corona virus btn
corona virus btn
Loading

বিয়ে হয়েছে সদ্য, কিন্তু সব ভুলে দিন-রাত এক করে করোনা মোকাবিলায় বেলেঘাটা আইডিতে সিভিক ভলেন্টিয়ার

বিয়ে হয়েছে সদ্য, কিন্তু সব ভুলে দিন-রাত এক করে করোনা মোকাবিলায় বেলেঘাটা আইডিতে সিভিক ভলেন্টিয়ার

এই কঠিন অস্থির সময়েও কিছু মানুষ জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • Share this:

#কলকাতা: গোটা বিশ্ব জুড়ে যখন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আরও থাবা বসাচ্ছে, প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ভারত বা পশ্চিমবঙ্গ তার ব্যতিক্রম নয়। আতঙ্ক প্রতিমুহূর্তে আরও বেশি করে চেপে বসছে ৷ তবু এই কঠিন অস্থির সময়েও কিছু মানুষ জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

সদ্য দু’ মাস হল বিয়ে হয়েছে। বিবাহিত জীবনের গন্ধ নিয়েই ডিউটি পড়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। সংসার প্রতিপালনের জন্য সিভিক ভলেন্টিয়ার এর চাকরি। কত টাকাই বা আর মাইনে, তবুও সেটাই বেলেঘাটার ২৬ বছর বয়সের জয়িতা নাথের কাছে অনেক। দু’বছর হল চাকরিতে ঢুকেছেন। উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের কাছে অনেক অপমানিত হতে হয়েছে। তবুও গত একমাস তার জীবনের এক ঐতিহাসিক সময়। সবকিছু ভুলে গিয়ে সদ্যবিবাহিত স্বামীকে প্রায় চোখে না দেখতে পেয়েও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়ে থাকতে হচ্ছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।

হাসপাতালে আসা প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীকে সামলানো, বোঝানো, সচেতনতার বার্তা দেওয়া এখন জয়ীতার প্রতিদিনের অবশ্যপালনীয় ডিউটি। হাসিমুখে সেই কাজই করে চলেছেন জয়িতা। স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং অবশ্যই নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য কিছুটা চিন্তা হয় তার। তবু কর্তব্যে অবিচল জয়িতা। সস্তার সার্জিক্যাল মাস্ক মুখে লাগিয়েই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে সদ্যবিবাহিতা এই তরুণী।প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস ঠেকাতে তাঁর অবদান কী কেউ মনে রাখবে?

বেলেঘাটায় বাড়ি ৩২ বছর বয়সী বিদিশা দাসের গল্পটাও আলাদা কিছু নয়। বছর পাঁচেক হল সিভিক ভলেন্টিয়ার এর চাকরি জোটানো পর সংসারে কিছুটা শ্রী ফিরেছে। গত এক বছর ধরে ডিউটি বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালেই। আর শেষ দু’মাস হল ডিউটি জরুরি বিভাগে। করোনার প্রাবল্য বাড়ার পর থেকেই প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ আসতে থাকছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। তাদের সামলানোর কাজ বিদিশার। অনেক চেষ্টার পর সদ্য দু’মাস আগে সন্তান হয়েছে। সেই সন্তানের মুখও ভালো করে দেখতে পারছে না বিদিশা। দিনের বেশির ভাগ সময়ই তো থাকতে হচ্ছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় অক্লান্ত সৈনিক বিদিশা।

গল্প হলেও সত্যি। জয়িতা বা বিদিশা, একা নয়, আরও অনেকেই তাদের মতো নীরবে প্রচারের অলক্ষ্যে প্রতিদিন প্রতি রাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো কিছুর প্রত্যাশা না করে, আরও বহু মানুষ যাতে সুস্থ,ভাল থাকতে পারে,তার জন্যই তাদের যুদ্ধ চলছে। আমি,আপনি যাতে নিশ্চিন্তে ঘরে থাকতে পারি,তার জন্যই এরা রাস্তায় নেমে প্রতিমুহূর্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিহাস হয়তো এদের কাউকেই মনে রাখবে না,তবুও এরাই আমাদের সত্যিকারের করোনা হিরো।

Abhijit Chanda

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: March 27, 2020, 3:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर