corona virus btn
corona virus btn
Loading

নেই যোগান, আসছে না ক্রেতাও, জীবন চালাতে সঙ্কটের মুখে যে রাস্তা বেছে নিচ্ছেন ফুল ব্যবসায়ীরা

নেই যোগান, আসছে না ক্রেতাও, জীবন চালাতে সঙ্কটের মুখে যে রাস্তা বেছে নিচ্ছেন ফুল ব্যবসায়ীরা

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ফুল বিক্রেতা বলেন, 'আগে শববাহী গাড়ির জন্য লোকে ফুল নিয়ে যেত। এখন করোনায় মৃত্যু হলে সে সুযোগও নেই। আমাদের অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ।'

  • Share this:

#কলকাতা: শুকিয়ে যাচ্ছে গোলাপ, লিলি; ফিকে রজনীগন্ধায় কোনও গন্ধ নেই; একই অবস্থা অর্কিড, কারনেশনেরও। ফুলের দোকানের মৌমাছি গুলোও কেমন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। লকডাউন উঠে আনলক 1.0 শুরু হলেও ফুল বিক্রেতার চরম সংকটে এখনও। না আছে যোগান না আছে বিক্রি। যাও বা কিছু আসছে, তার দাম এতেই চড়া, যে মুখ ফেরাচ্ছে ক্রেতারা।

লকডাউনের শুরু থেকেই বাজার হাট খোলা থাকছিল শহরে। কোভিড প্রোটোকল মেনে চলছিল ক্রেতা বিক্রেতা উভয় পক্ষই। একই সঙ্গে সে সব মেনেই খোলা থাকছিল বাজারের সঙ্গে থাকা ফুলের দোকান গুলো। কিন্তু দেশ জুড়ে লকডাউনের শুরু হতেই চরম সংকটের মধ্যে পড়ে ফুল ব্যবসায়ীরা। প্রথম সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ফুলের যোগানোর অভাব। আর দ্বিতীয় সমস্যা হয়ে, যাও বা কিছু ফুল স্থানীয় ভাবে আসছিল তা  এত দামে বিক্রি করতে হচ্ছে যে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ক্রেতারা।

কলকাতার দোকান গুলোতে মূলত ফুল যায় মল্লিকা ঘাট ফুল বাজার থেকে। যার যোগান আসে হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ 24পরগনা এবং কিছুটা নদীয়া জেলা থেকে। কিন্তু লকডাউনের জেরে লোকাল ট্রেন না চলার কারণে এইসব জেলা থেকে ফুলের যোগানে ব্যাঘাত ঘটে। একই সঙ্গে গোলাপ, লিলি, কারনেশনের মতো ফুল গুলো আসে বাইরে থেকে বিমানে। করোনার জেরে বিমান পরিষেবাও বন্ধ। ফুলের যোগান আগে থেকেই কম ছিল। তার ওপর আমফানের জন্য ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফুল চাষের। ফলে বাজারে ফুলের যোগান অনেক কমে যায়। যার জেরে যেটুকু ফুল আছে তারও দাম আকাশছোঁয়া। যে রজনীগন্ধা দাম 70 টাকা ডজন ছিল এখন তা 100 ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির আগে একটি  গোলাপের দাম ছিল কমবেশি 15 টাকা এখন তা 25 টাকা। 80 টাকার একটা লিলি এখন 100 টাকা। কুড়ি পিস অর্কিডের দাম লকডাউনের আগে ছিল 150 টাকা, এখন বেড়ে হয়েছে 400 টাকা। বাঙ্গালোর থেকে আসা কারনেশনের আগে এক পিসের দাম ছিল 20 টাকা এখন 30 টাকা।

স্বাভাবিকভাবেই এত দামের জন্য মুখ ফিরিয়েছেন রোজকার ক্রেতারাও। লেক মার্কেটের ফুল ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, 'আমাদের এখন প্রায় কোনও বিক্রি নেই। পয়লা বৈশাখ দিয়ে আমাদের সিজন শুরু হয়। এই সময় অনেক বিয়ে বাড়ি থাকে। এক এক দিন দশটা বিয়ে বাড়ির  অর্ডার পেয়ে থাকি। গতবছর  দিনে দেড় লাখ টাকার ফুল বিয়ে বাড়িতে যোগান দিয়েছে। কিন্তু এবার দেড় হাজার টাকারও ফুল যাচ্ছে না কোনও বিয়ে বাড়িতে। এখন নিত্য পূজা ফুলমালা আমাদের ভরসা।'

দক্ষিণ ভারত থেকে বিমানে ফুল নিয়ে এসে কলকাতায় হোলসেল ব্যবসা করেন গোপাল প্রসাদ। তিনি বলেন, 'লকডাউনের জন্য যোগান পুরোপুরি বন্ধ। যতদিন বিমান পরিবহন ব্যবস্থা ঠিক না হচ্ছে ততদিন ফুলের দাম এই রকমই থাকবে।' নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ফুল বিক্রেতা বলেন, 'আগে শববাহী গাড়ির জন্য লোকে ফুল নিয়ে যেত। এখন করোনায় মৃত্যু হলে সে সুযোগও নেই। আমাদের অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ।'

Soujan Mondal

Published by: Elina Datta
First published: June 7, 2020, 10:02 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर