corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে কাজ হারিয়েছে বাবা-মা, সংসার টানতে ক্লাস ছেড়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফল বিক্রি করছে পড়ুয়ারা

লকডাউনে কাজ হারিয়েছে বাবা-মা, সংসার টানতে ক্লাস ছেড়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফল বিক্রি করছে পড়ুয়ারা

লকডাউনের তৃতীয় দফার আগের দিন থেকেই পড়া ছেড়ে এখন সাইকেল চড়ে ফল বিক্রি করছে অভীক। দেব প্রসাদের মা বেসরকারি অফিসে কাজ করতেন। লকডাউনে অফিস বন্ধ।

  • Share this:

#কলকাতা: ক্লান্ত অসাড় শরীর গুলো সাইকেলের প্যাডেল ভাঙতে ভাঙতে সমানে বলে চলে ফল চাই, ফল। তরমুজ,  মুসুম্বি, বেদানা ফল। লকডাউনে সল্টলেকের রাস্তায় কান পাতলেই শোনা যায়,  ফল চাই,  ফল... টাটকা টাটকা সতেজ ফল। মাঝদুপুরের নিস্তব্ধতায় ওদের হাঁকে কেউ সাড়া কেউ দেয় না। তবু ওরা হেঁকে চলে। সূর্য ডোবার আগে ঝুড়ি ফাঁকা করতে হবে যে । তা না হলেই তো লোকসান!  ফল শুকিয়ে যাবে, নষ্টও হয়ে যেতে পারে। লাভ তো হবেই না উল্টে ডাঁহা লোকসান।

৩ বিক্রেতা থুড়ি পড়ুয়া তাই হেঁকেই চলে। সল্টলেক, নিউটাউনে এই পড়ুয়াদের এখন প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে। অভীক, গোলু, দেব তিন জনেরই বাড়ি সল্টলেক দত্তাবাদে।অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে অভীক পাল বাগমারি স্কুলের ছাত্র।গোলু কুমার নবম শ্রেণির পড়ুয়া। তাঁর স্কুল কাঁকুড়গাছি নিউ ন্যাশানাল স্কুল। দেব প্রসাদ সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া। দেব ও গোলু একই স্কুলের ছাত্র। অভাব নিত্য সঙ্গী হলেও কখনও ক্লাস ছেড়ে পথে নামতে হয়নি।

লকডাউনে ওদের পরিবারের আয় বন্ধ। তাই ওরা ফল ফেরি করে পরিবারের ভার কিছুটা লাঘব করতে পথে। অভীকের বাবা মাছ বিক্রির কাজ করত বাজারে। সেই বাজারও বন্ধ। বাবার আয়ও হঠাৎ তলানিতে ঠেকেছে। বাবা,মা, দাদু, ঠাকুমা রয়েছে পরিবারে। স্কুল বন্ধ। অনলাইনে টুকটাক ক্লাস। পড়াশোনা আপাতত শিকেয়। রাত ২ঃ৩০ টা নাগাদ সাইকেলে ঝাঁকা বেঁধে রওনা হয় শিয়ালদহ। পাইকারি হারে ফল কিনে সকাল ৬টার মধ্যে ফিরে আসা। এরপর পান্তা ভাত খেয়ে সকাল ৬ঃ৩০ টা নাগাদ অভীক সাইকেলে ফল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। সরাদিন ঘুরে তরমুজ সব বিক্রি করতে পারলে আসে ৫০০-৬০০ টাকা। ১৫০-২০০ টাকা লাভ।

লকডাউনের তৃতীয় দফার আগের দিন থেকেই পড়া ছেড়ে এখন সাইকেল চড়ে ফল বিক্রি করছে অভীক। দেব প্রসাদের মা বেসরকারি অফিসে কাজ করতেন। লকডাউনে অফিস বন্ধ। মায়ের আয় চলে যাওয়ায়  পরিবারকে বাঁচাতে তাঁর বেদানা বিক্রি করা। গোলুর সামনের বছর মাধ্যমিক দেওয়ার কথা। বাবার ছোটো ব্যবসা লকডাউনে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই তাকে এই ছোট হাতে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। সাইকেলে মুসুম্বি লেবু নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছে বিক্রি করতে। সকলেরই চোখেমুখে চূড়ান্ত ক্লান্তির ছাপ। করোনা রাতারাতি অনিশ্চিত করে দিয়েছে পরিবার গুলির ভবিষ্যৎ। বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছে শক্তির ডানায় ভর করে তাই ওরা রাস্তায়। ভেঙে চলে সাইকেলের প্যাডেল।জীবনের প্যাডেল।

Arnab Hazra

Published by: Bangla Editor
First published: May 10, 2020, 10:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर