করোনার জেরে যাত্রী নেই, বাস চালিয়ে উঠছে না তেলের খরচও, বন্ধ হল ১৪টি বাস

করোনার জেরে যাত্রী নেই, বাস চালিয়ে উঠছে না তেলের খরচও, বন্ধ হল ১৪টি বাস

করোনার জের, তেলের খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা

  • Share this:

#কলকাতা: করোনার জের, তেলের খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা। যাত্রী না হওয়ার কারণে আপাতত বন্ধ রাখা হল ১৪টি বাস। শিলিগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, ইসলামপুর ও কান্দি'র মধ্যে যাতায়াত করে এমন বাস বন্ধ রাখা হল। শিলিগুড়িগামী এসি রকেট ও এসি ভলভো বাসে একদমই যাত্রী না হওয়ায় সেই বাস বন্ধ করে দেওয়া হল। যে কটি বাস চালানো হচ্ছে তাতেও পুরো বাস ভরছে না। যাত্রী না হওয়ার কারণে এই বাসগুলিও কতদিন চালানো যাবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে এন বি এস টি সি।

দূরপাল্লার বাসে যাত্রী সংখ্যা কোথাও ১৪, তো কোথাও আবার মাত্র ৬ জন। এই মরসুমেও শিলিগুড়ি এসি  রকেট বাসের যাত্রী সংখ্যা শুন্য। বাস চালানো এই অবস্থায় আদৌ লাভজনক কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রাজ্য পরিবহন দফতর। করোনার জেরে ফাঁকা বাস ও বাস ডিপোর ছবি ধরা পড়ছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বিভিন্ন ডিপোতে। সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত যে-ডিপো জমজমাট থাকে, সেই ডিপো একেবারে ফাঁকা পড়ে আছে। কাউন্টারে সংস্থার ব্যক্তি আছেন, কিন্তু টিকিট কেনার কেউ নেই। বারবার মাইকে হাঁক দিয়েও দেখা মিলছে না যাত্রীদের। বরং বাজছে ফোন। কীভাবে অনলাইনে কাটা টিকিট ক্যানসেল করা যাবে তা নিয়েই নানা প্রশ্ন।

কলকাতা ডিপো থেকে ছেড়ে যায় মালদহ, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের বাস। এছাড়া কান্দি যাওয়ার এসি ভলভো পর্যন্ত পাওয়া যায়। যদিও বাস আছে, চালক, কন্ডাক্টর আছেন। নেই শুধু যাত্রী। আর যে ক'জন যাত্রী আছেন তাঁরাও না যেতে পারলে খুশি হতেন, ভয় নিয়েই যাত্রীরা উঠছেন বাসে। সংস্থার আধিকারিক অনিল অধিকারী বলেন, 'মোট ৩৮টি বাস চলে এখান থেকে। আমরা ১৪টি বাস চালানো আপাতত বন্ধ করে দিলাম। কোনও যাত্রী হচ্ছে না। একই রুটে তিনটি বাস যেখানে চলত, সেখানে আমরা একটা বাস চালাচ্ছি। এই সময়ে আমাদের কথা বলার ফুরসত থাকেনা। আর এখন দেখুন, যে বা যারা অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন তারা টিকিট বাতিল করে দিচ্ছেন।'

একটু পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বাসের বাণিজ্যিক চিত্র। কলকাতা থেকে মালদহ। এই পথে বাস চালাতে এক ট্রিপে তেল লাগে ৮৪ লিটার। তেলের জন্য খরচ হয় ৫২০৮ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে মাত্র ৬ জন। টিকিট বিক্রি করে মিলছে ১৬৮০ টাকা। কলকাতা থেকে রায়গঞ্জ। এই পথে এক ট্রিপে রকেট বাস চালাতে তেল প্রয়োজন ১০৩ লিটার। তেলের জন্য খরচ হয় ৬৩৮৬ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে ২ জন। টিকিট বিক্রি বাবদ মিলছে ৬৮২ টাকা। কলকাতা থেকে বালুরঘাট। এই পথে বাসে যেতে এক ট্রিপে প্রয়োজন ১২৪ লিটার তেল। তেলের দাম বাবদ খরচ ৭৬৮৮ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে ১০ জন। টিকিট বিক্রি করে মিলেছে ৩৬৭০ টাকা।কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি নন এসি রকেট বাস। এক ট্রিপে তেল প্রয়োজন ১৫০ লিটার। তেলের দাম বাবদ খরচ ৯৩০০ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে আট জন। টিকিট বিক্রি করে মিলছে ৪০০০ টাকা। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি এসি ভলভো বাস। এই বাস চালাতে তেল লাগে ২৩৫ লিটার। তেলের জন্য খরচ হচ্ছে ১৪৫৭০ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে ৬ জন। টিকিট বিক্রি করে মিলেছে ৫৭৬০ টাকা। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি এসি রকেট বাসের। যার জন্য তেল লাগে ৯৭৩৪ টাকা। কিন্তু কোনও যাত্রী নেই। কলকাতা থেকে কোচবিহার বাস। এই পথে এক ট্রিপে বাস চালাতে প্রয়োজন ২০০ লিটার তেল। তেল বাবদ খরচ ১২৪০০ টাকা। যাত্রী হচ্ছে ১২ জন। টিকিট বিক্রি বাবদ মিলছে ৪৬০০ টাকা।আর কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ার বাস। এই পথে বাস চালাতে প্রয়োজন ১৯৭ লিটার তেল। তেলের খরচ ১১৫৯৪ টাকা। গড়ে যাত্রী হচ্ছে ১৪ জন। টিকিট বাবদ মিলছে ৬৩০০ টাকা।

হিসেব বলছে বাস চালাতে গিয়ে তেলের খরচ উঠছে না। ফলে ফাঁকা বাস নিয়েই দৌড়তে হচ্ছে। কিন্তু কতদিন এভাবে ক্ষতি নিয়ে বাস চলবে? উত্তর পেতে আরও দু'দিন দেখতে চায় সংস্থা। করোনার জেরে তাই লোকসানে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা। একই অবস্থা দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার। তারা ঘন ঘন আসানসোল, দীঘা, বাঁকুড়ার বাস চালায়। এই সব রুটেও যত যাত্রী হয় তা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশে। চিন্তাভাবনা চলছে সোমবার থেকে সেই বাসের সংখ্যাও কমানোর।

ABIR GHOSHAL

First published: March 21, 2020, 12:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर