corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাস আছে, যাত্রী নেই... করোনার জেরে বিপুল লোকশানের মুখে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা

বাস আছে, যাত্রী নেই... করোনার জেরে বিপুল লোকশানের মুখে  উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা

করোনার জেরে তাই লোকসানে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা।

  • Share this:

#কলকাতাঃ করোনার জের, তেলের খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা। দুরপাল্লার বাসে যাত্রী সংখ্যা কোথাও ১৪, তো কোথাও আবার মাত্র ৬। এই মরসুমেও শিলিগুড়ি এসি  রকেট বাসের যাত্রী সংখ্যা শুন্য। বাস চালানো এই অবস্থায় আদৌ লাভজনক কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রাজ্য পরিবহন দফতর।

মাধ্যমিক শেষ, উচ্চমাধ্যমিক শেষ হবে কিছুদিনের মধ্যেই। এই মরসুমে কলকাতা থেকে উত্তরের বাসের টিকিট পাওয়া একেবারে ভাগ্যের ব্যাপার। যদিও করোনার জেরে ঠিক তার বিপরীত ছবি ধরা পড়ছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার এসপ্ল্যানেড ডিপোতে। সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত যে ডিপো জমজমাট থাকে। সেই ডিপো একেবারে ফাঁকা। কাউন্টারে সংস্থার প্রতিনিধি আছেন, কিন্তু টিকিট কেনার কেউ নেই। বারবার মাইকে হাঁক দিয়েও দেখা মিলছে না যাত্রীদের। বরঞ্চ বাজছে ফোন।ফোনের ওপাশ থেকে বার বার প্রশ্ন আসছে কিভাবে অনলাইনে কাটা টিকিট ক্যানসেল করা যাবে? ফলে মন খারাপ এসপ্ল্যানেডের বিখ্যাত হ্যাপি জোন উত্তরবঙ্গ বাস ডিপোর। এই ডিপো থেকে ছেড়ে যায় মালদা, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের বাস। এখানে আসলে মিলবে কালিম্পং বা জলপাইগুড়ি স্পেশ্যাল বাসের। এছাড়া মেলে কান্দি যাওয়ার এসি ভলভো। যদিও বাস আছে, চালক, কন্ডাক্টর আছেন। নেই শুধু যাত্রী। আর যে ক'জন কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দো আনা আছেন তারাও না যেতে পারলে খুশি হতেন এমন মনোভাব নিয়েই উঠছেন বাসে।

সংস্থার আধিকারিক অনিল অধিকারী বলেন, "মোট ৩৮টি বাস চলে এখান থেকে। এই সময়ে আমাদের কথা বলার ফুরসত থাকে না। আর এখন মাছি তাড়াচ্ছি। যে বা যারা অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন তাঁরা টিকিট বাতিল করে দিচ্ছেন।" একটু পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বাসের বাণিজ্যিক চিত্র। কলকাতা থেকে মালদা। এই পথে বাস চালাতে এক ট্রিপে তেল লাগে ৮৪ লিটার। তেলের জন্য খরচ হয় ৫২০৮ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে মাত্র ৬ জন। টিকিট বিক্রি করে মিলছে ১৬৮০ টাকা। কলকাতা থেকে রায়গঞ্জ। এই পথে এক ট্রিপে রকেট বাস চালাতে তেল প্রয়োজন ১০৩ লিটার। তেলের জন্য খরচ হয় ৬৩৮৬ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে ২ জন। টিকিট বিক্রি বাবদ মিলছে ৬৮২ টাকা। কলকাতা থেকে বালুরঘাট। এই পথে বাসে যেতে এক ট্রিপে প্রয়োজন ১২৪ লিটার তেল। তেলের দাম বাবদ খরচ ৭৬৮৮ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে ১০ জন। টিকিট বিক্রি করে মিলেছে ৩৬৭০ টাকা। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি নন এসি রকেট বাস। এক ট্রিপে তেল প্রয়োজন ১৫০ লিটার। তেলের দাম বাবদ খরচ ৯৩০০ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে আট জন। টিকিট বিক্রি করে মিলছে ৪০০০ টাকা। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি এসি ভলভো বাস। এই বাস চালাতে তেল লাগে ২৩৫ লিটার। তেলের জন্য খরচ হচ্ছে ১৪৫৭০ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে ৬ জন। টিকিট বিক্রি করে মিলেছে ৫৭৬০ টাকা। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি এসি রকেট বাসের। যার জন্য তেল লাগে ৯৭৩৪ টাকা। কিন্তু কোনও যাত্রী নেই।

কলকাতা থেকে কোচবিহার বাস। এই পথে এক ট্রিপে বাস চালাতে প্রয়োজন ২০০ লিটার তেল। তেল বাবদ খরচ ১২৪০০ টাকা। যাত্রী হচ্ছে ১২ জন। টিকিট বিক্রি বাবদ মিলছে ৪ ৬০০ টাকা।আর কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ার বাস। এই পথে বাস চালাতে প্রয়োজন ১৯৭ লিটার তেল। তেলের খরচ ১১৫৯৪ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে ১৪ জন। টিকিট বাবদ মিলছে ৬৩০০ টাকা।হিসেব বলছে বাস চালাতে গিয়ে তেলের খরচ উঠছে না। ফলে ফাঁকা বাস নিয়েই দৌড়তে হচ্ছে। কিন্তু কতদিন এভাবে ক্ষতি নিয়ে বাস চলবে? উত্তর পেতে আরও দু'দিন দেখতে চায় সংস্থা। করোনার জেরে তাই লোকসানে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা।

ABIR GHOSHAL

Published by: Shubhagata Dey
First published: March 19, 2020, 3:09 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर