corona virus btn
corona virus btn
Loading

বিমা নেই, বাড়ছে ঝুঁকি ! লকডাউনে তাই শহরে কমতে পারে ট্যাক্সি

বিমা নেই, বাড়ছে ঝুঁকি ! লকডাউনে তাই শহরে কমতে পারে ট্যাক্সি
Representational Image

এই পরিস্থিতির জন্য বৃহস্পতিবার থেকে শহরের রাস্তায় যে সংখ্যক ট্যাক্সি চলছিল তার অধিকাংশ নামবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Share this:

#কলকতা: মাত্র ১০ দিন। লকডাউনের মধ্যে শহরে ট্যাক্সি চলাচল শুরু হয়। কিন্তু দু-সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যেই ট্যাক্সি চালাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে বেঙ্গল ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন। এই ট্যাক্সি সংগঠনের বেশ কিছু ট্যাক্সি প্রতিদিন রাস্তায় নামছে। শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রধানত  ৫টি জায়গায় এই ট্যাক্সি পাওয়া যাচ্ছে। বেঙ্গল ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভাপতি বিমল গুহ জানান, "বিভিন্ন লোকেদের নিয়ে আমরা যাতায়াত করি। কিন্তু আমাদের কোনও বিমা নেই। আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য আমরা কাজ করে দিচ্ছি, অথচ আমাদের বিপদের সম্মুখীন হতে হলেও বিমা নেই। তাই আমাদের চালকরা গাড়ি চালাতে চাইছেন না।"

ফলে এই পরিস্থিতির জন্য বৃহস্পতিবার থেকে শহরের রাস্তায় যে সংখ্যক ট্যাক্সি চলছিল তার অধিকাংশ নামবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ১২ এপ্রিল থেকে কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে শহরে চালু হয়েছিল এই ট্যাক্সি পরিষেবা। লকডাউনের সময় জরুরি পরিষেবার জন্য ট্যাক্সি দিতে প্রস্তুত ছিল রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ট্যাক্সি সংগঠন বিটিএ। ১২ এপ্রিল রবিবার সকাল থেকেই কলকাতা শহরের রাস্তায় দেখা মিলছিল এই ট্যাক্সির। আপাতত ঠিক হয়েছে শহরের ৫ পয়েন্ট থেকে মিলবে এই ট্যাক্সি। উত্তরের হাডকো মোড় ও শ্যামবাজার। দক্ষিণের বেহালা চৌরাস্তা ও গড়িয়া। মধ্য কলকাতার এক্সাইড মোড় থেকে পাওয়া যাবে এই ট্যাক্সি। কলকাতা পুলিশের বিশেষ কন্ট্রোল রুমে ১০৭৩ নম্বরে ফোন করে জরুরি পরিষেবার জন্য বুকিং করতে পারা যাবে এই ট্যাক্সিগুলি।

এর পাশাপাশি যদি মানুষের জরুরি পরিষেবায় শহর থেকে শহরতলি বা অন্যত্র যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি প্রয়োজন হয় তার জন্যে ট্যাক্সি দেবে বিটিএ। তাদের অফিসের জন্য দুটি জরুরি পরিষেবার জন্য নাম্বার ঠিক করা হয়েছিল। নম্বর দুটি হল ৯৮৩১৩৩৪৮২৪ ও ৯৩৩৯০৫৩৬০৫...ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য এই দুই নম্বরে ফোন করলেই মিলবে গাড়ি। তবে কেন, কোন জরুরি কাজের জন্য তিনি ট্যাক্সি ভাড়া নিচ্ছেন, তা জানাতে হবে। যদি মনে হয় সত্যিই জরুরি কাজে ট্যাক্সি নিচ্ছেন তাহলেই ট্যাক্সি দেওয়া হবে। বিটিএ'র সম্পাদক বিমল গুহ জানান, "আমরা রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণ সাহায্য করতে চাই। সরকারি উদ্যোগে ট্যাক্সি চলছে। তার পরেও প্রয়োজন হলে আমরা পুলিশের থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়ে গাড়ি দিতে পারি।" তবে যে সব ট্যাক্সি রাস্তায় নামবে তাদের সবকটি ট্যাক্সি যথাযথ স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। ভবানীপুর এলাকার পদ্মপুকুরের গ্যারেজে থাকছে এই ট্যাক্সিগুলি। সেগুলিকে রাস্তায় নামানোর আগে পুরোপুরি স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। চালকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি যাত্রীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট দেখে নিতে চাইছেন ট্যাক্সি চালকরা। এছাড়া গ্লাভস, মাস্ক ও স্যানিটাইজার থাকছে গাড়িগুলিতে। অনলাইন ক্যাব অপারেটর গিল্ড ইতিমধ্যেই রাজ্য পরিবহন দফতরের কাছে ২০০ ট্যাক্সি বা ক্যাবের তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছে। আগামীদিনে প্রয়োজন হলে এই সমস্ত গাড়িও ব্যবহার হবে।

এই গাড়িগুলি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নিয়ে ডেটাবেস তৈরি করে ফেলেছে রাজ্য পরিবহন দফতর। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "আমাদের সবকটি গাড়ি সারাবছর পরিষ্কার থাকে। গাড়িগুলি জীবাণুনাশক করা আছে। ফলে এই সব গাড়ি ব্যবহারের যোগ্য।" তবে বিমার প্রশ্নে এই সব গাড়িগুলির চালক যারা রয়েছেন তাদের নিয়ে এবার ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিয়েছে সংগঠনগুলি। তবে এখন লকডাউনের মাঝেই যদি সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে পরিষেবা কিভাবে দেওয়া হবে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

Abir Ghoshal

First published: April 23, 2020, 3:01 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर