নেই ছুটি, এমনকি টয়লেটে যাওয়ার অবসর! কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপটে ক্লান্ত নার্সের ছবি ভাইরাল নেটদুনিয়ায়!

নেই ছুটি, এমনকি টয়লেটে যাওয়ার অবসর! কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপটে ক্লান্ত নার্সের ছবি ভাইরাল নেটদুনিয়ায়!

নেই ছুটি, এমনকি টয়লেটে যাওয়ার অবসর; কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপটে ক্লান্ত নার্সের ছবি ভাইরাল নেটদুনিয়ায়!

চিকিৎসক থেকে নার্স, তাঁদের নিত্যদিনের মানসিক ও শারীরিক কষ্ট বেশিরভাগ সময়েই আমাদের চোখে পড়ে না।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বিশ্ব জুড়ে করোনার দাপট অব্যাহত এখনও। যাঁরা যাঁরা স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা অনেক রকমের চাপ সহ্য করেছেন। তাঁদেরকে আমরা কোভিড যোদ্ধা হিসেবে সম্মানিত করেছি। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা আমাদের সুরক্ষিত রেখেছেন। কিন্তু চিকিৎসক থেকে নার্স, তাঁদের নিত্যদিনের মানসিক ও শারীরিক কষ্ট বেশিরভাগ সময়েই আমাদের চোখে পড়ে না। দিনরাত পিপিই কিট পরে থাকতে থাকতে এবার তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

সম্প্রতি এরকমই একটি মন খারাপ করে দেওয়া পোস্ট সামনে এসেছে। মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত এক পেশাদার কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি চিকিৎসক ও নার্সদের দুর্দশা তুলে ধরেছেন। বন্দনা মহাজন নামের এই মানসিক পরিচর্যার পেশাদার হাসপাতালে থাকাকালীন নার্স ও ডাক্তারদের সঙ্গে বেশ খানিকটা সময় আলাপচারিতায় কাটিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি Twitter-এ একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে পিপিই স্যুট পরা এক স্বাস্থ্যকর্মী বিশ্রাম নিচ্ছেন।

একই পোস্টে, মহাজন জানিয়েছিলেন যে একজন নার্সের সঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন। এই নার্স কোভিড -১৯ শুরু হওয়ার পর থেকে অবিরাম কাজ করে গিয়েছেন। প্রথমদিকে এই নার্স একটি হস্টেলে থাকতেন আর তাঁর দুই ছেলে এক আত্মীয়র সঙ্গে থাকত। এই সেবিকার স্বামী থাকেন গালফে। ফলে এখন দুই ছেলের লেখাপড়া দেখার জন্য এখন তাঁকে দেশে ফিরতে হবে। যেহেতু তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কোভিড রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন তাই এই নার্স প্রাণপণ চেষ্টা করছেন যাতে তাঁর কোনও সংক্রমণ না হয়, কারণ না হলে তাঁর পরিবারের ক্ষতি হবে।

অপর এক জন নার্স বন্দনাকে জানিয়েছিলেন যে কোভিড রোগীর তিনি সিপিআর করেছিলেন আগের রাত্রে, পরের দিন সে মারা যায়। এইরকম ঘটনা সেবাকর্মীদের মনের উপরে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বন্দনা বলেছেন যে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া থেকে শুরু করে সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে এই ভাইরাস এক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন নার্স জানিয়েছেন তাঁদের শরীরের জৈব ঘড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ কারোরই খাওয়া বা শোয়ার কোনও সঠিক সময় নেই এখন। তাঁদের পেটের সমস্যা দেখা দিয়েছে, দেখা দিয়েছে মুখের ঘা। কারও ঋতুস্রাব হলে প্যাড পাল্টানো এক অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন্দনার এই পোস্ট মন ছুঁয়ে গিয়েছে অনেকেরই। নার্স, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা ভেবে সবাই তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন।

Published by:Simli Raha
First published: