• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • লকডাউনে বন্ধ ট্রেন, তবু স্টেশনে ট্রেন ধরতে বসে আছেন যাত্রীরা 

লকডাউনে বন্ধ ট্রেন, তবু স্টেশনে ট্রেন ধরতে বসে আছেন যাত্রীরা 

একাধিক যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের কোনও এসএমএস দেওয়া হয়নি। ফলে না জেনেই স্টেশনে এসে বিপাকে পড়ে গিয়েছেন তারা।

একাধিক যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের কোনও এসএমএস দেওয়া হয়নি। ফলে না জেনেই স্টেশনে এসে বিপাকে পড়ে গিয়েছেন তারা।

একাধিক যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের কোনও এসএমএস দেওয়া হয়নি। ফলে না জেনেই স্টেশনে এসে বিপাকে পড়ে গিয়েছেন তারা।

  • Share this:

#কলকাতা: ট্রেন আগামিকাল। ট্রেন ধরতে আসতে হবে ফারাক্কা বা মালদহ থেকে। তাই রবিবার রাত থেকেই হাওড়া স্টেশনে এসে বসে আছেন হালিম মন্ডল। হালিমের মতই আরও অনেকে যারা আসলে পরিযায়ী শ্রমিক তারা এভাবেই অপেক্ষা করছেন স্টেশনের বাইরে। অনেকে আবার কনফার্ম টিকিট হাতে পেয়ে স্টেশনে এসে জানতে পেরেছেন ট্রেন বাতিল। বাতিল হয়েছে এই এসএমএস পর্যন্ত পাননি। ফলে তারাও অত্যন্ত বিপাকে পড়েছেন।

রাজ্যে পূর্ণ মাত্রায় লকডাউন চলছে। ফলে সোমবার এই রাজ্য থেকে কোনও ট্রেন চলবে না আগেই জানিয়ে দিয়েছিল রেল। যদিও একাধিক যাত্রীদের অভিযোগ তাদের কোনও এসএমএস দেওয়া হয়নি। ফলে না জেনেই স্টেশনে এসে বিপাকে পড়ে গিয়েছেন যাত্রীরা। পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই রাজ্যে ফেরত আসার পরে তারা ফের ভিন রাজ্যে কাজের জন্যে ফিরে যাচ্ছেন। এখন ট্রেনের টিকিট কাটতে হয় আইআরসিটিসি অ্যাপ মারফত।   কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা হচ্ছে না। সংরক্ষিত টিকিট না থাকলে ট্রেনে ওঠা যাবে না। ফলে যারা স্টেশনে এসে জানতে পারলেন তাদের ট্রেন বাতিল হয়েছে ৷ এর ফলে চরম সমস্যায় পড়েন তারা।

ফারাক্কার বাসিন্দা সন্দীপ ঠাকুর। সেকেনদরাবাদে কাজ করতেন। লকডাউনের কারণে ফেরত চলে আসেন। আবার ফেরত যাচ্ছেন সেকেনদরাবাদে। ফারাক্কা থেকে কাজে যোগ দেওয়ার জন্যে তিনি আসেন। হাওড়া স্টেশনে এসে জানতে পারেন ট্রেন বাতিল। তার সাথে ওই এলাকার অনেকেই কাজে যোগ দিতে দক্ষিণ ভারতে যাবেন। ফলে ট্রেন বাতিল নিয়ে হতাশ তারা। সন্দীপন ঠাকুর বলেন, "প্রথমত এমন পরিস্থিতিতে আমার আসার জন টাকা অনেকটাই খরচ হয়ে গেল। আমাকে স্টেশনে ঢুকতে দিচ্ছে না। বাড়ি ফেরার কোনও রাস্তা নেই। স্টেশনেও থাকতে দিচ্ছে না। খাবার, পানীয় জল কিছুই নেই। এবার আমি কি করব?" একই রকম বক্তব্য মালদহের প্রদীপ মালিকের। তিনি কাজের জন্যে যাবেন যোধপুর। তিনি নিজেও একজন পরিযায়ী শ্রমিক। প্রদীপবাবুর অভিযোগ, "৬০০০ টাকা খরচ করে হাওড়া স্টেশন এসেছি অনেক রাতে। ভোরবেলা শুনছি ট্রেন বাতিল। জল, খাবার আমার কিছুই নেই। এই ভাবে সারারাত কাটাতে হবে। কাল আবার বাড়ি ফিরতে হবে৷ যোধপুর যাওয়া হল না। আমাদের টাকা নষ্ট হল।"

এরকমই বহু যাত্রীর অভিযোগ, তাদের কাছে ট্রেন বাতিলের এস এম এস আসেনি। আইআরসিটিসি'র গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার দেবাশীষ চন্দ্র জানিয়েছেন, "সকলের কাছেই এস এম এস যাওয়ার কথা। CRIS মারফত সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ হয়। রেল ট্রেন বাতিল হলে অটোমেটিক এস এম এস পাঠিয়ে দেয়। কেন সেটা হল সেটা দেখতে হবে। মানুষের অসুবিধার জন্য দুঃখিত।" তবে রেল কর্তাদের বক্তব্য, গত কয়েকটা লকডাউন ধরেই এটা চলছে। এনারা কেউ এসএমএস দেখেন না বা লকডাউনে রেল বন্ধ থাকবে সেটা দেখেন না। তবে অন্য ছবিও দেখা গেল, মঙ্গলবার ট্রেন বিজয় মন্ডলের। পান্ডুয়া থেকে তিনি আগেই চলে এসেছেন হাওড়া স্টেশনে। কারণ লকডাউনের জন্যে হাওড়া আসতে পারবেন না। তাই প্রবল অনিশ্চয়তা নিয়েই স্টেশনে এসে বসে আছেন পরিযায়ী শ্রমিক বিজয়ের মতো আরও অনেকেই।

আবীর ঘোষাল

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: