাঁচ পাচটি হাসপাতাল ঘুরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পান এস এস কে এম হাসপাতালে। চিকিৎসকদের কাছে আবদার ছিল ছেলের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু তা আর হল না। বাড়ি থেকে অনেক দুরে, প্রিয়জনকে ছেড়ে বিদায় নিলেন অভিজিৎবাবু।

শেষ দেখা হয়েছিল দু' মাস আগের ১৬ তারিখ। ছেলেটা তখন ঘরের এক কোণে থাকা গ্লোব দেখিয়ে কিলোমিটারের দুরত্ব কমাচ্ছিল। বিমানবন্দরের ভারী কাঁচের দরজা সশব্দে বন্ধ হওয়ার পরে, বুকের ভিতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠেছিল। যত দিন যাচ্ছিল মন ভারী হয়ে আঁকড়ে ধরছিল অসুস্থ শরীরটাকে। সকালে একটা ফোন এসেছিল। বেশ মিহি গলায় ডাক্তারবাবু বলেছেন, ভাল নেই। আর তখন থেকেই শেষ লড়াই শুরু এস এস কে এম হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা অভিজিৎ সরকার আর অনেক দুরে তার অপেক্ষায় পোর্ট ব্লেয়ারের ছোট্ট দু'কামরার ঘরে বসে থাকা শম্পা ও সন্তান সাগ্নিক সরকারের।

লকডাউন যত বেড়েছে ঠিক ততটাই দুরত্ব বেড়েছে স্বামীর সাথে স্ত্রী, বাবার সঙ্গে ছেলের। পোর্ট ব্লেয়ারের বাসিন্দা অভিজিৎ সরকার। স্ত্রী শম্পা ও ছেলে সাগ্নিককে সঙ্গে নিয়ে সেখানেই একটা দোকান আছে তার। বেশ ভালো একটা ব্যবসা ছিল। কিন্তু সুনামি এসে সব তছনছ করে দিয়ে গিয়েছিল।সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সংসারেও। তার ওপরে হঠাৎ করেই অভিজিৎ বাবুর কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। ক্রমশ সেই যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করানোর জন্য আসার কথা ছিল অভিজিৎবাবুর। যদিও তার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাই  লকডাউন ঘোষণার আগেই কলকাতায় চলে আসেন তিনি। ছেলের পরীক্ষা চলছিল, তাই পরিবার নিয়ে চিকিৎসা করাতে আসতে পারেননি তিনি। কলকাতায় এসেই ফাঁপড়ে পড়েন৷ এই হাসপাতাল, ওই হাসপাতাল হয়ে অবশেষে এস এস কে এম হাসপাতালে ভর্তি হন।

বেশ কয়েকদিন ধরে সেখানেই চিকিৎসা চলছিল অভিজিৎবাবুর। যদিও শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে তাঁর। এই অবস্থায় বাড়ির লোককে কাছে চাইছিলেন তিনি। রোজ দেখাশোনা করতেন তার শ্যালক ও মেসোমশাই। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে আসার একমাত্র উপায় বিমান। যদিও সেই পরিষেবা বন্ধ। কবে থেকে সেই পরিষেবা চালু হবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে বারবার স্ত্রী আর ছেলেকে দেখতে চেয়েও পাননি। এই শহরেই রয়েছেন তার পরিবারের বাকি সদস্যরা। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির জেরে তাদের সাথেও দেখা হয়নি। শেষ একটা ভিডিও মেসেজ পাঠিয়েছিলেন বাড়িতে। একটিবার ছেলেকে দেখতে চেয়ে। বাবার শেষ অনুরোধ রাখতে না পেরে হতাশ সাগ্নিক। শুধু তার একটাই কথা, "বাবার শেষকৃত্য যেন যথাযথ ভাবে সম্মানের সাথে হয়।" একই বক্তব্য অভিজিৎ বাবুর স্ত্রী শম্পাদেবীর। শ্বশুরবাড়ির সাথে টানাপোড়েন আছে। তাই অভিজিৎ বাবুর মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টি কিভাবে হবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। যদিও সাগ্নিকের মামা সেই কাজ করেন। অভিজিৎ বাবুর এভাবে চলে যাওয়া এখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি তার পরিবার। আন্দামানে বসে ভরসা ছিল ভিডিও কল। ডিজিটাল মাধ্যম যোগাযোগ মসৃণ করেছে। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের স্পর্শ এনে দিতে পারেনি। সুনামি কেড়েছিল ভবিষ্যৎ আর লকডাউন কেড়ে নিল শেষ দেখার সুযোগটুকুও।

Abir Ghoshal

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: May 8, 2020, 11:23 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर